বৃথা লড়াই রামিরেজদের, এএফসি নক আউটের স্বপ্ন শেষ লাল-হলুদের

সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: এসিএল টুয়ের ম্যাচে ফের পরাজিত ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। যুবভারতীতে আল সিবের কাছে পরাজিত হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার রাস্তা কার্যত বন্ধ হয়ে গেল…
সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: এসিএল টুয়ের ম্যাচে ফের পরাজিত ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। যুবভারতীতে আল সিবের কাছে পরাজিত হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার রাস্তা কার্যত বন্ধ হয়ে গেল মশাল ব্রিগেডের। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টায়ার টুয়ের পরবর্তী হোম ম্যাচে নেমেছিল আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের ছেলেরা। প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল ওমানের শক্তিশালী আল সিব ফুটবল দল। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হল গতবারের আইএসএল জয়ীরা। গোটা ম্যাচ জুড়ে অনবদ্য ফুটবল খেললেও শেষ মুহূর্তে টানা দুইটি গোল হজম করে ময়দানের এই প্রধান।
তারপর আর ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ ছিল না। প্রতিপক্ষ দলের হয়ে গোল করেন যথাক্রমে অ্যাক্সেল মেয়ো এবং জাহির আল-আঘবারি। কিন্তু এদিন শুরুটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। প্রথম থেকেই যথেষ্ট আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল দলকে। যারফলে একাধিকবার বলে সহজ সুযোগ চলে এসেছিল ফুটবলারদের কাছে। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। ম্যাচের দশ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ এসে গিয়েছিল কলকাতা ময়দানের এই প্রধানের কাছে। মহম্মদ রশিদের পাস থেকে গোলমুখী শট নিয়েছিলেন দানি রামিরেজ। কিন্তু বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। সেকেন্ড পোষ্টের পাশ থেকে বল গড়াতে গড়াতে চলে গিয়েছিল মাঠের বাইরে।
পরবর্তীতে সকলকে চিন্তায় ফেলে মাত্র ১৭ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়েন লাল-হলুদের অন্যতম ভরসাযোগ্য ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি। মূলত হ্যামস্ট্রিংয়ের কারণেই তাকে তুলে নিতে বাধ্য হন হাবাস। বিকল্প হিসেবে মাঠে আসেন সন্দীপ মান্ডি। তারপর ও বেশ কয়েকবার মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ সংগঠিত করে ফের গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। বিশেষ করে ২০ মিনিটের মাথায় এডমুন্ডের ক্রস থেকে রশিদ দুরন্ত হেড করলেও বল গোলে রাখতে ব্যর্থ হন। এমন সুযোগ নষ্ট যথেষ্ট হতবাক করেছে সকল সমর্থকদের। পরবর্তীতে আল সিবের তরফে একেবার আক্রমণ সংগঠিত হলেও লাচেনপার সক্রিয়তায় বিপদ ঘটেনি। প্রথমার্ধের নির্ধারিত পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যে ফের গোলের সুযোগ আসলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি জয় গুপ্তা।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম থেকে ও দেখা গিয়েছিল প্রায় একই ছবি। দুই উইং থেকে আক্রমণ শানিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বারংবার হানা দিতে দেখা গিয়েছিল এডমুন্ড লালরিন্ডিকা থেকে শুরু করে দানি রামিরেজদের। কিন্তু গোলের মুখ খোলা সম্ভব হয়নি কিছুতেই। এমন পরিস্থিতিতে গোল তুলে নিতে বেশকিছু বদল করেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ডেভিড লালহানসাঙ্গার বিকল্প হিসেবে মাঠে আসেন একে আর্নল্ড লোবা। তারপর লুকাস জেলেন্সকির পাশাপাশি রোহিত কুমার, হর্দিক ভাটরা মাঠে আসলেও খুব একটা সুবিধা করা যায়নি। বরং ম্যাচের অন্তিম লগ্নে প্রতি আক্রমণে এসে সুযোগ বুঝেই লাচেনপাকে পরাস্ত করে যান মেয়ো।
নব্বই মিনিটের পর ম্যাচ রেফারির তরফে যুক্ত করা অতিরিক্ত পাঁচ মিনিটের মধ্যে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছিল মশাল ব্রিগেডকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই দ্বিতীয় গোল করে যান জাহির। একের পর এক গোলের সহজ সুযোগ নষ্টের খেসারত যে এভাবে দিতে হবে সেটা হয়তো ভাবতে ও পারেননি লাল-হলুদ কোচ।
Get the Latest Cricket, Asian Games 2026, Football , Hockey, Badminton Scores, F1 Results at Kolkata24x7 Sports. Like Us On Facebook Or Follow Us On Twitter For More Sports Updates.