২০ নাবিক উদ্ধার! এক্স হ্যান্ডেলে ভারতের নৌসেনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাল ইরান - 24 Ghanta Bangla News
Home

২০ নাবিক উদ্ধার! এক্স হ্যান্ডেলে ভারতের নৌসেনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাল ইরান

Spread the love


ভারতের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সাহসী অভিযানে আরব (Indian Navy)সাগরে জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেলেন ইরানের ২০ জন নাবিক। ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি। ইরানের মাছ ধরার জাহাজ…

ভারতের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সাহসী অভিযানে আরব (Indian Navy)সাগরে জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেলেন ইরানের ২০ জন নাবিক। ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি। ইরানের মাছ ধরার জাহাজ আজিনি জলদস্যুদের দখলে চলে যাওয়ার পর ভারতীয় বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। মুম্বাই থেকে তিন হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। দুই দিনের সমন্বিত অপারেশনে সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাস এই সাফল্যের জন্য ভারত সরকার, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে। দূতাবাসের এক টুইটে বলা হয়েছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব, সাহস ও কার্যকর সমন্বয়ের প্রশংসা করছি। এটি মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণে ভারতের অঙ্গীকারের পরিচয় বহন করে। সীমান্তের বাইরেও জীবন রক্ষার ভূমিকা পালন করেছে ভারত। এই মানবিক অভিযান ইরান ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব, সংহতি ও সহযোগিতার মনোভাবের প্রমাণ।

আরও দেখুনঃ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে মাথায় হাত পাকিস্তানের! ক্ষতির মুখে ওষুধ শিল্প

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন।(Indian Navy) তিনি বলেছেন, নৌবাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার অপারেশন চালিয়ে আজিনি জাহাজের সব নাবিককে উদ্ধার করেছে। ভারী অস্ত্রধারী জলদস্যুদের হাত থেকে নাবিক ও জাহাজ নিরাপদে মুক্ত করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর সময়োপযোগী সহায়তা এই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

জাহাজটি সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে জলদস্যুদের দখলে চলে যায়। এটিকে মাদার শিপ হিসেবে ব্যবহার করে অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ভারতীয় নৌবাহিনী দ্রুত সাড়া দেয়। একটি যুদ্ধজাহাজ ও নজরদারি বিমান মোতায়েন করা হয়।

ক্রমাগত নজরদারির মাধ্যমে জাহাজটির অবস্থান নির্ণয় করা হয় এবং এর চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর বিমানবাহিনীর সি-১৭ বিমান থেকে মেরিন কমান্ডোদের প্যারাশুটের মাধ্যমে নামানো হয়। তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নাবিকদের মুক্ত করে।

এই অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। নাবিকরা নিরাপদ অবস্থায় ফিরে এসেছেন। ভারতের এই পদক্ষেপ ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে। দেশটি এই অঞ্চলে প্রথম সাড়াদাতা ও পছন্দের নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে কাজ করে চলেছে।

ইরান-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা চলছে। এই মানবিক অভিযান সেই সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। ইরানের দূতাবাস স্পষ্ট করে বলেছে, এটি দুই দেশের মধ্যে সংহতি ও সহযোগিতার প্রতীক।

জলদস্যু সমস্যা ভারত মহাসাগর অঞ্চলে বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সোমালিয়ার উপকূল থেকে শুরু করে আরব সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো প্রায়ই হুমকির মুখে পড়ে। ভারতীয় নৌবাহিনী গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি সফল উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। এবারও তারা প্রমাণ করেছে যে দূরের সমুদ্রেও তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম।

নাবিকদের পরিবারের কাছে এই খবর নিঃসন্দেহে স্বস্তির। (Indian Navy)সমুদ্রে কাজ করা মানুষেরা সবসময় বিপদের মুখে থাকেন। জলদস্যুদের হাতে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ভারতের এই অভিযান শুধু ইরানি নাবিকদের জীবন বাঁচায়নি, আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছে।

বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক বা জলদস্যু হামলা, ভারত প্রায়ই প্রথম সাড়া দিয়ে থাকে। এই অভিযান সেই ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা। ইরানের ধন্যবাদবার্তা ভারতীয় বাহিনীর সাহস ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *