যাতায়াত থেকে খাওয়া-থাকার খরচ কিছুই মেলেনি— অভিযোগ SAI-এর বিরুদ্ধে , ইউরোপ সফরে বিপাকে শাটলাররা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আর্থিক সমস্যার জেরে সফরের বেশির ভাগ সময় খেলোয়াড়দের নিজেদেরই যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার খরচ বহন করতে হয়েছে। ফিনল্যান্ডের প্রথম প্রতিযোগিতায় থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (BAI)। কিন্তু পরের প্রতিযোগিতাগুলির খরচ খেলোয়াড়দেরই বহন করার কথা ছিল।
এর প্রভাব পড়ে কোর্টেও। কয়েক জন শাটলার খরচের কারণে নিজেদের কোচকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেননি। ফলে ম্যাচের সময় পাশে পাননি পরিচিত কোচকে। ফ্রেঞ্চ ওপেনে বিশ্বের তিন নম্বর আকানে ইয়ামাগুচিকে হারানো অস্মিতা চালিহার পাশে ছিলেন সতীর্থ ইশারানি বড়ুয়া। ডেনমার্ক ওপেনেও কোচ ছাড়াই খেলতে হয়েছিল তন্বী শর্মাকে।
কেন আটকে গিয়েছিল অর্থ বরাদ্দ?
ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কয়েক জন আধিকারিকের ধারণা ছিল, এশিয়ান গেমসে দলের পারফরম্যান্সের সঙ্গে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হওয়ার যোগ থাকতে পারে। আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ২০১৪ সালের পর এই প্রথম ব্যক্তিগত বিভাগে ব্যাডমিন্টনে কোনও পদক জিততে পারেনি ভারত। তবে এশিয়ান গেমসের ফলের সঙ্গে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে তিনি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব জমা দিতে পারেনি ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া। সেই কারণেই অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব হয়নি।
স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও প্রতিযোগিতা শুরুর অন্তত ৩০ দিন আগে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থাকে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব জমা দিতে হয়। আগে এই সময়সীমা ছিল ৯০ ও ৬০ দিন। ক্রীড়া সংস্থাগুলির আবেদনের ভিত্তিতে তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছিল। ওই আধিকারিকের দাবি, খেলোয়াড়দের নাম-সহ প্রয়োজনীয় প্রস্তাব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা পড়েনি। তবে আগামী প্রতিযোগিতাগুলির জন্য অর্থ বরাদ্দ আবার চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। কিন্তু ইউরোপ সফরে খেলোয়াড়রা নিজেদের পকেট থেকে যে টাকা খরচ করেছেন, তা ফেরত দেওয়া হবে না।