ভোটে হারলেই ‘মিস্টার ভেটো’, আজ ভোট-পরীক্ষা ট্রাম্পেরও
এই সময়: আজ ভোট-পরীক্ষা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও! আজ, ৩ নভেম্বর মিড টার্ম ইলেকশনে নামছে আমেরিকা। আগ বাড়িয়ে ইরান-যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে শুরু করে একের পর এক দেশের উপরে ট্যারিফ চাপানো কিংবা অভিবাসন ইস্যুতে তাঁর ধারাবাহিক কড়া পদক্ষেপ— মোটের উপরে প্রেসিডেন্টকে নিয়ে একেবারেই খুশি নন মার্কিন ভোটারদের একটা বড় অংশ। এই আবহেই হচ্ছে ভোট। না, এই নির্বাচন সরাসরি প্রেসিডেন্ট বাছাইয়ের ভোট নয়। সেই অর্থে ট্রাম্পের কুর্সি যাওয়ারও কোনও চান্স নেই।
তবে এই ভোটের ফলই নির্ধারণ করবে, আগামী ২ বছর প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তাঁর ডানা ছাঁটা পড়বে কি না। ট্রাম্প যেন সবের জন্যই তৈরি। আমেরিকানরা ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর ঠিক আগের দিন মার্কিন এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডন বলেই দিলেন— ডেমোক্র্যাটরা ভোটে জিতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে তিনিও কিন্তু ‘মিস্টার ভেটো’ হয়ে উঠবেন।
মানেটা কী? সহজ করে বুঝিয়ে দিলেন ডন— ‘ডেমোক্র্যাটরা একের পর এক বিল পাঠানো শুরু করলেই আমি প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতাবলে পরপর সেগুলিতে ভেটো দিতে শুরু করব। আমরাই হয়তো জিতব। কোনও কারণে সেটা না হলে, আমি সব কিছুতেই ভেটো দেব। শুধু ভেটো আর ভেটো দিতেই থাকব।’ তাতে লাভ? ট্রাম্পের ব্যাখ্যা— ‘এ ভাবে এক-দু’মাস ধরে তাদের বিল আটকে থাকলে আমার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে।’
এই মুহূর্তে আইন প্রণয়নকারী মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষই (সেনেট ও হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস) রিপাবলিকানদের দখলে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট টার্মের মাঝামাঝি এই মিডটার্ম ইলেকশনের ফলে পাশা পাল্টে গেলে? সিঁদুরে মেঘ দেখছেন রিপাবলিকানরা। কারণ নির্বাচনের ঠিক আগে একাধিক সমীক্ষায় ট্রাম্পের দলের পক্ষে উদ্বেগজনকই ছবি উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পাঁচটি রাজ্যে সেনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরাই লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন বলে দাবি জনমত সমীক্ষায়। কোথাও কোথাও এগিয়ে রিপাবলিকানরা, কোথাও আবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস রয়েছে।
এই আবহে ট্রাম্পের ‘ভেটো-বার্তা’ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প কি তা হলে ধরেই নিচ্ছেন যে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ খোয়াতে চলেছে তাঁর দল? অতীতেও রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমঝোতার নজির রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এ বারও কোনও এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি হবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
শেষমেশ কী হবে, সেটা সময়ই বলবে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদেও ভোট হবে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষা অনুযায়ী, আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, ওহায়ো এবং টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। পাঁচটির মধ্যে তিনটি রাজ্যে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা। এনপিআর, পিবিএস নিউজ়-এর আলাদা সমীক্ষাতেও জাতীয় স্তরে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ৫২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে এবং ৪৪ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ফলপ্রকাশ হলে সবই উল্টে যেতে পারে।
সমীক্ষার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পাঁচ রাজ্যের ৫৭ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজকর্মে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২১ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনীতিই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মূল্যবৃদ্ধি, প্রার্থীর যোগ্যতা এবং অভিবাসন নীতিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।