টাটার বদলে অশোক লেল্যান্ড, সিঙ্গুরে গড়াবে গাড়ির চাকা! - 24 Ghanta Bangla News
Home

টাটার বদলে অশোক লেল্যান্ড, সিঙ্গুরে গড়াবে গাড়ির চাকা!

Spread the love


কলকাতা: একসময় টাটার ন্যানো কারখানাকে ঘিরে সিঙ্গুর (Singur) ছিল রাজ্যের শিল্পায়ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। জমি অধিগ্রহণ, কৃষকদের আন্দোলন এবং রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে শেষ পর্যন্ত সিঙ্গুর থেকে…

কলকাতা: একসময় টাটার ন্যানো কারখানাকে ঘিরে সিঙ্গুর (Singur) ছিল রাজ্যের শিল্পায়ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। জমি অধিগ্রহণ, কৃষকদের আন্দোলন এবং রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে শেষ পর্যন্ত সিঙ্গুর থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল টাটাকে। সেই সিঙ্গুরেই এবার নতুন শিল্পস্থাপনের সম্ভাবনার কথা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংস্থার পক্ষ থেকে প্রাথমিক সাড়াও মিলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কিছু একটা সিঙ্গুরে করব। আমার সঙ্গে অশোক লেল্যান্ডের কথা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কিছু বলেছে।” তবে ঠিক কী ধরনের কারখানা তৈরি হতে পারে, কত জমি প্রয়োজন হবে কিংবা কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।

ন্যানো কারখানা ঘিরে জমি আন্দোলনের ইতিহাস

২০০৬ সালে সিঙ্গুরে ছোট গাড়ি ন্যানো তৈরির কারখানা গড়ার জন্য প্রায় ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। টাটা মোটরসের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পকে রাজ্যের শিল্পায়নের বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তীব্র বিরোধিতা।

একাংশ কৃষক জমি দিতে রাজি হননি। তাঁদের অভিযোগ ছিল, জোর করে কৃষিজমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে উঠে আসেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জমি রক্ষার দাবিতে শুরু হয় লাগাতার আন্দোলন, অবস্থান এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি। ২০০৮ সালে আন্দোলন আরও তীব্র আকার নেয়।

পরিস্থিতির জেরে শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে টাটা মোটরস সিঙ্গুরে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। পরে গুজরাতের সানন্দে নতুন কারখানা গড়ে ওঠে। সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণের বৈধতা নিয়েও দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে জমি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এবার অশোক লেল্যান্ডকে ঘিরে নতুন জল্পনা

ন্যানো প্রকল্প সরে যাওয়ার পর সিঙ্গুরে বড় শিল্পস্থাপনের প্রশ্ন বারবার সামনে এসেছে। এবার অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে নতুন করে সেই সম্ভাবনা উসকে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা কতদূর এগিয়েছে, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কথাবার্তা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সিঙ্গুরে অশোক লেল্যান্ডের কারখানা তৈরি হচ্ছে, এমনটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রকল্পের ধরন, জমির পরিমাণ, বিনিয়োগ এবং উৎপাদন শুরুর সময়সীমা নিয়ে সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও বাকি।

বিজিবিএসের বিনিয়োগের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন

এদিন বিজিবিএস বা বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের বিনিয়োগ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান নিয়েও আগের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মোট আটটি বিজিবিএস আয়োজন করতে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। পাশাপাশি ১৬ লক্ষ কোটি টাকার মৌ স্বাক্ষরিত হওয়ার দাবি করা হলেও, সেই হিসাবের মধ্যে সরকারি পরিকাঠামো তৈরির খরচকেও বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অর্থে স্কুল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি করাকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। প্রকৃত বিনিয়োগ বলতে তিনি বুঝিয়েছেন, যেখানে বেসরকারি সংস্থা অর্থ লগ্নি করবে, রাজ্য সরকার জমির ব্যবস্থা করবে এবং তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

সিঙ্গুরের ক্ষেত্রে অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে পৌঁছয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। ন্যানো প্রকল্প ঘিরে দীর্ঘ আন্দোলন ও আইনি জটিলতার স্মৃতি এখনও সিঙ্গুরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সেই জমিতে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে তা এলাকার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে আপাতত সবটাই আলোচনার পর্যায়ে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *