বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের তাণ্ডব, হাসিনা ও ভারতকে দুষছেন মন্ত্রীরা - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের তাণ্ডব, হাসিনা ও ভারতকে দুষছেন মন্ত্রীরা

Spread the love


ঢাকা: বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা তৈরি পোশাকশিল্প এখন বড়সড় অস্থিরতার মুখে। ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত তিন দিন ধরে একাধিক শিল্পাঞ্চলে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির জেরে সপ্তাহান্তে অন্তত ৫২৯টি কারখানায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়। কর্মস্থল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন প্রায় ৯ লক্ষ ৮৭ হাজার শ্রমিক।

গাজিপুর থেকে মিরপুর, অশান্ত একাধিক শিল্পাঞ্চল

গত ৩১ অক্টোবর থেকে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। গাজিপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় ১৫টি গাড়ি।

পরের দিন ঢাকার মিরপুরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইট-পাথর ছোড়ার পাশাপাশি পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। মিরপুর ও পল্লবী এলাকার কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখতে হয়। গাজিপুরের কোনাবাড়িতে পুলিশের একটি বক্সে আগুন লাগানো হয়। কালিয়াকৈরে পুড়িয়ে দেওয়া হয় পোশাকশিল্পের বর্জ্য রাখার গুদাম ও একটি পিকআপ ভ্যান। সাভার ও আশুলিয়াতেও কারখানায় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।

২ নভেম্বরও বিক্ষোভ থামেনি। গাজিপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক নতুন করে অবরোধ করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ১০ প্লাটুন বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন ক্ষোভ শ্রমিকদের?

আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, মাসিক ন্যূনতম বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষবার বেতন সংশোধন করা হয়েছিল। কিন্তু খাদ্য, বাড়িভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে শ্রমিকদের বক্তব্য।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৩.৪ শতাংশ হতে পারে। মূল্যবৃদ্ধি, দুর্বল বিনিয়োগ ও রফতানি কমে যাওয়াকে অর্থনীতির মন্থরগতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। অন্য দিকে, মালিকপক্ষের একাংশের বক্তব্য, ন্যূনতম বেতন এক ধাক্কায় ৩০ হাজার টাকা হলে বহু কারখানার পক্ষে উৎপাদন চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

আন্দোলনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রবিবার ছ’সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানান শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তবে তাতেও বিক্ষোভ কমেনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

আন্দোলনের পিছনে রাজনৈতিক মদত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দাবি, সীমান্তের ওপার থেকে কিছু ব্যক্তি অশান্তিতে উস্কানি দিচ্ছেন। আওয়ামি লিগের সঙ্গে যুক্ত কারখানার মালিক এবং প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও শ্রমিকদের ক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্য দিকে, তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান জামাত-এ-ইসলামি ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।

তবে অশান্তির পিছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেনি ঢাকা। ফলে এক দিকে শ্রমিকদের বেতন ও কাজের পরিবেশের দাবি, অন্য দিকে উৎপাদন ও রফতানি সচল রাখার চাপ, দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে।

তারেক ভারতে না এলে গঙ্গার জল বন্টনে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট করল মোদী সরকার

‘দিল্লি নয়, ঢাকা’ স্লোগানে উত্তাল বাংলাদেশ, তারেকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ভারত-বিরোধী আওয়াজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *