সরকারি কাজের সমালোচনায় মানহানির মামলা নয়! সাংবাদিকদের পাশে প্রেস কাউন্সিল

কলকাতা: ভারতীয় প্রেস কাউন্সিলের সাংবাদিক (Press Council)আচরণবিধি, ২০২২-এ জনসাধারণের কর্মকর্তাদের কাজ ও আচরণ নিয়ে মন্তব্য করার অধিকারের সীমা ও দায়িত্ব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই…
কলকাতা: ভারতীয় প্রেস কাউন্সিলের সাংবাদিক (Press Council)আচরণবিধি, ২০২২-এ জনসাধারণের কর্মকর্তাদের কাজ ও আচরণ নিয়ে মন্তব্য করার অধিকারের সীমা ও দায়িত্ব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়মাবলী নৈতিক সাংবাদিকতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায্যতার নীতিকে সমুন্নত রাখে। এটি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষা করার পাশাপাশি দায়িত্বশীল প্রতিবেদনের ওপর জোর দেয়।
প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি তৈরি করে আসছে।(Press Council) ২০২২ সালের সংস্করণে জনসাধারণের কর্মকর্তাদের বিষয়ে মন্তব্যের অধিকার নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনা অনুসারে, সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত সমালোচনামূলক প্রতিবেদনের জন্য মানহানির অভিযোগ আনতে পারে না। তবে এর শর্ত হলো, প্রকাশনাটি সত্যকে উপেক্ষা করে বেপরোয়াভাবে করা হয়নি। বিচার বিভাগ, সংসদ ও বিধানসভা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এদের সুরক্ষা সংবিধানের বিশেষ বিধান দিয়ে নিশ্চিত।
আরও দেখুনঃ পুলিশকর্তাকে ট্রাকে পিষে দিয়ে খুন! গজেন্দ্রকে গুলি করে হাসপাতালে পাঠাল পুলিশ
কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় সংস্থা তাদের কাজকর্মের সমালোচনামূলক নিবন্ধের জন্য দেওয়ানি বা ফৌজদারি মানহানির মামলা করতে পারে না। এটি সংবাদমাধ্যমের নজরদারির অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। জনস্বার্থে দুর্নীতি বা অনিয়ম তুলে ধরার অধিকার সাংবাদিকদের রয়েছে। তবে এসব তথ্য অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে এবং যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকাশ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের মতামতও নিতে হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে খবর বা মন্তব্য প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।(Press Council) এমন কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না যা অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করে বা অপরাধ প্রতিরোধ ও সনাক্তকরণে বাধা সৃষ্টি করে। তদন্ত সংস্থারও দায়িত্ব রয়েছে যে তারা তথ্য ফাঁস বা ভুল তথ্য ছড়াবে না। অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বা অনুরূপ আইন সংবাদমাধ্যমের ওপরও প্রযোজ্য। তবে রাষ্ট্র বা কর্মকর্তাদের আগাম নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো ক্ষমতা নেই।
যারা জনপদে আছেন এবং নিজেদের আচরণ দিয়ে সমালোচনার সুযোগ তৈরি করেন, তাঁরা সেই সমালোচনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন না। ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য যা দেশের প্রথম নাগরিককে অবমাননা করে, তা ন্যায্য সাংবাদিক মন্তব্যের বাইরে।
জনবিভাগ বা কর্মীদের কার্যক্রমের সমালোচনামূলক মূল্যায়ন সাংবাদিকের দায়িত্ব ও স্বাধীনতা। তবে তা যথাযথ নথি ও যাচাইয়ের ভিত্তিতে হতে হবে। জনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সদিচ্ছায় সমালোচনামূলক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য উন্মুক্ত থাকতে বাধ্য।
এই নিয়মাবলী সাংবাদিকতার মৌলিক উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে। তা হলো জনগণকে ন্যায্য, সঠিক, নিরপেক্ষ ও শালীনভাবে সংবাদ, মতামত ও তথ্য সরবরাহ করা। স্বাধীনতা ও দায়িত্বের ভারসাম্য রক্ষা করাই এর মূল লক্ষ্য। জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের বিষয়ে রিপোর্ট করার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে তবেই প্রকাশ করতে হবে।
প্রেস কাউন্সিলের এই নির্দেশনা সাংবাদিকদের জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করে। এটি শুধু অধিকারই দেয় না, দায়িত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়। (Press Council)জনসাধারণের কর্মকর্তাদের কাজকর্ম নিয়ে সমালোচনা করা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। তবে সেই সমালোচনা যেন সত্যনিষ্ঠ, প্রমাণভিত্তিক ও দায়িত্বশীল হয়। অতিরঞ্জন বা ভিত্তিহীন অভিযোগ এড়িয়ে চলতে হবে। এভাবেই সংবাদমাধ্যম জনস্বার্থ রক্ষা করতে পারে এবং নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে পারে।