‘অগ্নিবীর’দের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির পরে বিয়ের নিষেধাজ্ঞায় কি মিলবে ছাড়? পর্যালোচনা সেনার
অগ্নিপথ প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তনের পর এ বার অগ্নিবীরদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু করল সেনা। অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে ছ’বছর করার সিদ্ধান্তের পরে এ বার তাঁদের বিয়ের নিয়মের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও পর্যালোচনার করতে চলেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত দু’বছর যাঁরা বাহিনীতে কাজের সুযোগ পাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রতিরক্ষা বাহিনী। যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০২২ সালে অগ্নিপথ প্রকল্প চালুর সময়ে অগ্নিবীরদের জন্য চার বছরের চাকরির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে বিয়ে করার অনুমতি নেই তাঁদের। প্রশিক্ষণ ও সামরিক দায়িত্ব পালনে যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই এই শর্ত রাখা হয়। কিন্তু চাকরির মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরে পুরোনো নিয়মের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অগ্নিবীর হিসেবে সাধারণত ১৭.৫ থেকে ২১ বছর বয়সে বাহিনীতে যোগ দেন তরুণেরা। চার বছরের চাকরির পর অতিরিক্ত দু’বছর কাজ করলে তাঁদের বয়স দাঁড়াবে প্রায় ২৩ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। এই বয়সে বিয়ে ও সংসার শুরু করার পরিকল্পনা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক। ফলে চাকরির মেয়াদ বাড়লেও বিয়ের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ব্যক্তিগত জীবনে তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই বিষয়টিই পর্যালোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে খবর।
অগ্নিপথ প্রকল্পে কী বদল?
এত দিন চার বছরের মেয়াদ শেষে মেধার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে নিয়মিত সেনাবাহিনীতে নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হতো। বাকি ৭৫ শতাংশকে বাহিনী ছাড়তে হতো। নতুন ব্যবস্থায় ওই ৭৫ শতাংশের ইচ্ছুক সদস্যদের আরও দু’বছর কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এই মেয়াদ শেষে তাঁরাও নিয়মিত বাহিনীতে নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন। তবে তার জন্য নির্দিষ্ট বাছাই প্রক্রিয়া ও শর্ত পূরণ করতে হবে।
অতিরিক্ত দু’বছরের চাকরিতে বেতন বৃদ্ধি, উন্নত ‘সেবা নিধি’ প্যাকেজ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। ফলে চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি অগ্নিবীরদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলিও নতুন করে আলোচনায় আসছে। তবে বিয়ের নিয়মে ছাড় দেওয়া হবে কি না, তার উত্তর আপাতত প্রতিরক্ষা বাহিনীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।