ত্রিপুরায় BSF জওয়ান আক্রমণের ঘটনার পর শুরু হল ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান

ত্রিপুরায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আশাবাড়ি এলাকায় সম্প্রতি BSF র (Tripura BSF)আক্রমণের ঘটনার জের ধরে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২ নভেম্বর বিএসএফ জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনার…
ত্রিপুরায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আশাবাড়ি এলাকায় সম্প্রতি BSF র (Tripura BSF)আক্রমণের ঘটনার জের ধরে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২ নভেম্বর বিএসএফ জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক জমি যাচাই অভিযান শুরু হয়েছে। বিএসএফ, পুলিশ ও রাজস্ব বিভাগের যৌথ দল বাড়িঘর ও দোকানপাট পরিদর্শন করে মালিকানার কাগজপত্র যাচাই করছে এবং জমির সীমানা নির্ধারণ করছে।
আশাবাড়ি বর্ডার আউটপোস্টের আশপাশের এলাকায় এই অভিযান চলছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, কিছু স্থাপনা সরকারি জমির ওপর গড়ে উঠে থাকতে পারে অথবা বৈধ দলিল ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকান মালিকদের বৈধ জমির দলিল দেখাতে বলা হচ্ছে। যেসব ক্ষেত্রে কাগজপত্র না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আরও তদন্ত চলবে।
আরও দেখুনঃ
২ নভেম্বরের ঘটনায় বিএসএফের তিনজন জওয়ান আহত হয়েছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই প্রশাসন সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও অবৈধ দখলদারির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলে অবৈধ দখল সহ্য করা হবে না এবং জওয়ানদের অপমানের কোনো আপস করা হবে না এমন বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন।
সোনামুরা মহকুমা প্রশাসনের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।(Tripura BSF) রাজস্ব পরিদর্শক ও তহসিলদারসহ যৌথ দল এলাকায় গিয়ে জমির সীমানা চিহ্নিত করছে। গত দুই মাস ধরে সরকারি জমি উদ্ধারের অভিযান চলছিল। ইতিমধ্যে সোনামুরা মহকুমায় ৪২টি এবং বিশালগড়ে একটি স্থান থেকে অবৈধ দখল সরানো হয়েছে। আশাবাড়ি এলাকায় এখন আরও নিবিড়ভাবে যাচাই চলছে।
সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (Tripura BSF)অবৈধ বসতি বা দোকানপাট সীমান্ত নিরাপত্তাকে দুর্বল করতে পারে। অনুপ্রবেশ, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই জমির বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছে প্রশাসন। স্থানীয়দের বৈধ অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি অবৈধ দখলদারি রোধে কঠোরতা দেখানো হচ্ছে।
এই অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও প্রশাসন বলছে, আইন মেনে চললে কারও ক্ষতি হবে না। যাঁদের বৈধ কাগজপত্র আছে, তাঁদের কোনো সমস্যা নেই। তবে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা গড়ে তোলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্তের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে এ ধরনের পদক্ষেপ অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএসএফ জওয়ানরা দেশের সীমান্ত পাহারা দেন। তাঁদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেই ঘটনার পর জমি যাচাই অভিযান শুরু হওয়ায় স্পষ্ট বার্তা যাচ্ছে যে, সীমান্ত এলাকায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসন ছাড় দেবে না। অবৈধ দখলদারি যেমন সহ্য করা হবে না, তেমনি জওয়ানদের সম্মানে আঘাতও সহ্য করা হবে না।