‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ লেখা থাকলেই কি গ্রিন ক্র্যাকার? কী ভাবে কিনবেন সবুজ বাজি? - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ লেখা থাকলেই কি গ্রিন ক্র্যাকার? কী ভাবে কিনবেন সবুজ বাজি?

Spread the love

দীপাবলিতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাজি ফাটানো নিয়ে একাধিক নির্দেশিকা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাজ্য-প্রশাসন দীপাবলিতে বাজি ফাটানো নিয়ে নানা গাইডলাইন মানার নির্দেশ দিয়েছে।

নিয়ম মেনে কোথায়, কখন এবং কোন ধরনের বাজি ফাটানো যাবে, তাও বলা হয়েছে। এই নিয়ে কিছু দিন আগেই নবান্নর তরফে বেশ কিছু নিয়ম মানতে বলা হয়েছে। যেখানে গ্রিন ক্র্যাকার বা সবুজ বাজির কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু এখনও অনেকেই বাজারে গেলে বেশ বিভ্রান্ত হয়ে যান কোনটি সবুজ বাজি? অনেক বাজি ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাদের সবুজ বাজির বদলে অনেকে সময়ে অন্য বাজি বিক্রি করেন। তাই বাজারে যাওয়ার আগে কোনগুলি সত্যিকারের গ্রিন ক্র্যাকার, তা চিনবেন কী ভাবে?

কী এই গ্রিন ক্র্যাকার?

গ্রিন ক্র্যাকার হলো এমন বাজি, যেগুলি প্রচলিত বাজির তুলনায় কম দূষণ ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট ধরনের গ্রিন ক্র্যাকারে প্রচলিত বাজির তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দূষণ কম করে। তবে সব বাজির ক্ষেত্রে দূষণ কমার পরিমাণ এক নয়।

এই বিষয়ে চম্পাহাটির বাজি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাদল মণ্ডল জানিয়েছেন, গ্রিন ক্র্যাকার বা সবুজ বাজি বাছাই করা ক্রেতাদের পক্ষে একটু সমস্যার। ক্রেতারা অনেক সময়েই তা বুঝতে পারেন না। তবে সে ক্ষেত্রে কিছু কোড, স্ক্যানার দেওয়া থাকবে, তাতে স্ক্যান করলেই ক্রেতারা বুঝতে পারবেন কোনটি গ্রিন ক্র্যাকার। পাশাপাশি, এগুলি শব্দ কম করে ও দূষণও কম ঘটায়।

কী ভাবে চিনবেন আসল গ্রিন ক্র্যাকার?

গ্রিন ক্র্যাকার কেনার আগে একটি বিষয় মাথায় রাখুন। CSIR-NEERI-এর ওয়েবসাইটে আপনি গ্রিন ক্র্যাকারের একটি লিস্ট পাবেন। সেখান থেকে আপনি দেখে নিতে পারেন কোনগুলি গ্রিন ক্র্যাকার।

তবে, এটি ছাড়া খুব সহজে আরও একটি বিষয় দেখে আপনি গ্রিন ক্র্যাকার কিনতে পারেন। কেনার সময় তিনটি বিভাগের নাম মনে রাখুন—SWAS, SAFAL এবং STAR। এগুলি CSIR-এর তৈরি নির্দিষ্ট ধরনের সবুজ বাজি।

SWAS: এর পুরো নাম Safe Water Releaser। বাজি ফাটার পরে জলীয় বাষ্প ছড়িয়ে ধূলিকণা কমাতে সাহায্য করার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে।

SAFAL: Safe Minimal Aluminium। এতে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার কমানো হয়, যাতে শব্দদূষণ কমে।

STAR: Safe Thermite Cracker। এটিও দূষণ ও শব্দ কমায়।

প্যাকেটে CSIR-NEERI-এর লোগো এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। বাজির প্যাকেটের গায়ে কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থা ‘নিরি’ (National Environmental Engineering Research Institute)-র লোগো থাকলে সেটা সবুজ বাজি।

এ বছর প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে বাংলার বিভিন্ন বাজারে QR কোড দেওয়া থাকবে, তা স্ক্যান করেও CSIR-NEERI-এর লিস্টে যে সবুজ বাজিগুলো আছে, তা দেখতে পারবেন। শুধু সবুজ রং বা ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ লেখা দেখেই কোনও বাজিকে আসল গ্রিন ক্র্যাকার ভাববেন না।

বাজি কেনার আগে কী মাথায় রাখবেন?

রাস্তার অস্থায়ী বিক্রেতার বদলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান থেকে বাজি কিনুন। প্যাকেটের পরিচয়, প্রস্তুতকারকের তথ্য ও QR কোড যাচাই করুন।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এর আগে জানিয়েছেন, মানতে হবে ‘সাইলেন্স জ়োন’-এ শব্দবাজি না পোড়ানোর নিষেধাজ্ঞা। সাইলেন্স জ়োনে রয়েছে স্কুল, হাসপাতাল, বৃদ্ধাবাস। হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দবাজি পোড়ানো যাবে না। ‘সাইলেন্স জ়োন’-এ নীরবতা বজায় রাখতে প্রশাসন নজরদারি চালাবে।

স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে বাজি ফাটান। সব জায়গায় সব ধরনের বাজি ব্যবহারের অনুমতি থাকে না। খোলা জায়গায় বাজি ফাটান, জুতো পরুন এবং হাতের নাগালে জল রাখুন। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী মহিলা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের বাজির ধোঁয়া থেকে দূরে রাখুন। গ্রিন ক্র্যাকার তুলনামূলক কম দূষণকারী হতে পারে, কিন্তু একেবারে নিরাপদ তা নয়। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বাজির ব্যবহার যতটা সম্ভব কমানোই সবচেয়ে ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *