জমি কেলেঙ্কারিতে খড়্গপুরে গ্রেপ্তার ভুট্টো।
তৃণমূল জমানায় জমি কেনাবেচা করে ফুলেফেঁপে উঠেছিলেন শামসাদ আলি, এমনটাই জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। অভিযোগ, যার বেশিটাই হতো বেআইনি ভাবে। এমনকী, কারও জমির রেকর্ড পর্যন্ত বদলে দিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হতো। ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে শামসাদের ছিল অবাধ আনাগোনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা ছিল তাঁর। নেতা হিসেবে কোনও বড় পদে না থাকলেও তৃণমূলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারাও তাঁকে সমঝে চলতেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁকেই পুলিশের হাতে হেনস্থা হতে হতো। তবে রাজ্য পালাবাদলের পরে ভুট্টোর প্রতি সাধারণের ভয়ডর কমতে থাকে। গত সেপ্টেম্বরে ভুট্টোর বিরুদ্ধে তাঁর জমির রেকর্ড পরিবর্তন করে কেনাবেচার অভিযোগ করেন এক ব্যক্তি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে ভুট্টোকে খড়্গপুর লোকাল থানায় ডাকা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পরে রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, খড়্গপুর লোকাল থানা এলাকায় বিভিন্ন জমি কেনাবেচায় হাত ছিল ভুট্টোর। জমির মালিককে ভয় দেখিয়ে জোর করে কম দামে জমি কেনা থেকে জমির রেকর্ড পরিবর্তন করে জমি বিক্রি করেছেন তিনি। সরকারি জমিও এভাবে বিক্রি করা হয়েছে কিনা তার খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে কত পরিমাণ জমি কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিল ভুট্টো তার একটা পরিসংখ্যান মিলতে পারে। সম্প্রতি শালবনিতে সরকারি জমির রেকর্ড জাল করে বিক্রির অভিযোগে জেল হেফাজতে রয়েছেন মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি তথা মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। একই ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ও।