বাংলাদেশে ফের হিন্দু খুন! ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে রবীন্দ্র ঋষিকে খুন করল সাদ্দাম হোসেন
ঢাকা: ময়মনসিংহের ভালুকায় এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে (Bangladesh)হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামিরদিয়া এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট সংলগ্ন স্থানে…
ঢাকা: ময়মনসিংহের ভালুকায় এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে (Bangladesh)হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামিরদিয়া এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট সংলগ্ন স্থানে রবীন্দ্র ঋষি নামে ৪৩ বছর বয়সী এক হিন্দু সেলুন মালিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
নিহত রবীন্দ্র ঋষি ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়ায় কাশেমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং সেখানে নিজের সেলুন চালাতেন। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি সেলুনে বসে ছিলেন। এ সময় সাদ্দাম হোসেন সেলুনে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করেন।
আরও দেখুনঃ ‘দিল্লি নয়, ঢাকা’ স্লোগানে উত্তাল বাংলাদেশ, তারেকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ভারত-বিরোধী আওয়াজ
প্রাণ বাঁচাতে রবীন্দ্র সেলুন থেকে বেরিয়ে সাদ্দামের বাবার দোকানে আশ্রয় নিতে চেষ্টা করেন(Bangladesh)। কিন্তু সেখানেও তাঁকে বারবার ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর তিনি পাশের একটি বাড়ির উঠানে আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেও আক্রমণ চালানো হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্ত্রী সূচিত্রা রানী ঋষি জানিয়েছেন, সাদ্দাম প্রায়ই তাঁর স্বামীর কাছ থেকে নেশার জন্য টাকা চাইতেন এবং সেলুনে চুল কাটার পর টাকা দিতেন না। এ নিয়ে বারবার বিরোধ হতো। এর আগেও সাদ্দাম তাঁর স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। পরিবারের দাবি, পুরোনো বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে। তদন্ত অব্যাহত আছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। (Bangladesh)সেলুন ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তদন্ত এগোচ্ছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবীন্দ্র ঋষির মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে গেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছেন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তদন্ত শেষে আদালতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।