আমেরিকার ভোটের প্রভাব বিশ্ববাজারে! ৩ লক্ষ কোটি ডলার উধাও, শেয়ার বাজারে মহাধস

ওয়াশিংটন: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়াল আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে। ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI শিল্পে নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে, এমন…
ওয়াশিংটন: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়াল আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে। ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI শিল্পে নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কাতেই প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। তার জেরে বড়সড় পতন হয়েছে মার্কিন শেয়ার বাজারে। এক ধাক্কায় বাজার থেকে মুছে গিয়েছে ৩ লক্ষ কোটি ডলারেরও বেশি বাজারমূল্য। একই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারগুলিতেও।
বৃহস্পতিবারের লেনদেনের শেষে আমেরিকার প্রধান তিনটি সূচকেই বড় পতন দেখা যায়। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১,৮০০ পয়েন্টেরও বেশি নেমেছে। নাসডাকের পতন ১,৪০০ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ৩০০ পয়েন্টেরও বেশি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বাজারে যে উত্থান দেখা গিয়েছিল, সাম্প্রতিক পতনে তার বড় অংশই মুছে গিয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, আমেরিকায় রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে AI সংস্থাগুলির উপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হতে পারে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণ, বিদ্যুতের ব্যবহার, প্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতা এবং কম্পিউটিং পরিকাঠামোর মালিকানা নিয়ে নতুন বিধিনিষেধ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই আশঙ্কায় প্রযুক্তি ও চিপ নির্মাতা সংস্থাগুলির শেয়ার থেকে বিনিয়োগ সরাতে শুরু করেছেন অনেকে।
এশিয়ার বাজারেও তার প্রভাব স্পষ্ট। দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বড় ধস নামে। বেঞ্চমার্ক কোস্পি সূচক ৮.৫ শতাংশ পড়ে ৫,০০০ পয়েন্টের নিচে চলে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখতে হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা সংস্থাগুলির শেয়ারেও ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা যায়।
এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে C-DEP-এর প্রেসিডেন্ট জয়জিৎ ভট্টাচার্য Times Now Digital-কে জানান, AI শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগই বিশ্ববাজারের পতনের অন্যতম কারণ। তাঁর মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় হলে মার্কিন কংগ্রেসের তরফে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর নজরদারি বাড়তে পারে। AI পরিচালনা, ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ খরচ এবং বাজারে প্রতিযোগিতার নিয়ম আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, AI শিল্পে বিপুল বিনিয়োগের পিছনে দ্রুত বাণিজ্যিক সাফল্য এবং ভবিষ্যতে বেশি মুনাফার প্রত্যাশা কাজ করেছে। কিন্তু নতুন নিয়ম, বাড়তি খরচ কিংবা পরিকাঠামো সম্প্রসারণে বাধা তৈরি হলে সংস্থাগুলির আর্থিক মূল্যায়ন নতুন করে পর্যালোচনা করতে পারেন বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি AI সংস্থাগুলির শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্যায়ন এবং বিপুল মূলধনী বিনিয়োগের অনুপাতে কতটা মুনাফা আসবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে অবশ্য এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকির পাশাপাশি সুযোগও দেখছেন জয়জিৎ ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার প্রযুক্তি শেয়ারে দীর্ঘস্থায়ী পতন হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রবাহ এবং বাজারের মনোভাব প্রভাবিত হতে পারে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি AI পরিকাঠামো ও বিনিয়োগের জন্য বিকল্প দেশ খুঁজতে পারে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভারতের নিজস্ব কম্পিউটিং ক্ষমতা, ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো এবং AI গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
ট্রাম্পের ধাক্কায় তেলের দামে পতন, ভারতীয় শেয়ার বাজারে বিস্ফোরক উত্থান!
বাংলার শিল্পে নয়া দিগন্ত! মেখলিগঞ্জে জেলার দ্বিতীয় শিল্প কেন্দ্র