মার্কিন সেনেটে পালাবদল! ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা

ওয়াশিংটন: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে মার্কিন সেনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাত থেকে…
ওয়াশিংটন: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে মার্কিন সেনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিল ডেমোক্র্যাটরা। টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা এবং নর্থ ক্যারোলাইনার মতো রিপাবলিকান প্রভাবিত রাজ্যেও জয় পেয়েছে তারা। পাশাপাশি জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে দলটি। এর ফলে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটল।
১০০ আসনের মার্কিন সেনেটে ২০২০ সালের নির্বাচনের পর এই প্রথম ফের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল ডেমোক্র্যাটরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ৫৩-৪৭ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল রিপাবলিকানরা। কিন্তু একাধিক আসনে অপ্রত্যাশিত ফলের জেরে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে হল ট্রাম্পের দলকে।
টেক্সাস ও সাউথ ক্যারোলাইনায় বড় চমক
এ বারের নির্বাচনে সবচেয়ে নজরকাড়া ফলগুলির মধ্যে রয়েছে টেক্সাস। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম কোনও ডেমোক্র্যাট সেনেটর নির্বাচিত হলেন।
সাউথ ক্যারোলাইনাতেও অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়ে সেনেটে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। অন্য দিকে, নর্থ ক্যারোলাইনায় প্রাক্তন গভর্নর রয় কুপার হারিয়েছেন ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে। এই জয়ও ডেমোক্র্যাটদের শক্তি বাড়িয়েছে।
জয়ের ধারা বজায় থেকেছে জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারেও। জর্জিয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে হারিয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন অসফ। অন্য দিকে, নিউ হ্যাম্পশায়ারে প্রাক্তন রিপাবলিকান সেনেটর জন সুনুনুকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাস। তাঁর জয়ের ফলে মার্কিন সেনেটে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সদস্য হিসেবে জায়গা করে নিলেন তিনি।
এ ছাড়াও ভার্জিনিয়া, ডেলাওয়্যার, নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড এবং ম্যাসাচুসেটসে নিজেদের আসন ধরে রেখেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে সেনেটে দলের অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধাক্কা?
এই নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। নির্বাচনী প্রচারে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্বয়ং ট্রাম্প। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রচারও করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাতেও ভোটের ফল নিজেদের পক্ষে টানতে পারেনি তাঁর দল।
নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ, মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছিল। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপকে সামনে রেখেই প্রচার চালিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। ভোটের ফলাফলে তার প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সেনেটের নিয়ন্ত্রণ হাতে আসায় এবার আইন প্রণয়ন, প্রেসিডেন্টের মনোনীত পদাধিকারীদের অনুমোদন এবং প্রশাসনের উপর নজরদারির ক্ষেত্রে বাড়তি ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব এবং তদন্তের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে তারা।
অন্য দিকে, সেনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় ট্রাম্পের আগামী দু’বছরের শাসনপর্বে আইন পাশ করানো এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারে রিপাবলিকানরা। প্রতিনিধি সভার নিয়ন্ত্রণও যদি ডেমোক্র্যাটদের হাতে যায়, তা হলে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কংগ্রেসের সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।