কলকাতায় এবার সিঙ্গাপুরের ছোঁয়া! গঙ্গার ধারে চার লেনের হাইওয়ে - 24 Ghanta Bangla News
Home

কলকাতায় এবার সিঙ্গাপুরের ছোঁয়া! গঙ্গার ধারে চার লেনের হাইওয়ে

Spread the love


কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার শহরের চেহারা পাল্টে দেওয়ার এক বড় পরিকল্পনা(Urban Redevelopment ) নিয়ে এগিয়ে চলেছে। নগরোন্নয়ন ও পুর দফতরের উদ্যোগে জাতীয় ভবন নির্মাণ সংস্থা এনবিসিসির…

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার শহরের চেহারা পাল্টে দেওয়ার এক বড় পরিকল্পনা(Urban Redevelopment ) নিয়ে এগিয়ে চলেছে। নগরোন্নয়ন ও পুর দফতরের উদ্যোগে জাতীয় ভবন নির্মাণ সংস্থা এনবিসিসির সঙ্গে নয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এনবিসিসিকে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের নগর পুনর্গঠনের কাজ শুরু হওয়ার পথ প্রশস্ত হল।

এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কলেজ স্ট্রিটের পুনর্নির্মাণ। বইপাড়া হিসেবে পরিচিত এই এলাকার ঐতিহ্য অটুট রেখে আধুনিক সুবিধা যোগ করার কথা বলা হয়েছে। (Urban Redevelopment )একই সঙ্গে টাংরার চাইনাটাউনকেও নতুন করে সাজানো হবে। সেখানকার চিনা সংস্কৃতি ও পরিবেশ ধরে রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের স্থপতি ও পরামর্শদাতাদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চন্দননগরের নদীতীর উন্নয়নও এই তালিকায় রয়েছে।

আরও দেখুনঃ কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি, কালীপুজোর আগে কতটা নামবে পারদ?

বিধাননগর পুর এলাকায় সরকারি আবাসন পুনর্নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও কাজ, রাজ্যজুড়ে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, হকারদের জন্য সংগঠিত জোন তৈরি, কলকাতার বস্তি পুনর্বাসন এবং নবদ্বীপের ঘাট উন্নয়নও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে বড় পরিকল্পনাটি হল গঙ্গার দুই তীরের উন্নয়ন।

মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের আদলে চার লেনের হাইওয়ে, হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক, হোটেল ও অফিস কমপ্লেক্স গড়ে তোলার কল্পনা করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মেট্রো সংযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। এই ধারণা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গেও শেয়ার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হকারদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হবে। ফুড স্ট্রিট, মোবাইল ভেন্ডিং এবং কিউআর কোড ভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। এতে হকাররা আরও সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবসা করতে পারবেন এবং শহরের পরিচ্ছন্নতাও বজায় থাকবে। বস্তি পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, লন্ডন, ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুরের ভালো দিকগুলো নিয়ে এসে বাংলার নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন করা হবে। শহরকে অন্য কোনো শহরের হুবহু নকল করা নয়, বরং নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে আধুনিক করাই লক্ষ্য। কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ার পরিচয় এবং টাংরার চিনা চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

এই সবই এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা ও সমঝোতা স্তরের বিষয়। কাজ শুরু হতে আরও কিছু সময় লাগবে। বিভিন্ন নগর স্থানীয় সংস্থা ও প্যারাস্ট্যাটাল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে। গঙ্গার তীর উন্নয়নে বন্দর কর্তৃপক্ষ, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টসহ অনেক সংস্থার সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। তাই বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে।

তবুও এই উদ্যোগ শহরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। কলেজ স্ট্রিট আরও পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় হলে ছাত্র-ছাত্রী ও বইপ্রেমীরা উপকৃত হবেন। (Urban Redevelopment)চাইনা টাউন পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। গঙ্গার তীর যদি সত্যিই মেরিন ড্রাইভের মতো হয়ে ওঠে, তাহলে কলকাতা ও হাওড়ার চেহারাই পাল্টে যাবে। সাধারণ মানুষের জন্য হাঁটার জায়গা, সাইকেল চালানোর সুবিধা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *