‘পাক মদত, বিদেশ থেকে টাকা, সব প্রমাণ আছে...’, CJP-র দীপকে-রাঙ্কার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘পাক মদত, বিদেশ থেকে টাকা, সব প্রমাণ আছে…’, CJP-র দীপকে-রাঙ্কার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

Spread the love

ভারতকে দুর্বল করতেই তৈরি CJP। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিরুদ্ধে এ বার শত্রু দেশের সঙ্গে হাত মেলানোর ও অর্থ সাহায্য নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। ‘ডিপ স্টেট থিয়োরি’ আউড়ে তাঁর অভিযোগ, CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বিদেশি অনুদানদাতার কাছ থেকে অর্থ সাহায্য পেয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, দলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কাকে আর্থিক মদত দিচ্ছেন পাকিস্তানের রাজনীতিকরাও। শুধু তাই নয়, বিদেশি অর্থে চালিত একাধিক এনজিও এবং ভারতবিরোধী সংগঠনও সরকারবিরোধী প্রচারে মদত জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে CJP। প্রমাণ ছাড়া এমন মন্তব্য করার জন্য পাল্টা আক্রমণ করেছে দলটি।

কী অভিযোগ জিতেন্দ্র সিংয়ের?

মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, বিদেশি অর্থে পরিচালিত NGO, ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং ভারতবিরোধী শক্তিগুলি একজোট হয়ে দেশের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

দীপকে ও রাঙ্কার নাম উল্লেখ করে মন্ত্রীর অভিযোগ, দীপকে বেআইনি উৎস ও কয়েকজন আমেরিকানের কাছ থেকে টাকা পেয়েছেন। অন্য দিকে, পাকিস্তানের রাজনীতিক এবং তাঁদের সহযোগীদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন রাঙ্কা। শুধু তাই নয়, মিলেছে রাজনৈতিক ভাবে লড়াইয়ের টিপসও। তাঁর কথায়, শত্রু দেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে CJP। তিনি বলেন, ‘ভারতবিরোধী NGO, অননুমোদিত-বেআইনি উৎস, বিদেশি ভারতবিরোধী সংস্থা থেকেও টাকা নিয়েছে ওঁরা। বিদেশি অর্থে পুষ্ট সংস্থা ডিপ স্টেট-এর সঙ্গে যুক্ত লোকজন এই ভারতবিরোধী ন্যারেটিভ তৈরি করছে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও টাকা দিচ্ছে রাঙ্কাকে।’ এই অভিযোগের সমর্থনে গোয়েন্দা তথ্য ও যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে নির্দিষ্ট কোনও আর্থিক লেনদেনের নথি প্রকাশ্যে আনেননি মন্ত্রী।

বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (FCRA)-এর প্রয়োজনীয়তার পক্ষেও সওয়াল করেন জিতেন্দ্র। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, তাঁদের নিজেদের প্রচারের টাকা কোথা থেকে আসছে, সেটাও প্রকাশ করা উচিত।

বিজেপি-র মুখপাত্র তুহিন সিনহা আবার দাবি করেছেন, উৎসবের মরশুমে রাজধানীর বুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিত ভাবে নিজেদের কর্মসূচি সাজিয়েছিল CJP। গত একমাসে তারা যে কাজকর্ম চালাচ্ছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল দেশের ভিতরে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা।

কী বলছে CJP?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগের পরেই পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে CJP। দলের বক্তব্য, উচ্চপদে থাকা কোনও মন্ত্রী যা খুশি বলে দিতে পারেন, অথচ তার জন্য তাঁকে কোনও জবাবদিহি করতে হয় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন সাধারণ মানুষ কী ভাবে তাঁদের উপর আস্থা রাখবেন?’

কংগ্রেসও চাইল প্রমাণ

এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন কর্নাটকের মন্ত্রী এবং কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্ক খাড়গে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থসাহায্য নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিজেপি কোনও প্রমাণ দেখাতে পারছে না বলে দাবি তাঁর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপি নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে প্রমাণ পেশ করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি। এমনকী, বিজেপি, কংগ্রেস ও আরএসএসের বিদেশি অর্থসাহায্য নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কের প্রস্তাবও দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে CJP-এর আন্দোলনে বিদেশের অর্থ ঢালা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু বিদেশ মন্ত্রক তরফে তখন এই অভিযোগ উড়িয়ে জানানো হয়েছিল এই আন্দোলনে কোনও বিদেশি লেনদেনের প্রমাণ মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *