দিল্লি থেকে আগ্রা মাত্র ৫৯ মিনিটে! উত্তর ভারতে বুলেট ট্রেন করিডরে ছাড়পত্র মোদী সরকারের
নয়াদিল্লি: দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও একটি বড় ( Bullet Train)পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। উত্তর ভারতের জন্য প্রস্তাবিত নতুন নর্দার্ন বুলেট ট্রেন করিডর…
নয়াদিল্লি: দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও একটি বড় ( Bullet Train)পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। উত্তর ভারতের জন্য প্রস্তাবিত নতুন নর্দার্ন বুলেট ট্রেন করিডর অনুমোদন পেয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে পৌঁছতে সময় অনেকটাই কমে যাবে।
এমনকী, দিল্লি থেকে আগ্রা যেতে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না যাত্রীদের। প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, মাত্র ৫৯ মিনিটেই এই পথ পেরোনো সম্ভব হবে। দিল্লি, আগ্রা, কানপুর, লখনউ এবং বারাণসীর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিকে দ্রুতগতির রেলপথে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে উত্তর ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা এবং শিল্পক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আরও দেখুনঃ বিমানবাহিনীর নতুন প্রধান আশুতোষ দীক্ষিত! সামনে ৫ বড় চ্যালেঞ্জ
সম্প্রতি বারাণসী-নয়াদিল্লি বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস পরিষেবার সূচনার আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই প্রকল্পের কথা জানান রেলমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুমোদনে উত্তর ভারতের বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির উদ্যোগ এগোচ্ছে। ( Bullet Train)বৈষ্ণবের বক্তব্য, এই প্রকল্প দেশের যুবসমাজ, মধ্যবিত্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হবে। দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হলে কর্মসূত্রে যাতায়াত, ব্যবসা এবং পর্যটনের ক্ষেত্রেও সুবিধা বাড়বে।
প্রস্তাবিত করিডরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসা। রেলমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি থেকে আগ্রা পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৫৯ মিনিট। দিল্লি থেকে কানপুর যেতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
অন্যদিকে, রাজধানী থেকে লখনউ পৌঁছতে সময় লাগবে ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট। লখনউ থেকে বারাণসীর দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে ১ ঘণ্টা ২১ মিনিটে। আর বারাণসী থেকে দিল্লি পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। এই সময়সূচি বাস্তবায়িত হলে উত্তর ভারতের একাধিক শহরের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে দিল্লি থেকে বারাণসী পর্যন্ত দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও এই উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দিল্লি থেকে বারাণসী পর্যন্ত বুলেট ট্রেনে যাত্রা করা যাবে সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে। বর্তমানে এই দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত করতে ট্রেনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় লাগে।
ফলে নতুন করিডর চালু হলে যাত্রীদের সময় বাঁচার পাশাপাশি যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। যোগীর দাবি, বিমানের তুলনায় এই পরিষেবা আরও সহজ, সুবিধাজনক এবং সাশ্রয়ী হতে পারে। তবে বুলেট ট্রেনের প্রকৃত টিকিটের দাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
প্রকল্পের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদনের উপর জোর দেওয়া( Bullet Train)। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, বুলেট ট্রেন করিডরের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত স্তম্ভ, গার্ডার থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো তৈরিতে দেশীয় প্রযুক্তি এবং ভারতীয় কর্মীদের দক্ষতাকে কাজে লাগানো হবে।
অর্থাৎ, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের উপর ভিত্তি করেই এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের তরুণ ইঞ্জিনিয়ার, নির্মাণকর্মী এবং দক্ষ শ্রমিকদের এই প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। এর ফলে রেল পরিকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি দেশীয় শিল্প এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই করিডরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দিল্লি, আগ্রা, কানপুর, লখনউ এবং বারাণসী প্রত্যেকটিই ব্যবসা, শিল্প ও পর্যটনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শহর। দ্রুতগতির রেল পরিষেবা চালু হলে এই শহরগুলির মধ্যে যাতায়াতের সময় কমবে।
ব্যবসায়ীরা সহজে বিভিন্ন শহরে পৌঁছতে পারবেন। একইসঙ্গে পর্যটকদের কাছেও একাধিক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ আরও সহজ হতে পারে। বিশেষ করে আগ্রার তাজমহল এবং বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে পর্যটন ব্যবসায় নতুন গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশের রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য রেখেছেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর দাবি, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ১৫৭টি রেলস্টেশনের ( Bullet Train)আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এই স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের জন্য উন্নত পরিষেবা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। বারাণসীর রেলস্টেশনের পরিকাঠামোর কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে রেল প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। বৈষ্ণবের দাবি, যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর রাজ্যে রেল বাজেটের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের জন্য প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।