ধর্নাস্থল অনির্দিষ্টকাল দখল কেন, উষ্মা সুপ্রিম কোর্টের
এই সময়: ‘ধর্না দেওয়ার জন্য কোনও একটি জায়গা কেউ একা অনির্দিষ্ট কালের জন্য দখল করে রাখতে পারে না’— গত মাসে দিল্লির যন্তর মন্তর এবং রবিবার রামলীলা ময়দানে বিরোধী দলগুলির প্রতিবাদ–বিক্ষোভ নিয়ে এমনই কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। এই প্রতিবাদ–বিক্ষোভের জেরে আশপাশ এলাকার ব্যবসায়ীদের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে— এই অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এই শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, যে বা যারা এই বিক্ষোভ বা সমাবেশের ডাক দিচ্ছে, তাঁদেরই এর পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), বাম ও অতিবাম ছাত্র–যুব সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
গত মাসে যন্তর মন্তর থেকে রাহুল গান্ধীদের নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদ মিছিল সুপ্রিম কোর্ট চত্বর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এরপরে কেন্দ্র ধর্না–প্রতিবাদের জায়গা হিসেবে যন্তর মন্তরকে বাদ দিয়ে নতুন কয়েকটি জায়গাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে রয়েছে রামলীলা ময়দানও। রবিবার সেখানেই বড় সমাবেশ করে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের দলগুলি।
এ দিন সিজেআই কান্ত বলেন, ‘আপনারা একটা জায়গা সব সময়ের জন্য দখল করে রাখতে পারেন না। আরও প্রতিবাদীও তো রয়েছেন। কৃষক বা আইনজীবীরা কোথায় যাবেন? প্রত্যেকের প্রতিবাদের অধিকার আছে।’ দিওয়ালি বা তার আগে–পরে উৎসবের মরশুমে যাতে তাঁদের ব্যবসার ক্ষতি করে কোনও সমাবেশ না–হয়, তার জন্য আর্জি শীর্ষ আদালতে আর্জি জানিয়েছিল ব্যবসায়ী সংগঠন। তার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের জবাব তলব করেছে আদালত।
শীর্ষ আদালতে এই শুনানির মধ্যেই দিল্লির ব্যবসায়ীরা ১১ নভেম্বর, ভাইফোঁটার দিন পর্যন্ত দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে সব ধরনের সমাবেশ, মিছিল, ধর্না বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছেন। দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারকে এই মর্মে চিঠি দিয়েছে ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’।
বণিকসভার দাবি, গত ১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাসে ধর্না–বিক্ষোভের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। দিল্লির সিপিকে পাঠানো চিঠিতে সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল লিখেছেন, ‘ব্যবসায়ীরা আর নতুন করে কোনও লোকসান সামাল দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। এর পরেও যদি দিওয়ালির ব্যবসায় ক্ষতি হয়, তা হলে বিক্ষোভ-মিছিলের আয়োজকদের হাতে দোকানের চাবি তুলে দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।’