Plane Crash: 'হাতে আর সময় নেই', গগনভেদী আর্তনাদ! তারপরই ৩৫ ফুট উচ্চতা থেকে রাস্তায় আছড়ে পড়ল বিমান, ঝলসে মৃত্যু ৯ জনের | Florida Plane Crash: Learjet 60's Chilling Final Radio Messages Before Deadly Crash - 24 Ghanta Bangla News
Home

Plane Crash: ‘হাতে আর সময় নেই’, গগনভেদী আর্তনাদ! তারপরই ৩৫ ফুট উচ্চতা থেকে রাস্তায় আছড়ে পড়ল বিমান, ঝলসে মৃত্যু ৯ জনের | Florida Plane Crash: Learjet 60’s Chilling Final Radio Messages Before Deadly Crash

Spread the love

দাউ দাউ করে জ্বলছে বিমানImage Credit: Tv9 Bangla

ফ্লোরিডা: ‘আমাদের হাতে আর সময় নেই।’ ফ্লোরিডার বিমান দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে রেডিয়ো বার্তায় ভেসে এসেছিল এই গগনভেদী আর্তনাদ। বিপদবার্তা দিতে চেয়েছিলেন পাইলট। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। পাইলটের একের পর এক বার্তা, আর তার ঠিক পরেই বিকট শব্দ। এক মুহূর্তে সব শেষ। প্রায় ৩৫ ফুট উচ্চতা থেকে ফ্লোরিডার রাস্তায় ভেঙে পড়া বিমানটি। তারপরই তাতে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় বিমানে। ঘটনায় মৃত্যু হয় ৯ জনের। ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকরসের একটি আবাসিক এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঠিক কীভাবে বিমান দুর্ঘটনা?

জানা গিয়েছে, লিয়ারজেট ৬০ বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামার নর্থ এলিউথেরার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় বিমানটিতে প্রবল ঝাঁকুনি হয়। বরফ এবং বৃষ্টিপাতের মুখে পড়ে। এরপর আরও দুই হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার অনুমতি চায় পাইলট। জানা গিয়েছে, এর আগে পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানিয়েছিলেন, “হালকা, স্বচ্ছ বরফ জমছে, যা সামাল দেওয়া সম্ভব। তবে মাঝারি মাত্রায় ঝাঁকুনি হচ্ছে।” কিন্তু বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকে।

বিমানের ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ডিং অনুযায়ী, প্রথমে প্রায় ৪১ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠে বিমানটি। এরপরই শুরু হয় ভয়াবহ পতন। প্রথমে প্রতি মিনিটে প্রায় ১০ হাজার ফুট, পরে ২০ হাজার ফুট এবং শেষ পর্যন্ত ৩০ হাজার ফুটেরও বেশি গতিতে নীচে নামতে থাকে বিমানটি। শেষ পর্যায়ে প্রতি মিনিটে ৩২ হাজার ফুটেরও বেশি গতিতে উচ্চতা হারাচ্ছিল ওই বিমান। এদিকে, দ্রুত নীচে নামার সময় আচমকাই ডান দিকে তীব্র বাঁক নেয় বিমানটি। শেষবার বিমানের সংকেত পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ ফুট উচ্চতায়।

দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে পাইলটের বার্তা

বিমান ভেঙে পড়ার আগে শেষ কয়েক মিনিটের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ডিংয়ে ধরা পড়েছে ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার মুহূর্তের ছবি। দেখা গিয়েছে, ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল আবহাওয়া। বিমানের মধ্যে বাড়ছিল ঝাঁকুনি, জমছিল বরফ। দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকায় বারবার বিপদবার্তা পাঠান বিমানের পাইলট ও ক্রু সদস্যরা। পাইলটকে বলতে শোনা যায়, “আমরা ৮ হাজার ফুট নীচে নামছি। মে-ডে, মে-ডে! প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট করে নীচে নামছি।”

এর কয়েক মুহূর্ত পরেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পাইলট বলেন, “আমরা ওভারস্পিড পরিস্থিতিতে রয়েছি। প্রতি মিনিটে ২০ হাজার ফুট করে নীচে নামছি।” এরপরই শোনা যায়, “আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে চলেছি।” বিমানের শেষ মুহূর্তের আরও একটি রেডিও বার্তায় এক মহিলা ক্রু সদস্যকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আমাদের হাতে আর সময় নেই।” বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে থাকায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের আধিকারিকরাও যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু, শেষরক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

প্রকাশ্যে এল ঘটনার ভয়াবহ ভিডিয়ো

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে দুর্ঘটনা মুহূর্তের ভয়াবহ কিছু ভিডিয়ো। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি টিভি৯ বাংলা। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, দিনের বেলা। কোনও একটি এলাকার রাস্তা, যেখানে গাড়ি চলাচল করছে। তারপরই দেখা গেল আচমকাই আকাশ থেকে দ্রুত নীচে নেমে আসছে একটি বিমান। সেকেণ্ডের মধ্যে তা মাটিতে আছড়ে পড়ে। আর মুহূর্তের মধ্যে তাতে বিস্ফোরণ ঘটে ও আগুন ধরে যায়।

আরও একটি ভিডিয়োতে দেখা গেল, দুর্ঘটনাস্থলে রাস্তায় তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত। চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং কংক্রিটের টুকরো। দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। আকাশে উঠছে কালো ধোঁয়া। আতঙ্কিত বাসিন্দারা ভিড় করেছেন আশপাশে।

দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশে বেশ কিছু বাড়ি রয়েছে। সেক্ষেত্রে আরও মানুষের প্রাণহানি হতে পারত। একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ফ্লোরিডার এক মহিলা ও তাঁর ছেলে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময়ই বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে তাঁদের বাড়ি।

দুর্ঘটনাস্থলটি মার-আ-লাগো থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ মাইল পশ্চিমে এবং ওয়েস্ট পাম বিচের একটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৪ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। দুর্ঘটনার এক ঘণ্টারও বেশি আগে ওই বিমানবন্দর থেকেই রওনা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঠিক কী কারণে বিমানটি ভেঙে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *