এক QR কোডেই কেল্লাফতে, ৩ ঘণ্টায় অপহরণের ‘মিস্ট্রি সল্ভড’ পুলিশের
১৩ বছরের কিশোরকে অপহরণ করা হয়েছিল। মুক্তিপণের জন্য চাওয়া হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা। দুষ্কৃতীদের ধরতে ছোট্ট ফাঁদ পেতেছিল পুলিশ। তাতেই ধরা পড়ল অভিযুক্ত। দিল্লির পুলিশের অভিযানে মাত্র তিন ঘণ্টাতেই উদ্ধার সেই কিশোর।
NDTV-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর দিল্লির শাহদরা এলাকার জ্যোতি নগর থানায় ছেলের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে হাজির হন এক মহিলা। সেই মহিলা জানান, তাঁর ১৩ বছরের ছেলে কিছু জিনিসপত্র কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি ফেরেনি। এর মধ্যেই ওই মহিলার কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি জানায়, তাঁর ছেলেকে আটকে রাখা হয়েছে। ছেলেকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে হলে ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে।
সেই মহিলার অভিযোগ পাওয়ার পরেই কিশোরকে উদ্ধার করতে বিশেষ টিম গঠন করে পুলিশ। সেই মহিলাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, অপহরণকারীরা ফোন করলে অনলাইনে তাদের টাকা পাঠানোর ব্যাপারে রাজি করানোর জন্য। অপহরণকারীদের তরফে একটি কিউআর কোড পাঠানো হয়। অপহরণকারীর দেওয়া QR কোডে একজন পুলিশকর্মীর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমে ৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়। ওই লেনদেনের ডিজিটাল সূত্র ধরে টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা খুঁজে বের করাই ছিল পুলিশের প্রাথমিক লক্ষ্য।
দেখা যায়, টাকাটি পৌঁছেছে দিল্লির করওয়াল নগরের একটি সাইবার ক্যাফের মাধ্যমে। এর পরে সাইবার ক্যাফের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, এক ব্যক্তি একটি নাবালককে সঙ্গে নিয়ে সেখানে এসেছিল। ওই ব্যক্তি ক্যাফের UPI QR কোড ব্যবহার করে ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে। বিনিময়ে ক্যাফের মালিককে ৫০ টাকা কমিশন দেওয়ার কথা ছিল।
এ বার নতুন করে ফাঁদ পাতে পুলিশ। অপহরণকারীকে QR কোডে ফের ৫ হাজার টাকা পাঠানোর কথা জানায় পুলিশ। অনুমান ছিল, সেই টাকা নিতে সাইবার ক্যাফেতে ফের আসতে পারে ওই ব্যক্তি। পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয়বার টাকা পাঠানোর পর অভিযুক্ত ওই কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে সাইবার ক্যাফেতে ফিরে আসে। সেখানে UPI-তে পাওয়া টাকা নগদে সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিল সে। আগে থেকেই সেখানে প্রস্তুত ছিলেন পুলিশকর্মীরা। সাইবার ক্যাফের মালিকের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে পাকড়াও করেন তাঁরা। উদ্ধার করা হয় ১৩ বছরের কিশোরকে।
উল্লেখ্য, পুলিশ অভিযুক্তের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নগদ, মুক্তিপণের ফোনকল করার জন্য ব্যবহৃত মোবাইল এবং অপহরণে ব্যবহৃত স্কুটার উদ্ধার করেছে।