কালীপুজোর আগেই কলকাতায় বাজির দাপট, একাধিক এলাকায় নিয়মভঙ্গের অভিযোগ
কলকাতা: দীপাবলি ও কালীপুজো (Kali Puja 2026) আসতে এখনও এক সপ্তাহেরও বেশি বাকি। তার আগেই শহরের একাধিক এলাকায় শুরু হয়ে গিয়েছে বাজি ফাটানো। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পাড়ায় শব্দবাজির অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন বাসিন্দাদের মধ্যে বিরক্তি বাড়ছে, তেমনই প্রশ্ন উঠছে রাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা নিয়ে।
বড়বাজার, গিরিশ পার্ক, সিআর অ্যাভিনিউ, বাঙুর, কাঁকুড়গাছি, বাগুইআটি, নিউ টাউন, সিঁথি, কালিকাপুর, বেহালা, চেতলা, কসবা এবং নিউ আলিপুরের কিছু অংশ থেকে বাজি ফাটানোর অভিযোগ এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছরই এই এলাকাগুলির কয়েকটিতে বাজি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু স্থানীয় স্তরে নিয়ম কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কাঁকুড়গাছির বাগমারি রোডের বাসিন্দা ঋচা ঘোষ বলেন, “দীপাবলি ও কালীপুজো আসতে এখনও এক সপ্তাহেরও বেশি বাকি। অথচ ইতিমধ্যেই বাজি ফাটানো শুরু হয়ে গিয়েছে। আমাদের এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকেই অনেকে বাজি ফাটাচ্ছেন। সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করা হচ্ছে, সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা।”
সরু গলিতে বাজি ফাটিয়ে উধাও, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা
বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের সরু গলিগুলিতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। কয়েকজন মিলে বাজি ফাটিয়ে দ্রুত বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ছেন। ফলে কারা এই কাজ করছেন, তা চিহ্নিত করা পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে।
শব্দদূষণের পাশাপাশি পথচারী ও বাইকচালকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। পোস্টার ব্রজদুলাল স্ট্রিটের এক দোকানদার অমিত গুপ্ত বলেন, “পোস্তায় কালীকৃষ্ণ ঠাকুর স্ট্রিটের পাশের একটি সরু গলিতে কয়েকজন ছেলেকে বাজি ফাটাতে দেখেছি। বাজি ফাটিয়েই তারা বাড়ির ভিতরে চলে যাচ্ছিল। রাস্তাটি ব্যস্ত হওয়ায় পথচারী বা বাইকচালকদের দুর্ঘটনার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
শহরতলির কিছু বহুতল আবাসন থেকেও বাজি ফাটানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
কালীপুজোয় রাত ৮টা থেকে ১০টা, শুধু সবুজ বাজির অনুমতি
উৎসবের মরশুমে বাজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ফের বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর কালীপুজোর দিন রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি ফাটানোর অনুমতি রয়েছে। আদালত নির্ধারিত এই সময়সীমা অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সরকার। বেআইনি বাজি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি গ্রেফতারিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র অনুমোদিত সবুজ বাজি ফাটানো যাবে। প্রচলিত সাধারণ বাজি নিষিদ্ধই থাকছে। প্রয়োজনীয় দমকলের অনুমতি ছাড়া আকাশপ্রদীপ বা স্কাই ল্যান্টার্ন ওড়ালেও আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে।
সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কেবল NEERI-অনুমোদিত ১,৭০০টি প্রস্তুতকারকের তৈরি সবুজ বাজিই বৈধ। অনুমোদিত প্রস্তুতকারকদের তালিকা ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। শব্দ উৎপন্নকারী বাজির ক্ষেত্রে নির্ধারিত শব্দসীমা ১২৫ ডেসিবেল এবং আলো উৎপন্নকারী আতশবাজির ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবেল। হাসপাতাল, নার্সিংহোম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য নির্ধারিত নীরব এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি ফাটানো নিষিদ্ধ।
বাজারে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রির অভিযোগ
নিয়মকানুনের পাশাপাশি শহরের বাজারে নিষিদ্ধ বাজির উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশ সূত্র এবং বাজি কিনেছেন এমন কয়েকজনের দাবি, কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ধরনের বাজি বিক্রি হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু বাজার থেকেও অনেকে এই বাজি কিনছেন বলে অভিযোগ।
বাঙুরের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার নুঙ্গি থেকে দুই ছেলের জন্য বাজি কিনেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, কেনার পর গাড়িতে করে কলকাতায় ফেরার পথে বিশেষ কোনও তল্লাশির মুখে পড়তে হয়নি।
ওই বাসিন্দার কথায়, “বুধবার নুঙ্গি থেকে দুই ছেলের জন্য কিছু বাজি কিনেছিলাম। তার মধ্যে অনেকগুলির শব্দ বেশ জোরে। কেনার পর গাড়িতে করে ফেরার পথে রাস্তায় বিশেষ কোনও তল্লাশি হয়নি। রবিবার আবার যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”
অন্যদিকে, পোস্তা থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বাজি ফাটানো নিয়ে তাঁদের কাছে এখনও কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। ফলে উৎসবের আগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business