Pollution and Dementia: বিষাক্ত বাতাস কী ভাবে অকালেই কেড়ে নিচ্ছে স্মৃতিশক্তি? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Pollution and Dementia: বিষাক্ত বাতাস কী ভাবে অকালেই কেড়ে নিচ্ছে স্মৃতিশক্তি?

Spread the love

বায়ুদূষণের খারাপ প্রভাব বলতে সাধারণ মানুষ হাঁচি, কাশি, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট, গলায় অস্বস্তি কিংবা ফুসফুসের সংক্রমণের কথাই জানতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এই মারাত্মক তথ্য। বাতাসে মিশে থাকা সূক্ষ্ম, বিষাক্ত উপাদান কেবল ফুসফুসের ক্ষতি করেই ক্ষান্ত থাকে না। বরং, তা সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ চালায়। যার ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা দ্রুত লোপ পেতে থাকে। এবং কালক্রমে তা ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিষাক্ত বাতাস কী ভাবে স্নায়ুপথ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এর থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়ই বা কী?

নাসাপথ দিয়ে কী ভাবে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে দূষণ?

মানুষের নাকে ফিল্টারিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত দক্ষ হলেও বাতাসের সূক্ষ্ম কণা, বিশেষ করে PM2.5 (Particulate Matter 2.5)-কে আটকে রাখতে পারে না। চিকিৎসকরা বলছেন, আমাদের নাকের উপরের অংশে অবস্থিত ঘ্রাণশক্তি সৃষ্টিকারী স্নায়ু সরাসরি মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত। অতিসূক্ষ্ম দূষিত কণাগুলো শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুস হয়ে রক্তে তো মেশেই, অনেক সময় নাকের এই স্নায়ুপথ ধরে সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। উচ্চ AQI বিশিষ্ট বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে ‘ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বিষাক্ত পদার্থ সহজেই মস্তিষ্কে প্রবেশ করে নিউরন বা স্নায়ুকোষ ধ্বংস করতে শুরু করে।

অ্যালঝাইমার্স ও বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে PM2.5 এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ($NO_2$)-এর সংস্পর্শে থাকলে মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড-বিটা প্লাক নামক ক্ষতিকর প্রোটিন জমা হতে শুরু করে, যা অ্যালঝাইমার্স রোগের মূল উৎস। চিকিৎসকরা বলছেন, দূষিত বাতাস শরীরে গিয়ে একদিনের মধ্যে ডিমেনশিয়া ঘটায় না। এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা রক্তনালী এবং ব্রেন টিস্যুকে অকেজো করে তোলে। ল্যানসেট কমিশনও তাই বায়ুদূষণকে ডিমেনশিয়ার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে আশার কথা হলো এই যে, তা নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

কাদের ভয় সবচেয়ে বেশি?

১. প্রবীণ নাগরিক: যাঁরা ইতিমধ্যেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের সমস্যায় ভুগছেন, বিষাক্ত বাতাস তাঁদের স্নায়ুতন্ত্রকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত করে।

২. শিশু ও গর্ভস্থ সন্তান: গর্ভাবস্থায় ট্রাফিকের ধোঁয়া বা ক্ষতিকর হাইড্রোকার্বনের সংস্পর্শে এলে শিশুর মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটার বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়, যার ফলে মনোযোগের অভাব (ADHD) ও চিন্তাশক্তি গতি ধীর হয়ে যেতে পারে।

ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তি হ্রাস

চিকিৎসকরা বলছেন, বয়স হলে অনেক সময়ে ঘ্রাণশক্তি বা শ্রবণশক্তি কমে যায়। তবে সকলের ক্ষেত্রে বিষয়টা বয়সজনিত না-ও হতে পারে।

  • অকারণে ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে যাওয়া: প্রবীণদের সর্দি-কাশি ছাড়াই হঠাৎ ঘ্রাণশক্তি কমে গেলে তা নিউরোলজিক্যাল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

  • শ্রবণশক্তি হ্রাস: কানে কম শুনলে প্রবীণরা সামাজিক ভাবে বিচ্ছিন্ন বোধ করেন, যা পরোক্ষ ভাবে স্মৃতিভ্রম ও মস্তিষ্কের নিষ্ক্রিয়তাকে ত্বরান্বিত করে।

বায়ুদূষণ থেকে মস্তিষ্ক সুরক্ষিত রাখার উপায়

দূষণ থেকে পুরোপুরি রেহাই না মিললেও দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে মস্তিষ্কের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

  • AQI দেখে বের হওয়া: শীতকালে বা দূষণের সময় সকালে ঘরের বাইরে না হাঁটাই ভালো।

  • মাস্ক ব্যবহার: সাধারণ কাপড়ের মাস্ক ফুসফুস বা স্নায়ুর ক্ষতি আটকাতে পারে না। তাই বাইরে বেরোলে অবশ্যই N95 মাস্ক পরুন।

  • ঘরের ভিতরের বাতাস পরিষ্কার রাখা: শোয়ার ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরে ধূপকাঠি জ্বালানো, মশার কয়েল বা ধূমপান বন্ধ রাখুন।

  • নাকের যত্ন: স্যালাইন ওয়াটার দিয়ে নিয়মিত নাক পরিষ্কার করলে জমে থাকা ধূলিকণা ও ইরিট্যান্ট দূর হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *