উত্তরাখণ্ডে ল্যান্ড মাফিয়া তাহির মোল্লার খেল খতম! ১৪ হেক্টর বনভূমি দখল করল বিজেপি সরকার
নৈনিতাল: উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলার রামনগর এলাকায় বনভূমি দখলের(Uttarakhand) বিরুদ্ধে বড় অভিযান চালিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। শনিবার সকাল থেকে পুছড়ি বা পুছদি বস্তিতে বুলডোজার অভিযান শুরু হয়।…
নৈনিতাল: উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলার রামনগর এলাকায় বনভূমি দখলের(Uttarakhand) বিরুদ্ধে বড় অভিযান চালিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। শনিবার সকাল থেকে পুছড়ি বা পুছদি বস্তিতে বুলডোজার অভিযান শুরু হয়। প্রায় ১৪ হেক্টর বনবিভাগের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি থেকে ৮৬টি পাকা বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই অভিযানকে ধামি সরকারের অতিক্রমণবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোসি নদীর কাছে তরাই পশ্চিম বন বিভাগের অধীন এই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ নির্মাণ চলছিল বলে প্রশাসনের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগ জানিয়েছে, ভূমি মাফিয়া তাহির মোল্লা উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা লোকজনকে বনভূমি বিক্রি করে এই বসতি গড়ে তুলেছিলেন। নোটিশ দেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছেদ না হওয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ের এই অভিযান চালানো হয়।
আরও দেখুনঃ গ্রামীণ ভারতে শৌচাগার বিপ্লব! ৬৭ শতাংশ থেকে বদলে গেল ভারতের ছবি
সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে অভিযান শুরু হয়। তিন কোম্পানি পিএসিসহ শতাধিক পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মী মোতায়েন করা হয়। এলাকাকে কয়েকটি জোন ও সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। জেসিবি ও বুলডোজার দিয়ে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালতে কিছু মামলা চলমান থাকায় কয়েকটি বাড়ি ছাড়া বাকিগুলো ভাঙা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও একই এলাকায় প্রথম পর্যায়ের অভিযান চালানো হয়েছিল। তখন প্রায় ৫১টি অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয় এবং কিছু জমি উদ্ধার করা হয়। (Uttarakhand)এবারের অভিযানে আরও বেশি এলাকা দখলমুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বনবিভাগের দাবি, এই জমি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অংশ এবং এখানে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলা সম্পূর্ণ অবৈধ।
অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। কেউ কেউ বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। এক মহিলার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল মালিকানা প্রমাণ করার জন্য। যারা প্রমাণ দিতে পারেননি, তাঁদের স্থাপনাই সরানো হয়েছে।
উত্তরাখণ্ড সরকার সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যজুড়ে অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বনভূমি, সরকারি জমি ও নদীপাড়ের এলাকায় অতিক্রমণ রোধে একাধিক অভিযান চালানো হচ্ছে। রামনগরের এই ঘটনাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, বনভূমি রক্ষা করা পরিবেশ ও আইনের শাসনের জন্য জরুরি।
তাহির মোল্লার বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছিল। বনবিভাগ ও পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে জানা গেছে। তাঁকে খোঁজা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সস্তায় স্ট্যাম্প পেপারে জমি বেচাকেনার মাধ্যমে এই বসতি গড়ে উঠেছিল।