ধ*র্ষ*ণ ও পকসো মামলায় দ্রুত বিচার! ২০৩১ পর্যন্ত বাড়ল বিশেষ আদালতের মেয়াদ!

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকার ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্টস স্কিমের মেয়াদ আরও (Fast Track Courts)পাঁচ বছর বাড়িয়েছে। ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত এই প্রকল্প চলবে। সারা দেশে ৮৫০টি…
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকার ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্টস স্কিমের মেয়াদ আরও (Fast Track Courts)পাঁচ বছর বাড়িয়েছে। ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত এই প্রকল্প চলবে। সারা দেশে ৮৫০টি বিশেষ আদালত চালু রাখা হবে এবং এর জন্য মোট ৩ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ধর্ষণ ও পকসো মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই কেন্দ্রীয় স্পনসরড স্কিম ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সাফল্য দেখিয়েছে। বর্তমানে দেশে ৭৭৯টি ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট কাজ করছে, যার মধ্যে ৩৯৯টি একচেটিয়া পকসো আদালত। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই আদালতগুলোতে চার লাখেরও বেশি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এবার এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০টিতে নিয়ে যাওয়া হবে। মামলার পেন্ডিংয়ের ভিত্তিতে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই আদালতগুলো স্থাপন করা হবে।
আরও দেখুনঃ ‘দিল্লির আবহাওয়া উপভোগ করছেন তো?’ দূষণ নিয়ে তির্যক মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের
প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৭৮৮ কোটি টাকার মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ২৩৫৩ কোটি টাকা আসবে নিরভয়া তহবিল থেকে। (Fast Track Courts)বাকি অংশ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো বহন করবে। প্রতিটি আদালতে একজন ডেডিকেটেড বিচারক, একজন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ছয়জন সহায়ক কর্মী থাকবেন। এতে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মামলাগুলো সাধারণত দীর্ঘদিন ধরে চলে। ভিকটিমরা বছরের পর বছর আদালতের চক্করে ঘুরতে থাকেন। অনেক সময় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তাঁদের মানসিক চাপ আরও বাড়ে। ফাস্ট ট্র্যাক আদালতগুলো এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। সময়মতো বিচার হলে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা বাড়ে এবং সমাজে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা যায়।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ভিকটিমদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য চাইল্ড-ফ্রেন্ডলি কোর্ট স্পেস এবং ভালনারেবল উইটনেস ডিপোজিশন সেন্টার গড়ে তোলা হবে। এতে শিশু ও নারীরা আরও নিরাপদ পরিবেশে সাক্ষ্য দিতে পারবেন। মামলার গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ভিকটিমদের মানসিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশজুড়ে যৌন অপরাধের মামলাগুলোতে পেন্ডিং কমানোর চেষ্টা চলবে। অনেক রাজ্যে এখনও এ ধরনের মামলার সংখ্যা অনেক বেশি। বিশেষ আদালত বাড়ালে সেখানে দ্রুত কাজ এগোবে। বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
মোদি সরকারের এই পদক্ষেপকে নারী ও শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত বিচার শুধু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে না, অপরাধ প্রতিরোধেও সাহায্য করে(Fast Track Courts)। যখন অপরাধীরা জানেন যে শাস্তি দ্রুত আসবে, তখন অপরাধ করার প্রবণতাও কমে। একইসঙ্গে ভিকটিমরাও মানসিকভাবে স্বস্তি পান।
পাঁচ বছরের এই সম্প্রসারণে আরও বেশি জেলায় বিশেষ আদালত পৌঁছাবে। যেসব এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, সেখানে নতুন আদালত গড়ে উঠবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সমান সুযোগ পাবেন দ্রুত ন্যায়বিচারের।