ট্রাম্প হারায় ভারতের ভালো হলো না খারাপ?
শুল্ক-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা
ক্ষমতায় আসার পরে লিবারেশন ডে ট্যারিফ, রিট্যালিয়েটরি ট্যারিফ, রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ, ১০০% অ্যাডভালোরেম ট্যারিফ— পরের পর শুল্ক–বাণে ট্রাম্প ভারত-সহ গোটা দুনিয়াকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। নয়াদিল্লির একাধিক শীর্ষ সরকারি আধিকারিকের দাবি, নতুন নীতি বা আইন প্রণয়ন বা শুল্ক চাপানোয় ট্রাম্পের ডানা যে বেশ কিছুটা ছাঁটা গেল, সেটা অবশ্যই ভারতের জন্য স্বস্তির খবর। একই ভাবে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির খসড়াতেও দর কষাকষির কিছুটা ‘ব্রিদিং স্পেস’ পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল নয়াদিল্লির জন্য। তবে সাম্প্রতিক লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং অ্যাক্টের ক্ষমতা পোটাসের পকেটে থাকায় রিপাবলিকান শিবিরের হারের জেরে ভারত পুরোপুরি লাভবান হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। মার্কিন মুলুকে প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অরুণ কুমার সিং থেকে ফরেন সার্ভিসে নিযুক্ত একাধিক প্রাক্তন এবং বর্তমান আমলার দাবি, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত আইনসভার সঙ্গে কী ভাবে খাপ খাইয়ে নেন ট্রাম্প, সংঘাত না সমঝোতা— কোন পথে তিনি হাঁটেন, সেই রুটই ঠিক করে দেবে ভারতের জন্য ট্যারিফ এবং শিল্প বাণিজ্য প্রশ্নে কী প্রভাব পড়বে।
রুশ তেলে ব্যাকফায়ার?
নয়াদিল্লির জন্য পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জ্বালানি ক্ষেত্রে। বাজার বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের দাবি, রুশ জ্বালানি কেনা নিয়ে খামখেয়ালি ট্রাম্পের ট্যারিফ-বাণে এমনিতেই নাজেহাল ভারত। এখন ডেমোক্র্যাট শিবির যদি মস্কোকে ছেড়ে ভেনেজ়ুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল কিনতে চাপ দেয় ভারতকে, সেক্ষেত্রে গোদের উপরে বিষফোড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জমানা বাদ দিলে চিরকালই ডেমোক্র্যাট শিবির রাশিয়ার জ্বালানি ব্যবসার বাড়বাড়ন্তের বিরোধিতা করে এসেছে। এখন পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি বা সামগ্রিক ভাবে বিশ্বে চিন–রাশিয়ার সমীকরণের ফলে কিছুটা বেকায়দায় আমেরিকার জ্বালানি ব্যবসা। মার্কিন মুলুকে ডিজ়েলের দাম সর্বকালীন রেকর্ডে পৌঁছনোয় রাশিয়ার মুখাপেক্ষী থাকতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের পাল্লা ভারী হওয়ায় ট্রাম্পকে তাঁর নীতি বদলের পাশাপাশি রুশ জ্বালানি কেনার নয়াদিল্লির উপরেও তাদের চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।