বাংলাদেশ অনড়! ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে জোর নেপালের
নয়াদিল্লি: ভারত-নেপাল সম্পর্কে নতুন গতি এসেছে। (India Nepal )উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ আবার শুরু হয়েছে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি আগামী ৪ নভেম্বর কাঠমান্ডু যাচ্ছেন।…
নয়াদিল্লি: ভারত-নেপাল সম্পর্কে নতুন গতি এসেছে। (India Nepal )উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ আবার শুরু হয়েছে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি আগামী ৪ নভেম্বর কাঠমান্ডু যাচ্ছেন। তাঁর এই সফর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের নয়াদিল্লি সফরের ভিত্তি তৈরি করবে। শাহ এ মাসের শেষ দিকে ভারত সফরে আসতে পারেন।
নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন নামেই বেশি পরিচিত, চলতি বছরের মার্চে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসেছেন। তাঁর সরকার গঠনের পর প্রথম দিকে দেশীয় বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলে বিদেশি সফর ও বৈঠক কিছুটা পিছিয়ে রাখা হয়েছিল। এখন সেই পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে শাহের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে নয়াদিল্লি যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সম্ভবত ২২ নভেম্বরের কাছাকাছি এই সফর হতে পারে।
আরও দেখুনঃ যমুনায় ডুব দিয়ে স্বচ্ছতার দাবি মনোজ তিওয়ারির! পাল্টা চ্যালেঞ্জ আপের, তথ্য কী বলছে?
মিশ্রির সফর এই প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। (India Nepal)তিনি কাঠমান্ডুতে নেপালি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সফরের এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করবেন। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র, যেমন বাণিজ্য, সংযোগ, জলবিদ্যুৎ ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কথা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটকোশি নদীর বন্যা পরবর্তী পুনর্গঠন বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এই দুর্যোগে নেপাল ও ভারত দুই দেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।
মিশ্রির আগে নতুন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সুধাকর দালেলা ৩ নভেম্বর কাঠমান্ডু পৌঁছাবেন। তিনি তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে এই পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত ও নেপালের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। (India Nepal)খোলা সীমান্ত, সাংস্কৃতিক মিল এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতা দুই দেশকে ঘনিষ্ঠ করে রেখেছে। তবে সময় সময় সীমান্ত বিরোধ, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা বা অন্যান্য বিষয়ে টানাপোড়েন দেখা যায়। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ককে নতুন করে সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। শাহের সফর যদি সফল হয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস আরও বাড়বে।
কূটনৈতিক মহল বলছে, মিশ্রির সফর শুধু প্রোটোকল নয়। এটি দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পথ প্রশস্ত করবে। নেপালের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ভারতের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ভারতের জন্যও স্থিতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ নেপাল কৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয়।
এই মুহূর্তে দুই রাজধানীতে প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। কাঠমান্ডুতে সরকারি কর্মকর্তারা সফরের সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন। নয়াদিল্লিতেও বিদেশ মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুই দেশের জনগণও এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখন সামনে এসেছে।