২০২৭ সালের মে মাসে রিপোর্ট, ৮ম বেতন কমিশনে কতটা এগোল কাজ? - 24 Ghanta Bangla News
Home

২০২৭ সালের মে মাসে রিপোর্ট, ৮ম বেতন কমিশনে কতটা এগোল কাজ?

Spread the love


নয়াদিল্লি: গঠনের এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর ৮ম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) কাজের সময়সীমার প্রায় ৬৬ শতাংশ অতিক্রান্ত হয়েছে। এবার কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশের অপেক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, সংশোধিত বেতন কাঠামো এবং বিভিন্ন ভাতা নিয়ে কী সুপারিশ করা হবে, সেদিকেই নজর তাঁদের। কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে এক কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারেন।

কমিশনের সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে জানানো হয়েছে, চূড়ান্ত সুপারিশের মধ্যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং সংশোধিত বেতন কাঠামোর বিষয়টিও থাকবে। উপকৃতদের মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও রেল বিভাগের কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্তরাও অন্তর্ভুক্ত।

কারা রয়েছেন ৮ম বেতন কমিশনে?

সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ৮ম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন। কমিশনের মেম্বার-সেক্রেটারি হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক পঙ্কজ জৈন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক পুলক ঘোষ, যিনি ফিনান্সের অধ্যাপক এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।

কমিশন গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা। সেই সময়সীমা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ার কথা।

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও বেতন কাঠামোয় কী পরিবর্তন হতে পারে?

৮ম বেতন কমিশনের Terms of Reference বা কাজের পরিধি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। এই নির্দেশিকায় কমিশনকে কর্মীদের বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ও বাস্তবসম্মত পরিবর্তনের সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।

মূলত তিনটি ক্ষেত্রে সুপারিশ করার কথা কমিশনের:

  • বেতন: বেতন কাঠামো এবং Pay Matrix-এ পরিবর্তনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।
  • ভাতা: মহার্ঘ ভাতা বা DA, পেনশনভোগীদের Dearness Relief এবং বাড়িভাড়া ভাতা বা HRA-সহ বিভিন্ন ভাতা পর্যালোচনা।
  • অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি এবং নগদ বা অন্যান্য মাধ্যমে পাওয়া সুবিধাগুলি বিবেচনা।

এ ছাড়াও বর্তমান কাজের ধরন, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং বিশেষায়িত দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন ও সুযোগ-সুবিধার কাঠামো কতটা বদলানো প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন।

এখনও পর্যন্ত কী কাজ হয়েছে?

কমিশনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হয়েছিল মার্চ মাসে। বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে তথ্য, মতামত ও প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে জুলাইয়ে।

কর্মী সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, বিভিন্ন মন্ত্রক, পেনশনভোগীদের সংগঠন-সহ একাধিক পক্ষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই প্রস্তাবগুলি বিশ্লেষণ করেই বেতন কাঠামো, ভাতা এবং পেনশনের হিসাব সংক্রান্ত চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি হওয়ার কথা।

যদিও বিভিন্ন জায়গায় কমিশনের বৈঠকগুলির নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি প্রকাশ করা হয়নি, কর্মী সংগঠনগুলির জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিরক্ষা ও রেল বিভাগের কর্মী-সহ বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলির মতামত কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

কবে কার্যকর হতে পারে নতুন বেতন কাঠামো?

৮ম বেতন কমিশনের কাজের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ১৮ মাস। সেই হিসেবে ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা পড়ার কথা। তবে সুপারিশ জমা পড়লেই যে সঙ্গে সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে, এমনটা নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কার্যকর করতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। সেই হিসেবে ২০২৭ সালে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা হলেও সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ২০২৯ বা ২০৩০ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে।

তবে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হবে, ন্যূনতম বেতন কতটা বাড়বে এবং পেনশন কাঠামোয় কী পরিবর্তন আসবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। কর্মী ও পেনশনভোগীদের সেই অপেক্ষাই এখন সবচেয়ে বেশি।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *