সম্প্রসারণের পরই ইস্তফা ১৮ বিধায়কের! টলমল ওমর আবদুল্লাহ র সরকার - 24 Ghanta Bangla News
Home

সম্প্রসারণের পরই ইস্তফা ১৮ বিধায়কের! টলমল ওমর আবদুল্লাহ র সরকার

Spread the love

শ্রীনগর: জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতিতে নতুন করে অস্বস্তি বাড়ল মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার(Omar Abdullah)। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের কয়েক দিনের মধ্যেই এবার নিজের দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) একাংশ বিধায়কের বিদ্রোহের…

শ্রীনগর: জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতিতে নতুন করে অস্বস্তি বাড়ল মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার(Omar Abdullah)। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের কয়েক দিনের মধ্যেই এবার নিজের দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) একাংশ বিধায়কের বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন তিনি। দলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। শুক্রবার শ্রীনগরে দলের অন্তত ১৮ জন বিধায়ক দীর্ঘ বৈঠকে বসেন।

শুধু তাই নয়, আরও ছয়জন বিধায়ক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেই বৈঠকে যোগ দিয়ে তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে বিদ্রোহী শিবিরে ২৪ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ওমর আবদুল্লার (Omar Abdullah)নেতৃত্ব এবং সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি করেছে।

আরও দেখুনঃ বেঙ্গালুরুর হোটেলের সুইমিং পুলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু দুই বিদেশির, আহত আরও দু’জন

সূত্রের খবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিধায়ক কায়সার জামশিদ লোনের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কার, সরকারের কাজের স্বচ্ছতা এবং মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ক্ষুব্ধ বিধায়কদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কাদের মন্ত্রী করা হয়েছে এবং কাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও স্বচ্ছ মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। বিধায়কদের মতামতকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ।

বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের অন্যতম প্রধান দাবি মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির আসলাম ওয়ানিকে পদ থেকে সরানো। পাশাপাশি উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী-সহ কয়েকজন মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর দাবিও উঠেছে। শুধু ব্যক্তিবিশেষের অপসারণ নয়, গোটা মন্ত্রিসভার কাঠামো নতুন করে সাজানোর পক্ষেও সওয়াল করেছেন তাঁরা।

তাঁদের দাবি, যেসব মন্ত্রী ইতিমধ্যে দু’বছর দায়িত্ব সামলেছেন, তাঁদের ভূমিকা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হবে। একইসঙ্গে দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত এক ক্ষুব্ধ বিধায়কের বক্তব্য, তাঁরা দলের বিরুদ্ধে নন, বরং দলকে আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করে নিজেদের দাবিগুলি জানাতে চান তাঁরা। তাঁর কথায়, দলের মধ্যে সবকিছু আগের মতো চলতে পারে না। সরকার পরিচালনায় জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিধায়কদের ক্ষমতায়নও জরুরি। অন্য এক নেতার দাবি, বৈঠকে উপস্থিত প্রত্যেকেই দলের ঐক্য বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে কয়েকজন বিধায়ক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার কাছে তাঁদের যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বলেও জানা গিয়েছে।

বিক্ষুব্ধ শিবিরের বক্তব্য, ন্যাশনাল কনফারেন্স কোনও ব্যক্তি বা পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। দল এবং সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কয়েকজনের একচ্ছত্র প্রভাব থাকা উচিত নয়। তাঁদের মতে, নির্বাচিত বিধায়কদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের কাছে দলের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে তাঁরা একজোট হয়েছেন। চারটি প্রধান দাবিকে সামনে রেখে আগামী দিনে দলের নেতৃত্বের উপর চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, ৯০ আসনের জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিধায়ক সংখ্যা ৪১। কংগ্রেসের ছয় বিধায়ক এবং কয়েকটি ছোট দল ও নির্দল বিধায়কের সমর্থনে সরকার গঠন করেছে দলটি। ফলে নিজেদের দলের মধ্যেই ২৪ জন বিধায়কের অসন্তোষের খবর ওমর সরকারের (Omar Abdullah)কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও এই মুহূর্তে বিদ্রোহী বিধায়কেরা সরকার ফেলে দেওয়ার কোনও সরাসরি ঘোষণা করেননি। বরং তাঁরা দলের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান বলে জানিয়েছেন।

তবে ন্যাশনাল কনফারেন্সের অন্দরে অসন্তোষের ঘটনা এই প্রথম নয়। দলের শ্রীনগরের সাংসদ আগা রুহুল্লা মেহদির সঙ্গে আবদুল্লা (Omar Abdullah)পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি তিনি সংসদীয় আসন এবং দলের সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর এই অবস্থান দলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে সাংসদের অসন্তোষ, অন্যদিকে বিধায়কদের একাংশের প্রকাশ্য ক্ষোভ নিয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্সের সামনে এখন বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *