INDIA ব্লকের সমাবেশকে ‘অ্যানার্কি এজেন্ডা’ বললেন নাড্ডা, মনে করালেন ১ নভেম্বরের শিখ-দাঙ্গার কথাও - 24 Ghanta Bangla News
Home

INDIA ব্লকের সমাবেশকে ‘অ্যানার্কি এজেন্ডা’ বললেন নাড্ডা, মনে করালেন ১ নভেম্বরের শিখ-দাঙ্গার কথাও

Spread the love

INDIA ব্লকের মেগা র‌্যালি দিল্লির রামলীলা ময়দানে। সেই র‌্যালি নিয়ে তোপ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডার (JP Nadda)। জেপি নাড্ডার দাবি, শিখ দাঙ্গার দিনে এই কর্মসূচি শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই। রবিবার এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ‘আপনি ১ নভেম্বরের কালো ইতিহাস লুকোতে পারবেন না।’ একই সঙ্গে উৎসবের মরশুমে এই ধরনের কর্মসূচি আসলে দিল্লির ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া বলেও মন্তব্য করেন নাড্ডা।

দিল্লিতে আজ কী?

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এ দিন রামলীলা ময়দানে বিশাল জনসমাবেশের (INDIA bloc mega rally) ডাক দিয়েছে INDIA ব্লক। বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ময়দানে। রয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তেজস্বী যাদব, এমএ বেবির মতো নেতারা।

এক নজরে

  • জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ এক মঞ্চে রাহুল, সনিয়া, মমতা, অখিলেশ ও তেজস্বী-সহ প্রধান বিরোধী মুখেরা; ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’ স্লোগান।

  • রামলীলা ময়দান ও দিল্লির সংযোগকারী রাস্তায় ৪ হাজারের বেশি পুলিশ ও সিএপিএফ (CAPF) জওয়ান মোতায়েন।

  • ১ নভেম্বরের ১৯৮৪ শিখ দাঙ্গার কালো ইতিহাস ঢাকতে এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে ঠেলতেই রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের Rally বলে তোপ জেপি নাড্ডার।

  • দিল্লি পৌঁছানো কর্মীদের কেনাকাটার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সাহায্য করার আবেদন জানিয়েছিলেন রাহুল; বিজেপিই জোর করে কনৌট প্লেসের দোকান বন্ধ করাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

  • রামলীলা ময়দানের ৫ কিলোমিটার এলাকার আড়াই লক্ষ দোকান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রাহুল গান্ধীকে চিঠি চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (CTI)।

রাহুলকে তোপ নাড্ডার

এ দিকে INDI জোটের এই কর্মসূচিকে কর্মনাশা বলে দাবি বিজেপির। একই সঙ্গে ১৯৮৪ সালের অ্যান্টি-শিখ রায়ট প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ শানাচ্ছে কংগ্রেসকে। জেপি নাড্ডার কথায়, ‘আমি আজ INDI জোটের সদস্যদের জিজ্ঞাসা করব, আপনারাও কি শিখ ভাইদের ক্ষতে নুন ছেটানোর কাজে সামিল হচ্ছেন? আপনারা কি দিল্লির ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি মারার যে পাপ, তাতে সঙ্গী হতে চান? আপনারা বিজেপিকে ঘৃণা করতে করতে দেশের জনতাকেও ঘৃণা করতে শুরু করেছেন? রাহুল গান্ধী আপনি বিদেশে গিয়ে ভারতের অপমান করেন আর ভারতে ফিরে এসে ভারতের গণতন্ত্র আর আর্থিক ব্যবস্থায় আঘাত হানেন। আপনার কি এটাই এজেন্ডা? দেশের অগ্রগতি কি আপনার লক্ষ্য নয়?’

অ্যানার্কি বলে তোপ নাড্ডার

এর পরেই নাড্ডা বলেন, ‘রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, ভারতের মানুষ এখন এ সব ফাঁদে পা দেবেন না। আপনাদের অ্যানার্কি, আপনাদের অরাজকতার টুলকিট এখন বেআব্রু হয়ে গিয়েছে। রাহুল গান্ধী আপনি কান খুলে শুনে নিন, ১ নভেম্বরের কালো ইতিহাস আপনি লুকোতে পারবেন না। দিল্লির ব্যবসায়ীদের যে চোখের জল তা থেকে বাঁচবেন না। মাথায় রাখবেন, ভারতে গণতন্ত্র চলে। এখানে জনাদেশ, সংবিধানই শেষ কথা বলে।’

পাল্টা অভিযোগ রাহুলের

যদিও রাহুল রামলীলা ময়দানে যেতে যেতেই গাড়ি থেকে ভিডিয়ো করে বলেন, ‘আমরা সবাইকে বলেছি, যখন আপনারা এখানে আসবেন, জিনিস কিনুন, শপিং করুন। কনৌট প্লেসে এসে আমরা জানতে পারলাম যে বিজেপি এখানে সব দোকান বন্ধ করিয়ে দিয়েছে। বাধ্য করেছে দোকান বন্ধ করতে। আপনারাই বলুন কারা ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করছে।’

এ দিন হুডখোলা গাড়িতে রামলীলা ময়দানের পথে রওনা দেন রাহুল, অখিলেশ, মমতা, অভিষেকরা। দিল্লিতে মোতায়েন চার হাজারের বেশি পুলিশ, CAPF। বিরোধীদের স্লোগান, ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’।

এ দিকে INDI জোটের এই সমাবেশ যেখানে, সেই রামলীলা ময়দানের কাছে বহু দোকান রয়েছে। পাইকারি বিক্রেতাদের আউটলেট সেখানে। স্বভাবতই নিরাপত্তার স্বার্থে অনেকেই এ দিন দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন।

চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) রবিবার দাবি করেছে, প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান রয়েছে রামলীলা ময়দানের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে। সেই সব দোকান বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। কারণ, দিওয়ালির আগে ক্রেতাদের ভিড় থাকে এ সব দোকানে। এ নিয়ে রাহুলকে চিঠিও দিয়েছে CTI। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের সমাবেশের কারণে বিজ়নেস অ্যাক্টিভিটির পাশাপাশি যাতায়াতেরও সমস্যা হবে। জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকবে।

যদিও শনিবারই রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাঁরা এই র‌্যালিতে অংশ নিতে আসছেন, তাঁরা যেন এখানকার ছোট ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে এই সব দোকান থেকে কিছু জিনিস কেনেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘রবিবার লক্ষাধিক মানুষ রামলীলায় আসবেন। এটা উৎসবের মরশুম। দিওয়ালি, ছট, ভাইফোঁটার সময়। আমি চাই লক্ষাধিক মানুষ, যাঁরা দিল্লিতে আসবেন, তাঁরা এখানকার ব্যবসায়ীদের পাশে যেন দাঁড়ান। প্রতিবাদ, মিছিল, সমাবেশের পাশাপাশি একটা ছোট্ট শপিংও করুন, তাতে ব্যবসায়ীদের উপকার হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *