বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ৫০০০ একর জমিতে শিল্প গড়ার পরিকল্পনা রাজ্যের
কলকাতা: রাজ্যে দ্রুত শিল্পায়নের (Industrial Development) লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির হাতে পড়ে থাকা ৫০০০ একরেরও বেশি অব্যবহৃত জমি নিজেদের জমি ব্যাঙ্কে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ…
কলকাতা: রাজ্যে দ্রুত শিল্পায়নের (Industrial Development) লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির হাতে পড়ে থাকা ৫০০০ একরেরও বেশি অব্যবহৃত জমি নিজেদের জমি ব্যাঙ্কে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অধিকাংশ জমিই বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অধীনে রয়েছে। এই জমিগুলি নতুন শিল্প স্থাপনের কাজে ব্যবহার করতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
Hindustan Cables Ltd, Hindustan Fertiliser এবং Mining and Allied Machinery Corporation (MAMC)-এর মতো বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জমিতে নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কাটোয়ায় NTPC-র অধিগৃহীত প্রায় ৬০০ একর জমিও রাজ্যের নজরে রয়েছে। এক সরকারি আধিকারিকের কথায়, কাটোয়ায় NTPC-র জন্য অধিগৃহীত জমি এখনও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
বন্ধ কারখানার জমিতে নতুন শিল্পের পরিকল্পনা
পশ্চিম বর্ধমানের রূপনারায়ণপুরে Hindustan Cables-এর প্রায় ৯০০ একর জমি রয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে এই সংস্থার কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, দুর্গাপুরে MAMC এবং হলদিয়ায় Hindustan Fertiliser-এর বড় অংশের জমি রয়েছে। একসময় এই জমিগুলিতে উৎপাদন কেন্দ্র চালাত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।
রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকা এই জমিগুলিকে শিল্পের কাজে লাগানো। তবে জমিগুলি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অধীনে থাকায় সরাসরি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। সে কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলির সঙ্গে আলোচনা করে জমি ছাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
সম্প্রতি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছিলেন, রাজ্যের বর্তমান জমি ব্যাঙ্ক শিল্পায়নের কাঙ্ক্ষিত গতি আনার জন্য যথেষ্ট নয়। বন্ধ কারখানাগুলির দখলে থাকা জমি কীভাবে নতুন শিল্পের কাজে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও রাজ্য সরকার ভাবনাচিন্তা করছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
জমি অধিগ্রহণ নয়, কেনার নীতিতে জোর
শিল্পের জন্য জমি সংগ্রহের ক্ষেত্রে কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে জমি অধিগ্রহণ করা হবে না বলে আগেই স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর প্রশাসন জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনে শিল্প সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার নীতি নিতে চলেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানার মডেল অনুসরণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এই লক্ষ্যে রাজ্যে জমি কেনার নীতি এবং জমি পুলিং নীতি চালুর প্রস্তুতি চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের একাধিক রাজ্যে এই পদ্ধতি কার্যকর হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও তা সফল হবে বলে তিনি আশাবাদী।
জমি পুলিং হল স্বেচ্ছায় জমি একত্রিত করে পরিকাঠামো ও শিল্প উন্নয়নের একটি পদ্ধতি। এই ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত জমির মালিকরা তাঁদের জমির একটি অংশ উন্নয়নমূলক কাজের জন্য দেন। পরিবর্তে তাঁরা অন্য জায়গায় তুলনামূলক ছোট, উন্নত পরিকাঠামোযুক্ত এবং বেশি বাজারমূল্যের জমি পান। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদ্ধতিতে জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন কমে এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত সমস্যা ও আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।
ভূমি সংস্কার আইনে সংশোধনের ভাবনা
জমি পুলিং নীতি কার্যকর করতে রাজ্য সরকার ১৯৫৫ সালের পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইনের ১৪ওয়াই ধারায় সংশোধনের প্রস্তাব আনতে পারে। বিধানসভার আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে এই বিষয়ে প্রস্তাব পেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
শিল্প স্থাপনের জন্য জমি কেনার ক্ষেত্রে আরও একটি নিয়মে পরিবর্তনের কথা ভাবছে রাজ্য। সূত্রের খবর, নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমার অতিরিক্ত জমি বা সিলিং-সারপ্লাস জমি কিনতে গেলে বিনিয়োগকারীদের সরকারের আগাম অনুমতি নিতে হয়। শিল্পায়নের সুবিধার্থে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জমি ব্যবহার, জমি কেনার নীতি এবং জমি পুলিং ব্যবস্থা, এই তিনটি পদক্ষেপের মাধ্যমে শিল্পের জন্য জমির জোগান বাড়াতে চাইছে রাজ্য সরকার। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির জমি হস্তান্তর এবং প্রস্তাবিত আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোয়, তার উপরই এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করবে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business