নতুন ‘বঞ্চিত তালিকা’ নিয়ে উদ্বেগ দীপকের
এই সময়: স্কুলে দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। তার উপরে ২০২৫-এর এপ্রিলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারিয়েছেন ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। তারপরে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ১৪ মাসেও নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়নি।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে নতুন করে মাথা চাড়া দিচ্ছে আন্দোলন। সেই প্রেক্ষিতে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন বুধবার বলেন, ‘এ ভাবে দিকে দিকে আন্দোলন মাথা তুললে কাজের কাজ হবে না। নতুন সরকার চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেই নতুন নিয়োগ শুরু করবে।’ সে জন্য প্রার্থীদের প্রস্তুত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, নানা জায়গা থেকে বিভিন্ন মানুষের প্ররোচনায় একের পর এক নতুন নতুন ‘বঞ্চিত তালিকা’ তৈরি হচ্ছে। তথাকথিত সেই ‘বঞ্চিত’দের সকলকেই যদি সরকার চাকরি দেয়, তা হলে ২০ বছরে নতুন কোনও ছেলেমেয়ে আর চাকরি পাবে না। মন্ত্রীর দাবি, ‘বহু প্রার্থীই নানা উপায়ে চাকরির জন্য তদ্বির করছেন। এতে আখেরে কোনও লাভ হবে না।’ তাঁর সংযোজন, ‘এখন যাঁরা স্নাতক-স্নাতকোত্তর পাশ করছেন, বিএড, ডিএলএড করছেন, তাঁদেরও চাকরির প্রয়োজন। নানা ভাবে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারের উপরে চাপ সৃষ্টি করে চাকরি নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এটা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
২০২২–এ প্রাথমিকের টেট উত্তীর্ণ এবং ডিএলএড ঐক্যমঞ্চের চাকরিপ্রার্থীরা ২০২৫–এর ১৩,৪২১টি শূন্যপদের সঙ্গে নতুন ঘোষিত ৪,৪৩২টি পোস্ট যুক্ত করার দাবিতে দু’দিন ধরে সল্টলেকে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানে বসেছিলেন। মন্ত্রী এ দিন তাঁদের প্রতিনিধিদের ডেকে জানিয়ে দেন, এই কাজ করা সম্ভব নয়। একই ভাবে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের পার্টটাইম শিক্ষকরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে তিন দিন ধরে অবস্থান করছিলেন। এ দিন তাঁদেরও ডেকে মন্ত্রী জানান, স্কুলশিক্ষা দপ্তর বেতন দেয় না। এটা একেবারে স্কুলের বিষয়। তবে বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে জানাবেন।
দীপকের বার্তা, ‘নানা ভাবে প্রার্থীদের প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে। ওই প্ররোচনায় পা না দিয়ে আপনারা পড়াশোনায় মন দিন। কারও কাছে যেতে হবে না। আপনারা নিজ যোগ্যতায় চাকরি পাবেন।’