Bigg Boss Bangla: বাড়িতে ছিল না কারেন্ট, চরম আর্থিক অনটন! বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা রাজবীর, কীভাবে কেটেছে তাঁর শৈশব? | Bigg boss bangla rajveer dey breaks down recalling his fathers tragic death and childhood poverty - 24 Ghanta Bangla News
Home

Bigg Boss Bangla: বাড়িতে ছিল না কারেন্ট, চরম আর্থিক অনটন! বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা রাজবীর, কীভাবে কেটেছে তাঁর শৈশব? | Bigg boss bangla rajveer dey breaks down recalling his fathers tragic death and childhood poverty

Spread the love

‘বিগ বস বাংলা’-র অন্দরমহল মানেই শুধু ঝগড়া বা কূটকচালি নয়। গ্ল্যামারের আড়ালে ঢাকা পড়া প্রতিযোগীদের জীবনের অনেক না-বলা গল্পও মাঝে মাঝে উঠে আসে এই চার দেওয়ালের মাঝে। সম্প্রতি ‘বিগ বস’-এর ঘর থেকে বিদায় নিয়েছেন নন্দিনী দত্ত। আপাতত তিনি রয়েছেন সিক্রেট রুমে। সে কথা অবশ্য হাউজমেটদের অজানা। প্রিয় বান্ধবী আচমকা ঘর ছাড়ায় এমনিতেই মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছেন রাজবীর দে। তবে মন খারাপের এই আবহে মনামী ঘোষের কাছে নিজের জীবনের এক মর্মান্তিক অধ্যায় তুলে ধরলেন তিনি। শোনালেন এমন এক অতীত, যা শুনলে চোখে জল আসতে বাধ্য।

এদিন মনামীর সামনে বসে ছোটবেলার অন্ধকার দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রাজবীর। তাঁর কথায়, “আমার তখন মোটে ৬ বছর বয়স, ক্লাস টু-তে পড়ি। আলিপুরদুয়ারের একটি হোস্টেলে থাকতাম। সে সময় আমাদের পরিবারে চূড়ান্ত আর্থিক অনটন আর চরম অশান্তি। পারিবারিক ঝামেলার জেরে বাবা ক্রমশ ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলেন। অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, ঘরে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়, ব্যবহারের জল পর্যন্ত ছিল না।”

অন্তঃসত্ত্বা মায়ের কথা বলতে গিয়ে রাজবীরের গলা ধরে আসে। তিনি জানান, সেই কঠিন সময়ে তাঁর মা আলিপুরদুয়ারে মামাবাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাজবীরের বাবা সেখানে যাননি। আত্মসম্মানবোধ আর ইগোর কারণে তিনি কারও কাছে মাথা নত করতে চাননি। অভাবের সংসারে একা একাই গুমরে থাকতেন। রাজবীর স্মৃতি হাতড়ে বলেন, “ভাইয়ের তখন সবে চার-পাঁচ দিন বয়স। মা আমাকে পড়াচ্ছিলেন। হঠাৎই মামা এসে এমন কিছু বললেন যে গোটা বাড়ির পরিবেশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। রাতেই তড়িঘড়ি গাড়ি বুক করে আমরা শিলিগুড়ি রওনা দিলাম।”

শিলিগুড়িতে কাকার বাড়িতে পা রেখেই রাজবীর দেখেন, মা, কাকিমা, দিদা—সবাই ডুকরে কাঁদছেন। মামা তখন কানে কানে এসে ছোট্ট রাজবীরকে বলেন, “তোর বাবা আর নেই।” কথাগুলো বলতে গিয়ে আজও শিউরে ওঠেন রাজবীর। তিনি জানান, ওই কথাটা শোনার পর তাঁর চোখ থেকে শুধু অঝোরে জল পড়েছিল। বাবাকে হারানোর সেই রাতটাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ‘শকিং পয়েন্ট’।

নন্দিনী চলে যাওয়ার পর প্রথমদিকে ভেঙে পড়লেও, নিজেকে এখন অনেকটাই সামলে নিয়েছেন রাজবীর। মনের ভিতরে জমে থাকা একবুক কষ্ট এভাবেই মনামীর সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তিনি। অন্যদিকে, সিক্রেট রুমে বসে রাজবীর সহ বাকি প্রতিযোগীদের প্রতিটি পদক্ষেপে কড়া নজর রাখছেন নন্দিনী। আগামী দিনে বিগ বসের ঘরে এই সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *