আমেরিকায় iPhone কিনলে ১.৪৬ লক্ষ টাকা সাশ্রয়? কোন দেশে দাম সবচেয়ে কম?
মুম্বই: নতুন iPhone কেনার পরিকল্পনা থাকলে অনেকেই বিদেশ থেকে ফোন আনার কথা ভাবেন। বিশেষ করে আমেরিকা, দুবাই, জাপান বা চিন থেকে iPhone কিনলে ভারতের তুলনায় অনেকটাই কম খরচ হতে পারে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক দামের তুলনাতেও সেই ছবিই উঠে এসেছে। তবে শুধু বিদেশি দামকে ভারতীয় মুদ্রায় পরিবর্তন করলেই প্রকৃত সাশ্রয়ের হিসাব পাওয়া যায় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় স্থানীয় বিক্রয়কর, আমদানি শুল্ক, মুদ্রা বিনিময়ের খরচ, ওয়ারেন্টি এবং SIM সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উদাহরণ হিসেবে iPhone Duo-র 2TB মডেলের কথা ধরা যাক। আন্তর্জাতিক মূল্যতালিকা iPhoneWorldwide অনুযায়ী, আমেরিকায় ফোনটির দাম ৩,১৯৯ ডলার। একই মডেল ও স্টোরেজের iPhone ভারতে বিক্রি হচ্ছে ৪,৪৯,৯০০ টাকায়। অর্থাৎ, তালিকাভুক্ত দামের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ১.৪৬ লক্ষ টাকা।
চিন, হংকং, জাপান, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও একই মডেলের দাম ভারতের তুলনায় কম। কিন্তু বিদেশ থেকে ফোন কেনার আগে কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।
২০২৬ সালে কোন দেশে iPhone-এর দাম সবচেয়ে কম?
iPhoneWorldwide-এর দেওয়া ৩৮টি দেশ ও অঞ্চলের মূল্যতালিকা অনুযায়ী, iPhone Duo 2TB-এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম দাম আমেরিকায়। এর পর রয়েছে কানাডা এবং হংকং। তাইওয়ান ও জাপানেও দাম তুলনামূলক কম।
অন্যদিকে, তুরস্ক ও ব্রাজিলে একই ফোনের দাম অনেক বেশি। তুরস্কে এর তালিকাভুক্ত মূল্য ৬,৭২৭.১৫ ডলার, যা আমেরিকার দামের দ্বিগুণেরও বেশি। ব্রাজিলে দাম ৫,৭৩১.৪৩ ডলার।
উল্লেখ্য, iPhoneWorldwide-এর তালিকাটি Apple-এর আনুষ্ঠানিক মূল্যতালিকা নয়। তবে এই প্রতিবেদনের জন্য আমেরিকা ও ভারতের Apple অনলাইন স্টোরের দাম আলাদাভাবে যাচাই করা হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই তালিকার সঙ্গে দাম মিলেছে।
iPhone Duo 2TB-এর বিভিন্ন দেশে দাম
| দেশ | স্থানীয় দাম | মার্কিন ডলারে আনুমানিক দাম |
| আমেরিকা | $3,199 | $3,199.00 |
| কানাডা | C$4,799 | $3,439.38 |
| হংকং | HK$27,999 | $3,568.94 |
| তাইওয়ান | NT$118,900 | $3,645.79 |
| জাপান | ¥574,800 | $3,654.98 |
| UAE | AED13,599 | $3,702.93 |
| নিউজিল্যান্ড | NZ$6,599 | $3,719.49 |
| থাইল্যান্ড | ฿127,900 | $3,790.64 |
| দক্ষিণ কোরিয়া | ₩5,090,000 | $3,814.96 |
| মালয়েশিয়া | RM15,499 | $3,819.09 |
| সিঙ্গাপুর | S$4,899 | $3,833.00 |
| সুইৎজারল্যান্ড | CHF3,199 | $3,880.32 |
| চিন | RMB26,499 | $3,982.54 |
| ফিলিপিন্স | ₱254,990 | $4,003.80 |
| ভিয়েতনাম | ₫103,999,000 | $4,030.48 |
| পোল্যান্ড | zł15,999 | $4,057.69 |
| লুক্সেমবার্গ | €3,712.09 | $4,141.09 |
| মেক্সিকো | Mex$77,999 | $4,148.53 |
| অস্ট্রেলিয়া | A$5,899 | $4,149.81 |
| জার্মানি | €3,799 | $4,238.04 |
| ব্রিটেন | £3,199 | $4,285.08 |
| ভারত | ৪,৪৯,৯০০ টাকা | $4,737.86 |
| ব্রাজিল | R$30,999 | $5,731.43 |
| তুরস্ক | TL335,999 | $6,727.15 |
সূত্র: iPhoneWorldwide-এর সরবরাহ করা আন্তর্জাতিক মূল্যতালিকা। ডলারে রূপান্তরগুলি ওই তালিকার হিসাব, বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার লাইভ দর নয়। আমেরিকার বিক্রয়কর এবং সম্ভাব্য আমদানি খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
বিদেশ থেকে কিনলে ভারতীয় ক্রেতাদের কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে?
প্রদত্ত আন্তর্জাতিক মূল্যতালিকার ভিত্তিতে প্রতি ডলারের আনুমানিক মূল্য ৯৪.৯৬ টাকা ধরলে, আমেরিকায় iPhone Duo 2TB-এর দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩.০৪ লক্ষ টাকা। ভারতে একই ফোনের দাম ৪,৪৯,৯০০ টাকা। অর্থাৎ, অতিরিক্ত খরচ বাদ দেওয়ার আগে সম্ভাব্য দামের ব্যবধান প্রায় ১,৪৬,১০০ টাকা।
অন্য দেশগুলির ক্ষেত্রেও ব্যবধান উল্লেখযোগ্য।
| দেশ | ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক দাম | ভারতের তুলনায় দামের ব্যবধান |
| আমেরিকা | ৩,০৩,৮০০ টাকা | ১,৪৬,১০০ টাকা |
| কানাডা | ৩,২৬,৬০০ টাকা | ১,২৩,৩০০ টাকা |
| হংকং | ৩,৩৮,৯০০ টাকা | ১,১১,০০০ টাকা |
| তাইওয়ান | ৩,৪৬,২০০ টাকা | ১,০৩,৭০০ টাকা |
| জাপান | ৩,৪৭,১০০ টাকা | ১,০২,৮০০ টাকা |
| UAE | ৩,৫১,৬০০ টাকা | ৯৮,৩০০ টাকা |
| সিঙ্গাপুর | ৩,৬৩,৯০০ টাকা | ৮৬,০০০ টাকা |
| চিন | ৩,৭৮,২০০ টাকা | ৭১,৭০০ টাকা |
| ভারত | ৪,৪৯,৯০০ টাকা | প্রযোজ্য নয় |
উল্লেখিত রূপান্তরগুলি আনুমানিক। সম্ভাব্য সাশ্রয় বলতে শুধু তালিকাভুক্ত দামের ব্যবধান বোঝানো হয়েছে, কর ও শুল্ক বাদ দেওয়ার পরের প্রকৃত সাশ্রয় নয়।
শতাংশের হিসাবেও পার্থক্যটি উল্লেখযোগ্য। তালিকাভুক্ত দামের ভিত্তিতে ভারতে iPhone Duo 2TB-এর দাম আমেরিকার তুলনায় প্রায় ৪৮ শতাংশ বেশি। চিনের তুলনায় ভারতীয় দাম প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ভারতে কোনও ফোনের দাম আমেরিকার তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেশি হলেই আমেরিকা থেকে কিনে ভারতীয় ক্রেতা ৪৮ শতাংশ সাশ্রয় করবেন, এমন নয়। ভারতীয় দামের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সাশ্রয়ের হার প্রায় ৩২.৫ শতাংশ, অতিরিক্ত খরচের আগে।
বেশি স্টোরেজের iPhone কিনলে দামের ব্যবধান বাড়ে?
সব ক্রেতার 2TB স্টোরেজ প্রয়োজন হয় না। অনেকের কাছে ২৫৬GB বা ৫১২GB মডেলই যথেষ্ট। তাই শুধু সর্বোচ্চ স্টোরেজের ফোনের দাম তুলনা না করে অন্যান্য ভ্যারিয়্যান্টের দামও দেখা প্রয়োজন।
Apple-এর ভারতীয় ও আমেরিকান অনলাইন স্টোরে বিভিন্ন স্টোরেজের দাম প্রকাশ করা হয়েছে।
| স্টোরেজ | ভারতে দাম | আমেরিকায় দাম |
| ২৫৬GB | ২,৯৯,৯০০ টাকা | $1,999 |
| ৫১২GB | ৩,২৪,৯০০ টাকা | $2,199 |
| ১TB | ৩,৭৪,৯০০ টাকা | $2,599 |
| ২TB | ৪,৪৯,৯০০ টাকা | $3,199 |
সূত্র: Apple India ও Apple US অনলাইন স্টোর, ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এ যাচাই করা দাম। আমেরিকার দামে প্রযোজ্য বিক্রয়কর অন্তর্ভুক্ত নয়।
এই তুলনা থেকে দেখা যাচ্ছে, স্টোরেজ যত বাড়ছে, দুই দেশের দামের ব্যবধানও তত বাড়ছে। বিশেষ করে ১TB ও ২TB মডেল কেনার ক্ষেত্রে আমেরিকার দাম তুলনামূলক আকর্ষণীয়। তবে ২৫৬GB মডেলের ক্ষেত্রেও একই কর, ওয়ারেন্টি ও SIM সংক্রান্ত বিষয়গুলি বিবেচনা করতে হবে।
iPhone 18 Pro ও Pro Max-এর দাম ভারতে কত?
শুধু iPhone Duo নয়, Apple-এর সাধারণ ফ্ল্যাগশিপ মডেলগুলির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক দামের ব্যবধান রয়েছে। Apple India-র তালিকা অনুযায়ী, iPhone 18 Pro-এর দাম শুরু হচ্ছে ১,৬৪,৯০০ টাকা থেকে। অন্যদিকে, iPhone 18 Pro Max-এর প্রারম্ভিক দাম ১,৭৯,৯০০ টাকা।
দুটি মডেলই চারটি স্টোরেজ ভ্যারিয়্যান্টে পাওয়া যাচ্ছে।
| স্টোরেজ | iPhone 18 Pro | iPhone 18 Pro Max |
| ২৫৬GB | ১,৬৪,৯০০ টাকা | ১,৭৯,৯০০ টাকা |
| ৫১২GB | ১,৮৯,৯০০ টাকা | ২,০৪,৯০০ টাকা |
| ১TB | ২,৩৯,৯০০ টাকা | ২,৫৪,৯০০ টাকা |
| ২TB | ৩,১৪,৯০০ টাকা | ৩,২৯,৯০০ টাকা |
স্টোরেজ বাড়ানোর খরচও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ২৫৬GB থেকে ৫১২GB-তে যেতে অতিরিক্ত ২৫,০০০ টাকা খরচ হয়। আবার ১TB থেকে ২TB-তে গেলে অতিরিক্ত ৭৫,০০০ টাকা দিতে হয়। তাই বিদেশ থেকে ফোন কেনার সময় শুধু মডেলের নাম নয়, একই স্টোরেজ ভ্যারিয়্যান্টের দাম তুলনা করা উচিত।
iPhone 18 Pro: ভারত বনাম আমেরিকার দামের তুলনা
Apple-এর আমেরিকান স্টোরে iPhone 18 Pro-এর দাম শুরু হচ্ছে ১,১৯৯ ডলার থেকে এবং Pro Max-এর দাম ১,২৯৯ ডলার থেকে। এখানে প্রতি ডলারের মূল্য আনুমানিক ৯৫ টাকা ধরে তুলনা করা হয়েছে। এটি কোনও লাইভ ব্যাঙ্ক বা কার্ডের বিনিময় হার নয়।
| মডেল | ভারতে দাম | আমেরিকায় দাম | ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক দাম |
| iPhone 18 Pro 256GB | ১,৬৪,৯০০ টাকা | $1,199 | ১,১৩,৯০৫ টাকা |
| iPhone 18 Pro 512GB | ১,৮৯,৯০০ টাকা | $1,399 | ১,৩২,৯০৫ টাকা |
| iPhone 18 Pro 1TB | ২,৩৯,৯০০ টাকা | $1,799 | ১,৭০,৯০৫ টাকা |
| iPhone 18 Pro 2TB | ৩,১৪,৯০০ টাকা | $2,399 | ২,২৭,৯০৫ টাকা |
| iPhone 18 Pro Max 256GB | ১,৭৯,৯০০ টাকা | $1,299 | ১,২৩,৪০৫ টাকা |
| iPhone 18 Pro Max 512GB | ২,০৪,৯০০ টাকা | $1,499 | ১,৪২,৪০৫ টাকা |
| iPhone 18 Pro Max 1TB | ২,৫৪,৯০০ টাকা | $1,899 | ১,৮০,৪০৫ টাকা |
| iPhone 18 Pro Max 2TB | ৩,২৯,৯০০ টাকা | $2,499 | ২,৩৭,৪০৫ টাকা |
সূত্র: Apple India ও Apple US অনলাইন স্টোর। আমেরিকার দাম থেকে প্রযোজ্য বিক্রয়কর বাদ রয়েছে। রূপান্তর আনুমানিক।
এই হিসাব অনুযায়ী, iPhone 18 Pro-এর ২৫৬GB মডেলেই ভারত ও আমেরিকার তালিকাভুক্ত দামের ব্যবধান প্রায় ৫১,০০০ টাকা। ২TB মডেলের ক্ষেত্রে ব্যবধান প্রায় ৮৭,০০০ টাকা। তবে এই পরিমাণই যে কোনও ভারতীয় ক্রেতার প্রকৃত সাশ্রয় হবে, তা নয়।
iPhone 17 Pro-র আন্তর্জাতিক দাম নিয়ে কী বলছে সমীক্ষা?
শুধু নতুন মডেলগুলিতেই আন্তর্জাতিক দামের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না। Deutsche Bank-এর ২০২৬ সালের Mapping the World’s Prices সমীক্ষার তথ্য ব্যবহার করে Visual Capitalist iPhone 17 Pro 256GB-এর আন্তর্জাতিক দামের একটি তুলনা প্রকাশ করেছিল।
সেই তুলনায় জাপান ছিল সবচেয়ে সস্তা বাজার। সেখানে দাম ১,১২১ ডলার। এর পর আমেরিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় দাম ছিল ১,১৮১ ডলার। চিনে দাম ছিল ১,৩৩২ ডলার।
| দেশ | iPhone 17 Pro 256GB-এর দাম |
| জাপান | $1,121 |
| আমেরিকা | $1,181 |
| দক্ষিণ কোরিয়া | $1,181 |
| হংকং | $1,200 |
| তাইওয়ান | $1,264 |
| UAE | $1,279 |
| কানাডা | $1,291 |
| ফিলিপিন্স | $1,326 |
| ভিয়েতনাম | $1,330 |
| চিন | $1,332 |
সূত্র: Deutsche Bank-এর ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক মূল্য সমীক্ষা, Visual Capitalist-এ প্রকাশিত তথ্য। এগুলি ঐতিহাসিক তুলনামূলক দাম, অক্টোবরের বর্তমান খুচরো দাম নয়।
এই সমীক্ষা দেখায়, সব iPhone মডেলের ক্ষেত্রে একই দেশ সবচেয়ে সস্তা হয় না। iPhone 17 Pro-র তুলনায় জাপান এগিয়ে থাকলেও অন্য মডেলের ক্ষেত্রে আমেরিকা সবচেয়ে কম দামের বাজার হতে পারে।
আমেরিকার তুলনায় ভারতে iPhone-এর দাম বেশি কেন?
ভারতে iPhone-এর দাম বেশি হওয়ার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কোনও একটি কর বা শুল্ক দিয়েই পুরো দামের ব্যবধান ব্যাখ্যা করা যায় না।
প্রথমত, আমেরিকায় Apple-এর ওয়েবসাইটে সাধারণত যে দাম দেখানো হয়, তার সঙ্গে রাজ্য ও স্থানীয় বিক্রয়কর যুক্ত থাকে না। ফোন কেনার সময় ক্রেতাকে সেই কর অতিরিক্ত দিতে হয়। অন্যদিকে, ভারতে প্রকাশিত খুচরো দামের মধ্যেই GST অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে প্রথম দেখায় আমেরিকার দাম অনেক কম মনে হয়।
দ্বিতীয়ত, মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ। ডলারের তুলনায় টাকার মূল্য পরিবর্তন হলেই Apple সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় বাজারে দাম বদলায় না। বিভিন্ন বাজারে সংস্থার নিজস্ব মূল্য নির্ধারণের কৌশল রয়েছে।
এ ছাড়াও আমদানি সংক্রান্ত খরচ, পণ্য পরিবহণ, ডিস্ট্রিবিউশন এবং স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি দামের উপর প্রভাব ফেলে। ভারতে iPhone তৈরি বা অ্যাসেম্বল করা হলেও সব মডেলের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যায় না। স্থানীয় উৎপাদন আন্তর্জাতিক মূল্য নির্ধারণের একটি অংশ মাত্র।
উপাদানের দামও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে The Wall Street Journal-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে Apple CEO টিম কুক মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে Apple ভারতে MacBook এবং iPad-এর কয়েকটি মডেলের দাম বাড়িয়েছে। তবে এই ঘটনা থেকে iPhone-এর আন্তর্জাতিক দামের ব্যবধানের কতটা অংশ মেমোরি চিপের দামের কারণে তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
বিদেশ থেকে iPhone আনলে কাস্টমসের কত খরচ হতে পারে?
বিদেশ থেকে iPhone কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল ভারতের শুল্কনীতি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে সংশোধিত Baggage Rules কার্যকর হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, আকাশপথ বা সমুদ্রপথে ভারতে আসা যোগ্য বাসিন্দা যাত্রীদের জন্য সাধারণ শুল্কমুক্ত সীমা ৭৫,০০০ টাকা।
তবে এই সুবিধা সবার জন্য এক নয়।
| যাত্রীর শ্রেণি | সাধারণ শুল্কমুক্ত সীমা |
| ভারতীয় বাসিন্দা | ৭৫,০০০ টাকা |
| ভারতীয় বংশোদ্ভূত পর্যটক | ৭৫,০০০ টাকা |
| পর্যটক ভিসা ছাড়া অন্য ভিসায় আসা বিদেশি | ৭৫,০০০ টাকা |
| বিদেশি পর্যটক | ২৫,০০০ টাকা |
| বিমান বা জাহাজের ক্রু সদস্য | ২,৫০০ টাকা |
সূত্র: অর্থ মন্ত্রকের Baggage Rules, 2026। যোগ্যতা, ব্যতিক্রম এবং অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য। স্থলপথে ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাধারণ শুল্কমুক্ত সীমা প্রযোজ্য নয়।
এখানে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত ফোন এবং নতুন কেনা ফোনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা ব্যবহৃত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু নতুন কেনা ফোনের ক্ষেত্রে একই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়।
বিশেষ করে ৩-৪ লক্ষ টাকার iPhone-এর ক্ষেত্রে ৭৫,০০০ টাকার শুল্কমুক্ত সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কত শুল্ক দিতে হবে, তা নির্ভর করে যাত্রীর যোগ্যতা, পণ্যের প্রকৃতি, মূল্যায়ন এবং প্রযোজ্য শুল্কবিধির উপর।
ফোনটি পকেটে নিয়ে আসা বা বাক্স খুলে ফেলা মানেই কাস্টমসের দায় এড়ানো যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। নির্দিষ্ট শুল্কের হিসাব জানার জন্য Central Board of Indirect Taxes and Customs বা CBIC-এর সরকারি নির্দেশিকা দেখা উচিত।
আমেরিকা, দুবাই, জাপান বা চিন থেকে iPhone কেনার আগে কী দেখবেন?
বিদেশ থেকে ফোন কেনার ক্ষেত্রে শুধু দাম নয়, ফোনের নির্দিষ্ট দেশের মডেল ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভারতে ব্যবহারের জন্য SIM-এর ধরন আগে যাচাই করা উচিত।
| দেশ | কেনার ক্ষেত্রে আকর্ষণ | কেনার আগে যা দেখবেন |
| আমেরিকা | iPhone Duo-র তুলনায় সবচেয়ে কম তালিকাভুক্ত দাম | Sales Tax, eSIM-only মডেল, ওয়ারেন্টি |
| কানাডা | আমেরিকার কাছাকাছি দাম | প্রাদেশিক বিক্রয়কর, eSIM |
| UAE | তুলনামূলক কম দাম, ভারতীয়দের কাছে জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য | eSIM, কাস্টমস, ওয়ারেন্টি |
| হংকং | প্রতিযোগিতামূলক দাম | নির্দিষ্ট মডেল ও SIM সামঞ্জস্য |
| জাপান | কয়েকটি মডেলে কম দাম | ক্যামেরার শাটার আচরণ, SIM, ওয়ারেন্টি |
| চিন | ভারতের তুলনায় কম দাম | আঞ্চলিক SIM/eSIM ব্যবস্থা ও সফটওয়্যার বৈশিষ্ট্য |
| ভারত | স্থানীয় পরিষেবা, ফিন্যান্সিং ও বিনিময় অফার | ব্যাঙ্ক অফার, এক্সচেঞ্জ ডিসকাউন্ট |
SIM সংক্রান্ত বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। Apple-এর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা, কানাডা, জাপান এবং UAE-তে বিক্রি হওয়া iPhone 18 Pro সিরিজের মডেলগুলি eSIM-only। অর্থাৎ, সেখানে ফিজিক্যাল SIM কার্ড বসানোর ট্রে নেই।
চিনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। Apple-এর সাপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চিনের মূল ভূখণ্ডে বিক্রি হওয়া iPhone 18 Pro এবং Pro Max-এ ফিজিক্যাল Nano-SIM অথবা eSIM ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। তবে চিনের iPhone Duo eSIM-only এবং সেটি সক্রিয় করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। চিনের ক্যারিয়ারের eSIM প্রোফাইল সব মডেলে ইনস্টল করা যায় না বলেও Apple জানিয়েছে।
ভারতীয় SIM ব্যবহার করতে চাইলে কেনার আগে ফোনের নির্দিষ্ট মডেল নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরের eSIM সমর্থন যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
বিদেশ থেকে কেনা iPhone-এর ওয়ারেন্টি কি ভারতে পাওয়া যাবে?
বিদেশ থেকে কেনা iPhone ভারতে সার্ভিস পাওয়া থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বঞ্চিত হয় না। তবে আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি পরিষেবা নিশ্চিত ধরে নেওয়াও ঠিক নয়।
Apple-এর ওয়ারেন্টির শর্ত অনুযায়ী, কোনও iPhone যে দেশে Apple বা তার অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে প্রথম বিক্রি হয়েছে, সেই দেশের মধ্যেই সার্ভিস সীমাবদ্ধ রাখার অধিকার সংস্থার রয়েছে। পাশাপাশি যন্ত্রাংশের উপলব্ধতা, মেরামতির সুযোগ এবং সার্ভিস চার্জ দেশভেদে আলাদা হতে পারে।
বিশেষ করে iPhone Duo-র মতো দামি মডেল কেনার ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশ থেকে ফোন কিনে বড় অঙ্কের টাকা বাঁচালেও পরে মেরামতির জন্য মূল দেশে পাঠানোর প্রয়োজন হলে অসুবিধা তৈরি হতে পারে।
তাই কেনার আগে নির্দিষ্ট মডেল নম্বর দিয়ে Apple Support India-র সঙ্গে যোগাযোগ করে ভারতে ওয়ারেন্টি ও মেরামতির সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত করা ভালো। আসল ক্রয় রসিদও যত্ন করে রাখতে হবে।
কখন ভারতে iPhone কেনাই বেশি সুবিধাজনক?
ভারতে Apple-এর প্রকাশিত দামই যে ক্রেতাকে শেষ পর্যন্ত দিতে হবে, এমন নয়। Apple India-র স্টোরে যোগ্য ব্যাঙ্ক কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটায় তাৎক্ষণিক ক্যাশব্যাক, EMI এবং অন্যান্য পেমেন্ট সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পুরনো ফোন বদলে দেওয়ার বিনিময় সুবিধাও রয়েছে।
তবে সরাসরি মূল্যছাড় এবং এক্সচেঞ্জ অফারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোনও দোকান যদি পুরনো ফোন বদলে দেওয়ার পর iPhone-এর দাম ৯০,০০০ টাকা বলে, অথচ পুরনো ফোনটির মূল্য ৪০,০০০ টাকা ধরা হয়, তাহলে সেই ৪০,০০০ টাকা আসলে ক্রেতার নিজের সম্পদের মূল্য। এটিকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যের ছাড় বলা ঠিক নয়।
তাই বিদেশ থেকে কেনার সঙ্গে ভারতের অফার তুলনা করার সময় প্রকৃত নগদ খরচ, পুরনো ফোনের বিনিময়মূল্য এবং বিদেশ থেকে কিনলে যে সুবিধাগুলি পাওয়া যাবে না, সেগুলিও হিসাব করা উচিত।
তাহলে ২০২৬ সালে বিদেশ থেকে iPhone কেনা কি লাভজনক?
এই প্রতিবেদনে তুলনা করা মডেলগুলির ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত দামে আমেরিকা সবচেয়ে এগিয়ে। iPhone Duo 2TB-এর দাম সেখানে ৩,১৯৯ ডলার, যেখানে ভারতে একই মডেলের দাম ৪,৪৯,৯০০ টাকা। কানাডা, হংকং, জাপান এবং UAE-তেও দাম তুলনামূলক কম। চিনেও একই মডেলের দাম ভারতের চেয়ে কম।
শুধু iPhone Duo নয়, iPhone 18 Pro এবং Pro Max-এর বিভিন্ন স্টোরেজ ভ্যারিয়্যান্টের ক্ষেত্রেও আমেরিকার সঙ্গে ভারতের দামের উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।
তবে সবচেয়ে কম দামের দেশ মানেই ভারতীয় ক্রেতার জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী বাজার নয়। বিক্রয়কর, কাস্টমস, মুদ্রা বিনিময়ের খরচ, ওয়ারেন্টি এবং SIM-এর সামঞ্জস্য, সবকিছু বিবেচনা করতে হবে।
যাঁরা আগে থেকেই আমেরিকা বা অন্য কোনও দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন, তাঁদের কাছে বিদেশ থেকে iPhone কেনা লাভজনক হতে পারে। কিন্তু শুধু ফোন কেনার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচে সাশ্রয়ের বড় অংশ নষ্ট হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতের Apple স্টোর ও অনুমোদিত বিক্রেতাদের ব্যাঙ্ক অফার, এক্সচেঞ্জ সুবিধা এবং স্থানীয় পরিষেবার বিষয়গুলিও তুলনা করে দেখা জরুরি।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.