ভাঁড়ে ভবানী, মিলিজুলি মদ খেতে পালাতে গিয়েই ধপাস যুবক
এই সময়, দুর্গাপুর: ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে দশটা। রীতিমতো জমে উঠেছে দুর্গাপুরের এক পানশালার মেজাজ। নানা ধরনের লোভনীয় খাদ্যসামগ্রীর সঙ্গে বিদেশি পানীয়র মৌতাত তখন সপ্তমে। তিন বন্ধু কোনও দিকে খেয়াল না–করে দেদার মদ্যপান করে চলেছেন।
ওয়েটার থেকে থেকে এসে নিয়ে যাচ্ছেন অর্ডার। নানা ধরনের ভেজ এবং নন–ভেজ স্টার্টারের সঙ্গে কোন সময়ে যে চার পেগ হুইস্কিও উড়ে গিয়েছে, খেয়াল ছিল না কারও। হঠাৎ করেই এক বন্ধু নিজের ঘড়ির দিকে তাকায় এক ঝলক। বাকি দুই বন্ধুর দিকে তাকিয়ে ফেরার সময় হয়েছে বলে উঠে পড়েন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্বিতীয় বন্ধু বেরিয়ে যান পানশালা থেকে।
হঠাৎ করেই কেমন যেন নেশার ঘোর কাটে তৃতীয় বন্ধুর। বুঝতে পারেন, পানীয় এবং খাবারের বিল দিতে হবে বলে দুই বন্ধু পানশালা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। এ বার তিনি কী করবেন? পকেট তো গড়ের মাঠ! যে দুই বন্ধুর ভরসায় এই পানশালায় আগমন, তাঁরাই যদি সরে পড়েন, তা হলে তিনি টাকা কোথা থেকে জোগাড় করে তার দাম দেবেন?
সেই সময়েই চলে আসেন ওয়েটার। টেবিলের উপরে রেখে যান পানীয় এবং খাদ্যের বিল। টাকার অঙ্ক প্রায় আড়াই হাজার টাকার মতো! এ বার কী হবে? কোনও ভাবেই যে ওই টাকা দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তা বুঝতে পেরে কেউ কিছু বোঝার আগে সেই যুবক পানশালা থেকে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে দৌড়তে শুরু করে। পানশালা থেকে বেরিয়ে পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করে সেই যুবক। আর তখনই ঘটল বিপত্তি! ১১ ফুট উচ্চতার পাঁচিল টপকে পালানো তো মুখের কথা নয়! কিন্তু মরিয়া সেই যুবক কোনওক্রমে পাঁচিল টপকে পালাতে গিয়ে সেখান থেকে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হন। সম্প্রতি সিটি সেন্টার এলাকার একটি পানশালার এই ঘটনা শনিবারই এসেছে প্রকাশ্যে। পাঁচিল টপকে পালাতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আহত যুবককে রাস্তায় পড়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখে ছুটে আসেন পানশালার কর্মীরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে সেই আহত যুবককে ভর্তি করায় দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে।
এর পরে শুরু হয় যুবকের পরিচয় নিয়ে খোঁজখবর। জানা যায়, যুবকটি কোক ওভেন থানার অন্তর্গত নেপালিপাড়ার বাসিন্দা। বাকি দুই বন্ধুর সঙ্গে তিনি এই পানশালায় মদ্যপান করতে এসেছিলেন। তবে এমন ঘটনায় চমকে গিয়েছেন পানশালার কর্মীদের একাংশ। জনৈক কর্মী বলছিলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে অতিরিক্ত নেশা করে অনেকে বেহুঁশ হয়ে পড়েন। বন্ধুরা তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেন। অনেকে আবার একা এসেই অতিরিক্ত নেশা করে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন। অবস্থা স্বাভাবিক হলে পানশালা থেকে বেরিয়ে যান। আবার এমনও হয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত নেশা করে কেউ বাড়ি ফেরার মতো অবস্থায় নেই। সে ক্ষেত্রে আমরা গাড়ি ডেকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় ওই ব্যক্তিকে পৌঁছে দিতে বলেছি চালককে। কিন্তু বিল না–দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনা প্রথম দেখলাম।’
সিটি সেন্টার অঞ্চলের এই পানশালায় নিয়মিত আসেন আশিস রায় নামে এক ব্যক্তি। তাঁর মন্তব্য, ‘ঘটনার দিন আমি একটু আগে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। দু’দিন পরে পানশালায় আসার পরে কর্মীরা এই ঘটনার কথা বলেন। শুনে অবাকই হয়েছি। সেই বন্ধুরাই বা কেমন, যারা এ ভাবে এই ছেলেটিকে এ ভাবে ছেড়ে চলে গেল! আরও বড় বিপদও তো হতে পারত!’ ঘটনার পরে ওই পানশালায় মদ ও খাবারের দাম বাড়ানোহয়েছে। পানশালার কর্ণধার প্রণব রায় বললেন, ‘আমাদের এখানে এক শ্রেণির মানুষ আসেন, যাঁরা নির্বিঘ্নে পান করতে পছন্দ করেন। তাঁদের কাছে পানীয় বা খাবারের দামের খুব বেশি গুরুত্ব নেই। ভালো পরিবেশ ও উন্নতমানের পরিষেবা চান তাঁরা। তার মধ্যেই এমন উটকো ঝামেলা এড়াতে পানীয় এবং খাবারের দাম বাড়ানো হয়েছে।’