ইথানলের জোগান কী ভাবে? কেন্দ্রকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
এই সময়: পরিবেশ দূষণ কমানো এবং কৃষকদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ১০০ শতাংশ ইথানল চালিত গাড়ি চালানোয় সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রক। সেই অনুযায়ী, মোটর ভেহিকলস নিয়মে সংশোধনও করা হয়েছে। কিন্তু, দেশে ১০০ শতাংশ ইথানল চালিত গাড়ি চললে যে চাহিদা তৈরি হবে, সেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানির জোগান কী ভাবে নিশ্চিত করা হবে, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের কাছে তা জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের এই প্রশ্নে ইথানল উৎপাদনের পরিকাঠামো, জ্বালানির জোগান এবং দেশের কৃষকদের স্বার্থ—তিনটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিকল্প জ্বালানির প্রসারে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া যথেষ্ট নয়, তার বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা জরুরি। উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক ১৯৮৯-এর মোটর ভেহিকলস রুল-এ সংশোধন এনে ই১০০ ইথানল ব্যবহার করতে সক্ষম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি চালানোর পথ প্রশস্ত করেছে। এই ধরনের গাড়ি প্রায় বিশুদ্ধ ইথানল দিয়েও চলতে পারে। প্রচলিত পেট্রল চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে জ্বালানিতে ইথানল মেশানোর পরিমাণের নির্দিষ্ট সীমা থাকলেও ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তিতে অনেক বেশি মাত্রায় ইথানল ব্যবহার করা সম্ভব। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে ই৮৫ এবং ই১০০ জ্বালানিতে চলা গাড়ির নির্গমন সংক্রান্ত শংসাপত্রের নিয়মও স্পষ্ট করা হয়েছে।
তবে এই অনুমোদনের পরের দিনই, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, পেট্রলে ইথানল মেশানোর বর্তমান ২০ শতাংশের সীমা অদূর ভবিষ্যতে বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই। ফলে এক দিকে ১০০ শতাংশ ইথানলচালিত গাড়ির অনুমোদন এবং অন্য দিকে পেট্রলে ইথানল মেশানোর মাত্রা আপাতত না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
ইথানল বরাদ্দ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক খবরের প্রসঙ্গ টেনে বেঞ্চ জানতে চায়, যখন ই১০০ জ্বালানিতে চলা গাড়ির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তখন সেই জ্বালানির সরবরাহ কী ভাবে করা হবে। কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি জবাবে জানান, এই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোয় ব্যাপক বদলের প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ, শুধু গাড়ির প্রযুক্তিগত ক্ষমতা তৈরি করলেই হবে না, সেই অনুপাতে ইথানল উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং সরবরাহের ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।
শুনানিতে কৃষকদের স্বার্থের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি সুন্দরেশ বলেন, ‘বৃহত্তর জনস্বার্থ এবং পরিবেশের দিকটি বিবেচনা করার পাশাপাশি দেশের কৃষকদের ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।’ গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।