Tarapith Shaktipeeth: তারাপীঠ কি সত্যিই শক্তিপীঠ?
তারাপীঠ শুধু বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থস্থান নয়, তন্ত্রসাধনা ও আধ্যাত্মিকতার পীঠস্থানও বটে। কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস, বাংলার ঐতিহ্য, ধর্মের ইতিহাস ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে বীরভূমের এই মন্দিরের সঙ্গে। দেবী এখানে মা তারা রূপে অধিষ্ঠিত। দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয় রূপ তারা। এখানেই সিদ্ধিলাভ করেছিলেন স্বয়ং সাধক বামাক্ষ্যাপা। তারাপীঠ মহাশ্মশানে দ্বারকা নদীর তীরে শ্বেত শিমূল বৃক্ষের তলায় পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে সিদ্ধিলাভ করেন তিনি। কিন্তু কেন বামাক্ষ্যাপাও সাধনা করতে ছুটে এসেছিলেন তারাপীঠে, জানেন? তারপীঠের সঙ্গে যোগ রয়েছে বশিষ্ঠ মুনিরও? কারও মতে তারাপীঠ ৫১ শক্তিপীঠের একটি। দেবীর অক্ষিগোলক পতিত হয়েছিল এই স্থানে। যা আজও সযত্নে রাখা রয়েছে গর্ভগৃহে। আবার কেউ বলেন কেউ কেউ বলেন, সিদ্ধপীঠ হলেও, শক্তিপীঠ নয়। তা হলে তারাপীঠ আসলে কী? কেন এই স্থানের এত মাহাত্ম্য? এই সময় অনলাইনে কলম ধরলেন জ্যোতিষবিদ দেবোজ্যোতি মজুমদার।
কথিত, ব্রহ্মার সপ্তম মানস পুত্র ছিলেন বশিষ্ঠ মুনি। সপ্তঋষির একজন তিনি। দ্বিতীয় মহাবিদ্যা তারার সাধনায় তিনি ব্রতী হন। দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয় বিদ্যা তারা হলেন নীল সরস্বতী, বাকশক্তিপ্রদায়িনী। দেবী নীলবর্ণা, তিনি লোলজিহ্বা, করালবদনা এবং চতুর্ভুজা। তাঁর পরনে থাকে ব্যাঘ্রচর্ম। এই দেবীর সাধনা ছিল অত্যন্ত দুরূহ কাজ। দেবী তারার দেখা পেতে, সিদ্ধিলাভ করতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সাধনা করেও কোনও ফল পাননি ঋষি বশিষ্ঠ। তাঁর সাধনা সফল হয় না। শেষে দৈব বাণী পেয়ে বশিষ্ঠ চিন দেশে তারার পঞ্চ ম-আকারে সাধন তত্ত্বের জ্ঞান লাভ করেন। পঞ্চমকার, অর্থাৎ মদ, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা, মৈথুন বা যৌনকর্ম।