‘আধার কার্ড দেখিয়ে আর পাওয়া যাবে না কল্যানমুলক অর্থ !’ ঘোষণা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং ওরফে লালন সিং এক গুরুত্বপূর্ণ (Welfare Payment)ঘোষণা করেছেন যা দেশের কল্যাণমূলক প্রকল্পের অর্থ বিতরণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে…
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং ওরফে লালন সিং এক গুরুত্বপূর্ণ (Welfare Payment)ঘোষণা করেছেন যা দেশের কল্যাণমূলক প্রকল্পের অর্থ বিতরণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এখন থেকে আধার কার্ড আর কল্যাণমূলক অর্থ প্রদানের মূল ভিত্তি থাকবে না। এর পরিবর্তে ভোটার আইডি বা এপিক নম্বর এবং বায়োমেট্রিক প্রমান বাধ্যতামূলক করা হবে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, আধার কার্ড এখন প্রায় প্রতিটি গলিতে সহজে পাওয়া যায়। যে কেউ পাঁচ মিনিটের মধ্যে আধার বানিয়ে নিতে পারে। এই সহজলভ্যতার কারণে জালিয়াতি ও প্রতারণার সুযোগ বেড়ে গেছে। অনেকেই অযোগ্য হয়েও আধার ব্যবহার করে সরকারি সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে। (Welfare Payment )এই সমস্যা দূর করতেই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে সুবিধাভোগীদের এপিক নম্বরসহ বায়োমেট্রিক যাচাই করতে হবে। এই দুটি মিলেই হবে তাদের পরিচয়ের প্রমাণ এবং সেই অনুসারেই অর্থ প্রদান করা হবে।
আরও দেখুনঃ ভারত-পাক সীমান্তের কাছে রাজস্থানে রেললাইনে বিস্ফোরণ! নাশকতার ছক?
এই ঘোষণা পঞ্চায়েত মন্ত্রকের আওতাধীন কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, এতে শুধু যোগ্য সুবিধাভোগীরাই অর্থ পাবেন এবং প্রতারণামূলক এন্ট্রি বাদ পড়বে। ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দুর্নীতি কমে আসবে। তিনি গ্যাংটকসহ বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় এই কথাগুলো পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বর্তমানে আধারের সঙ্গে অনেক প্রকল্পের অর্থ যুক্ত। কিন্তু আধারের সহজ পাওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে যাচাইয়ের দুর্বলতার কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। ভোটার আইডি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ইস্যু হয় এবং এটি তুলনামূলকভাবে আরও কঠোর যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। এর সঙ্গে বায়োমেট্রিক যুক্ত করা হলে পরিচয় নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে বলে মন্ত্রী মনে করেন।
এই পদক্ষেপকে দুর্নীতি রোধের বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি অর্থ যাতে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন। তবে কিছু মহল থেকে প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে চলতি বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে কেউ কেউ বলছেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে কল্যাণমূলক সুবিধাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মন্ত্রী অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, উদ্দেশ্য শুধু যোগ্যদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং জালিয়াতি বন্ধ করা।
পঞ্চায়েত মন্ত্রকের আওতায় সরাসরি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর অনেক প্রকল্প নেই। তবে মন্ত্রীর অন্যান্য দায়িত্বের আওতায় যেমন মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ সংক্রান্ত কিছু প্রকল্পে আধার বাধ্যতামূলক ছিল। সেখানেও এই পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সঠিক কোন কোন প্রকল্পে এটি প্রথমে চালু হবে, তা এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দিকনির্দেশনা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ এলাকায় পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও কল্যাণমূলক কাজ হয়। সেখানে সুবিধাভোগী নির্বাচন ও অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা আনা জরুরি। (Welfare Payment)নতুন ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের কারণে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাবে এবং ভোটার আইডি দিয়ে দ্বৈত সুবিধা বা নাম জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী আশা করছেন, এতে প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য মানুষরা আরও নিশ্চিতভাবে সহায়তা পাবেন।
এই ঘোষণা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে স্বাগত জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, আধারের অপব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা ছিল। অন্যদিকে কেউ কেউ সতর্ক করছেন যে, বাস্তবায়নে যাতে কোনো জটিলতা না হয় এবং সাধারণ মানুষ যাতে অসুবিধায় না পড়েন। বিশেষ করে যারা ভোটার আইডি হারিয়েছেন বা নাম তালিকায় নেই, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।