সরছে না চেকপোস্ট, ম্যারাথন বৈঠকে আংশিক দাবি মেটায় উঠল ধর্না
এই সময়,আলিপুরদুয়ার: দীর্ঘ চার ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পর ২৭ দিন ধরে চলা রাজাভাতখাওয়া চেকপোস্টের পাশে বক্সার ১৮টি গ্রামের যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের ধর্না আপাতত স্থগিত রাখা হলো। রবিবার ডুয়ার্সকন্যার বৈঠকে বনবস্তিবাসীদের বেশ কিছু দাবি প্রশাসন মেনে নেওয়ায় এবং কিছু দাবি নিয়ে নমনীয় মনোভাব দেখানোয় আন্দোলন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবিমতো জয়ন্তীতে সাফারি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও রাজাভাতখাওয়ায় চেকপোস্ট সরাতে রাজি নয় প্রশাসন। ফলে ধর্না স্থগিত হলেও কাঁটা কিন্তু রয়ে গেল।
এদিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের বনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ–সহ আলিপুরদুয়ার ও মাদারিহাটের বিধায়করা। এছাড়া প্রশাসনের তরফে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক ময়ূরী ভাসু, পুলিশ সুপার অমিতকুমার শাহ, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল ও বক্সা পূর্ব বিভাগের উপক্ষেত্র অধিকর্তা দেবাশিস শর্মা।
বৈঠকে দু’পক্ষ তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক সময় বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামেন সাংসদ মনোজ টিগ্গা। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় যে, আপাতত জয়ন্তী থেকে জিপ সাফারির অনুমতি দেওয়া হবে। সেখানকার কাউন্টার থেকেই মিলবে সাফারির টিকিট। কোনও পর্যটক যদি জয়ন্তীর হোম স্টেগুলিতে রাত্রিবাস করেন, তবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলবে না বন দপ্তর। তবে রাজাভাতখাওয়া চেকপোস্ট তোলা হবে না। তবে এখন থেকে বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দা ও তাঁদের আত্মীয়দের কাছ থেকে কোনও প্রবেশ মূল্য নেবে না বন দপ্তর। অকারণে কেউ যদি হেনস্থার শিকার হন, তবে সেই অভিযোগ সরাসরি জানাতে হবে বনমন্ত্রীকে। ২০০৬–এর অরণ্যের অধিকার আইন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে জেলাশাসক ময়ূরী ভাসুর নেতৃত্বে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গড়ার নির্দেশ দিয়েছেন বনমন্ত্রী।
আগামী ১৮ থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে ওই কমিটির প্রথম বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটিতে বনবস্তিবাসীদের মধ্য থেকে কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা ঠিক করবে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ। মঞ্চের অন্যতম নেতা অয়ন নাইডু বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলির খুব সামান্যই মানা হয়েছে। তবুও আমরা মনে করছি এটা একটা সদর্থক দিক। বনমন্ত্রী যেহেতু ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছেন, আমরাও বৃহত্তর স্বার্থে আপাতত ধর্না প্রত্যাহার করছি। কিন্তু দাবি থেকে সরছি না। দরকারে এর থেকেও বড় পরিসরের আন্দোলন করা হবে।’
বনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বনবস্তিবাসীদের পাশেই আছি। তাঁদের দাবিগুলি মর্যাদার সঙ্গে ভাবা হচ্ছে। অরণ্যের অধিকার আইন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজাভাতখাওয়ায় প্রবেশ মূল্য কমানোর প্রস্তুতিও শুরু করা হয়েছে। তবে কোনও মূল্যেই চেকপোস্ট তোলা হবে না।’ বাঘিনী আনার পরে বক্সায় পর্যটকের হার বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল। তিনি বলেন, ‘গত ১৪ দিনে সাড়ে পাঁচ হাজার পর্যটক বক্সায় এসেছেন।পর্যটকদের নিয়ে ২১৪টি সাফারি ট্রিপ হয়েছে।’