‘দিল্লির আবহাওয়া উপভোগ করছেন তো?’ দূষণ নিয়ে তির্যক মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: দিল্লি-সহ জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের (এনসিআর) ভয়াবহ বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। দূষণের জন্য বারবার কৃষকদের পরালি পোড়ানোকে দায়ী করা হলেও, ব্যক্তিগত গাড়ি…
নয়াদিল্লি: দিল্লি-সহ জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের (এনসিআর) ভয়াবহ বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। দূষণের জন্য বারবার কৃষকদের পরালি পোড়ানোকে দায়ী করা হলেও, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং যানজটের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। বিশেষ করে ধনীদের বিলাসবহুল গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়া দূষণ বাড়াচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে শুনানিতে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালতের সহকারী আইনজীবী অপারাজিতা সিং জানান, দিল্লির বাতাসের গুণমান এখনও বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজধানীর দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়া দিনে প্রায় ৩০টি সিগারেট খাওয়ার সমান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির দূষণে পরালি পোড়ানোর অবদান প্রায় ১৪ শতাংশ। পরিবহণ ব্যবস্থাই দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস বলেও জানান তিনি।
এর পরেই প্রধান বিচারপতি জানতে চান, দূষণের দায় কি শুধুই পরালি পোড়ানোর? অভিজাত শ্রেণির ব্যক্তিগত গাড়ি এবং রাস্তায় যানবাহনের দীর্ঘ সারিও কি পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে? দিল্লির রাস্তায় গাড়ির ভিড় এবং সেখান থেকে নির্গত ধোঁয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত।
কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি জানান, দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিএস-৬ মান পূরণ করে না, এমন গাড়ির প্রবেশে বিধিনিষেধ, ডিজেলচালিত অটোর সংখ্যা ধাপে ধাপে কমানো এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের শংসাপত্র যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্য দিকে, টোল প্লাজায় অকারণে ইঞ্জিন চালিয়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার বিরুদ্ধে আগের নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আদালত জানায়, শুধু নির্দেশ জারি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরালি সংগ্রহের ন্যায্য দাম আগেভাগে ঘোষণা এবং গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির মাধ্যমে তা ব্যবস্থাপনার পরামর্শও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
শীতের মরসুমে বাতাসের স্বাভাবিক চলাচল কমে যাওয়ায় দূষণ আরও বাড়ছে বলে কেন্দ্রের বক্তব্য। দিল্লির বায়ুর গুণমান সূচক (AQI) ইতিমধ্যেই ৪০০ ছুঁয়েছে।
দীপাবলির বাণিজ্যিকরণ নয়! সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে দেশ জুড়ে ক্ষোভের জুড়ে
সকালে বাবার হাত ধরে স্কুলে, কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু! ক্লাসে কী হয়েছিল ১৩ বছরের পড়ুয়ার?