'বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে ভারত!' মত কানাডার কার্নির - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে ভারত!’ মত কানাডার কার্নির

Spread the love


নয়াদিল্লি: কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ভারতকে সাধারণ মধ্যম শক্তি হিসেবে দেখতে নারাজ।(Mark Carney) তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমি ভারতকে মধ্যম শক্তি বলব না। কানাডা সেই…

নয়াদিল্লি: কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ভারতকে সাধারণ মধ্যম শক্তি হিসেবে দেখতে নারাজ।(Mark Carney) তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমি ভারতকে মধ্যম শক্তি বলব না। কানাডা সেই তকমা নিয়ে খুশি থাকবে। ভারতের গতিপথ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ আলাদা।” এই মন্তব্যে তিনি ভারতের ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী মর্যাদা ও বিশ্বমঞ্চে তার উচ্চ লক্ষ্যকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

কার্নির তার ভারত সফরে এই মন্তব্য করেছেন। তিনি নয়াদিল্লি ও মুম্বইয়ে সরকারি ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফর হয়। আগে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও এখন নতুন করে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। কার্নি ভারতকে শুধু অর্থনৈতিক অংশীদার নয়, বিশ্বমঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখছেন।

আরও দেখুনঃ বিজেপি শাসিত রাজ্যে অবৈধ মদের কারবার আটকাতে গিয়ে গাড়ির চাকায় পিষ্ট পুলিশ আধিকারিক

মধ্যম শক্তি বলতে সাধারণত এমন দেশকে বোঝায় যাদের প্রভাব আছে কিন্তু মহান শক্তির সমতুল্য নয়। কানাডা নিজেকে সেই শ্রেণিতে রাখে। (Mark Carney)কিন্তু কার্নি মনে করেন ভারতের অবস্থান ভিন্ন। ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জনসংখ্যা, সামরিক সক্ষমতা ও কূটনৈতিক প্রভাব তাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের ভূমিকা আজ আন্তর্জাতিক বিষয়ে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

কার্নির মন্তব্যে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে ভারত শুধু আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং বিশ্ব নেতৃত্বের দাবিদার। জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কানাডাও এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে চাইছে।

এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে কানাডার নিজস্ব কৌশলগত চিন্তা। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক চাপের মুখে কানাডা বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। (Mark Carney)ভারত সেই তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির আলোচনা চলছে। বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ হচ্ছে। জ্বালানি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কার্নির এই স্বীকৃতি ভারতের জন্য গর্বের বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে বিশ্বের অনেক নেতাই এখন ভারতকে নতুন চোখে দেখছেন। একসময় যে দেশকে উন্নয়নশীল বা মধ্যম শক্তি বলা হত, আজ সেই দেশ বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভারতের যুবসমাজ, ডিজিটাল বিপ্লব ও উৎপাদন ক্ষমতা এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।

কূটনৈতিক মহলে এই মন্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পথ প্রশস্ত করবে। ভারত ও কানাডার মধ্যে জনগণের যোগাযোগও গভীর। প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায় কানাডায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও জোরদার হলে দুই দেশই উপকৃত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *