মোবাইল গেমে মগ্ন ছেলের হাতে বঁটির কোপ! ধৃত বাবা - 24 Ghanta Bangla News
Home

মোবাইল গেমে মগ্ন ছেলের হাতে বঁটির কোপ! ধৃত বাবা

Spread the love

মঙ্গলবার রাতে ওই ঘটনারই উল্টো ছবি দেখা গেল পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এলাকায়। একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ছেলে মগ্ন ছিল মোবাইলের গেমে। বাবা ছেলেকে খাওয়ার জন্য ডাকতে যান। শুরু হয় পিতা–পুত্রের বচসা। অভিযোগ, ওই ছাত্রের বাবা সেই সময়ে মত্ত অবস্থায় ছিলেন। তিনি রাগের মাথায় বঁটি দিয়ে ছেলের হাতে কোপ মারেন। জখম কিশোরকে উদ্ধার করে স্থানীয় ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। ছেলেকে কোপানের অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাঁকে তমলুক আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। গুজরাট হোক বা মেদিনীপুর — মোবাইলে আসক্তি ও তার জেরে নানা অঘটন ঘটেই চলেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক–শিক্ষিকা, অভিভাবক ও মনোবিদরাও। ময়না এলাকার ওই ঘটনায় বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের এইচওডি রঞ্জন ভট্টাচার্য বলছেন, ‘গুজরাটের চেয়ে এই ঘটনা কোনও অংশে কম বিপজ্জনক নয়। এ ক্ষেত্রে বাবা মদে আসক্ত ও ছেলে মোবাইলে আসক্ত। ফলে, আরও বড় বিপদ হতে পারত। যে কোনও আসক্তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মেডিক্যাল সহায়তা নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।’ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন রাতে বাড়ি ফিরে ছেলেকে খাওয়ার জন্য ডেকেছিলেন বাবা। তখন মোবাইলের গেমে মজে ছিল কিশোর। বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় বাবা-ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আচমকা ঘর থেকে ধারালো বঁটি তুলে নিয়ে ছেলের এক হাতে কোপ মারেন বাবা। রক্তাক্ত অবস্থায় চিৎকার শুরু করে কিশোর। ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরাই জখম কিশোরকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। খবর পেয়ে রাতেই গ্রামে পৌঁছয় ময়না থানার পুলিশ। আটক করা হয় অভিযুক্তকে। পরে, পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়।মোবাইল গেম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি যে পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ ও পড়াশোনায় প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরাও। তমলুক হ্যামিল্টন হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক অপূর্ব মিশ্র বলছেন, ‘বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মাঠে খেলাধুলোর প্রবণতা কমছে। মোবাইলে গেম, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো দেখা ও রিলস তৈরির নেশা বাড়ছে। খুব কম সংখ্যক ছাত্রছাত্রী মোবাইল ভালো কাজে ব্যবহার করছে। অভিভাবকরা প্রথম থেকেই বিষয়টিতে নজর দিলে তবেই এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *