দিল্লি মেট্রোতে খালিস্তানি স্লোগান! গ্রেফতার মহিলা সহ ৩
নয়াদিল্লি: দিল্লি মেট্রোর (Delhi Metro)দুটি স্টেশনে খালিস্তানপন্থী স্লোগান লিখে চাঞ্চল্য ছড়ানোর ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। এই ঘটনায় এক মহিলা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।…
নয়াদিল্লি: দিল্লি মেট্রোর (Delhi Metro)দুটি স্টেশনে খালিস্তানপন্থী স্লোগান লিখে চাঞ্চল্য ছড়ানোর ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। এই ঘটনায় এক মহিলা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’ (SFJ)-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন হ্যান্ডলারের নির্দেশেই অভিযুক্তরা দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনগুলিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান লিখেছিল।
এই কাজের বিনিময়ে তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের ডেপুটি কমিশনার নারা চৈতন্য রবিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৯ অক্টোবর জাহাঙ্গিরপুরী মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে প্রথম খালিস্তানপন্থী স্লোগান নজরে আসে। পরদিন শাস্ত্রী নগর মেট্রো স্টেশনের দুই নম্বর গেটের কাছে সিঁড়ির ভিতরের দেওয়ালেও একই ধরনের গ্রাফিতি দেখতে পাওয়া যায়।
ওই লেখাগুলিতে SFJ এবং খালিস্তানি মতাদর্শের উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসতেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে তৎপরতা বাড়ে। তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল।
তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক। প্রাথমিক তদন্তে সুমীত নামে এক ব্যক্তির সন্ধান পায় পুলিশ। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য সূত্র ধরে আরও দু’জনের জড়িত থাকার তথ্য সামনে আসে।
ধৃতদের পরিচয় সুমীত ওরফে রাফতার (৩০), হরিয়ানার পানিপথের বাসিন্দা, সুমিত কুমার ওরফে কাকা (২২) এবং পঞ্জাবের বাসিন্দা গুরপ্রীত (২২) বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে গুরপ্রীত একজন মহিলা। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে নিষিদ্ধ SFJ সংগঠনের যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্ক ছিল এবং সেই সূত্রেই দিল্লিতে এই নাশকতামূলক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা করা হয়।
ডেপুটি কমিশনার নারা চৈতন্য জানিয়েছেন, সুমিত কুমার ওরফে কাকাকে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, লুধিয়ানা ও গুরুদাসপুরে SFJ-র সমর্থকদের সংস্পর্শে এসে তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন। (Delhi Metro)পরে এক সহযোগী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলে।
সেই অ্যাপের মাধ্যমেই বিভিন্ন নির্দেশ ও কাজের বিবরণ পাঠানো হত বলে অভিযোগ। SFJ-র এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ওই প্ল্যাটফর্মে গ্রাফিতি লেখার নির্দিষ্ট নকশা বা টেমপ্লেট পাঠিয়েছিলেন বলেও দাবি তদন্তকারীদের। বিনিময়ে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনগুলিতে স্লোগান লেখার জন্য মোটা অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এরপর কুমার সুমীত এবং গুরপ্রীতকে এই কাজে যুক্ত করেন। সুমীতের সঙ্গে কুমারের পরিচয় হয়েছিল অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। (Delhi Metro)অন্যদিকে, প্রায় চার বছর আগে পানিপথের সমালখায় একটি হোটেলে কাজ করার সময় গুরপ্রীতের সঙ্গে কুমারের পরিচয় হয়। পরে তাঁরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। গুরপ্রীত পঞ্জাবের জিরাকপুরে একটি স্যালোঁয় কাজ করার পাশাপাশি পঞ্জাব ও হরিয়ানার বিভিন্ন হোটেল এবং আতিথেয়তা সংস্থায়ও কাজ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে সুমীত লুধিয়ানায় যান। সেখান থেকেই তিনজন একটি ট্যাক্সিতে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। ২৯ অক্টোবর তাঁরা কাশ্মীরি গেটের আইএসবিটি বাস টার্মিনালে পৌঁছন। এরপর কুমারের নির্দেশে সুমীত জাহাঙ্গিরপুরী মেট্রো স্টেশনে গিয়ে দেওয়ালে স্লোগান লেখেন।
শুধু তাই নয়, গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে তা নিজের হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। অন্যদিকে, ২৮ ও ২৯ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে কুমার ও গুরপ্রীত শাস্ত্রী নগর মেট্রো স্টেশনে একই ধরনের দেওয়াল লিখনের কাজ করেন বলে দাবি পুলিশের।
এখানেই শেষ নয়। তদন্তে আরও একটি ঘটনার সূত্র পেয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, ৩০ অক্টোবর সমায়পুর বাদলি থানার অধীন GTK বাইপাসের কাছেও সুমীত খালিস্তানপন্থী গ্রাফিতি লিখেছিলেন। যদিও ওই ঘটনার তদন্ত আলাদাভাবে করা হচ্ছে। পুলিশের বক্তব্য, গুরপ্রীতকে মূলত কেনাকাটার কথা বলে দিল্লিতে নিয়ে এসেছিলেন কুমার। পরে তাঁকে এই দেওয়াল লিখনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয় বলে অভিযোগ।