RAW-এর চর সন্দেহ, বিস্ফোরক পডকাস্ট! প্রাক্তন বাংলাদেশি বায়ুসেনা আধিকারিকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য
ঢাকা: ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভাইরাল ভিডিও ধারণকারী এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রাক্তন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তহসিফ সৌরির…
ঢাকা: ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভাইরাল ভিডিও ধারণকারী এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রাক্তন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর ঢাকার তুরাগ নদী থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে তাঁর চাকরিচ্যুতি, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর (RAW) সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ এবং গত বছর এক স্কুল চত্বরে ফাইটার জেট দুর্ঘটনা নিয়ে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য।
ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করার পর মোটরসাইকেল মেরামতের কথা বলে এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ২৮ বছর বয়সি তহসিফ সৌরি। এমনকি মাকে “মমি, আমি আসছি” বলে একটি মেসেজও পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার তুরাগ নদী থেকে তাঁর ভাসমান মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল রিপোর্টের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন না থাকলেও নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং পেট ফোলা ছিল। তবে মৃত্যুর আসল কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই স্পষ্ট হবে। সৌরির বাবা ও কাকা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন।
শেখ হাসিনার ভিডিও বিতর্ক ও বরখাস্তের নেপথ্য
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময়কার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ‘আমার দেশ’-এর দাবি অনুযায়ী, এই ভিডিওটি রেকর্ড করেছিলেন সৌরি ও অপর এক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা রিফাত আশরাফি। ভিডিও প্রকাশের ঠিক কিছুদিন পরেই, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিমান বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয় সৌরিকে। যদিও বিমান বাহিনী বা আইএসপিআর (ISPR)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে তাঁর বরখাস্তের সঙ্গে ওই ভিডিওর কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি নিয়মিত নিয়মের মাধ্যমেই করা হয়েছে।
র’-এর যোগসাজশ বিতর্ক এবং পডকাস্টের বিস্ফোরক তথ্য
‘আমার দেশ’ পত্রিকার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ওই ভিডিও কাণ্ডের তদন্তে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর যোগাযোগের তথ্য মিলেছে, যেখানে সৌরির নামও ছিল। এর জেরে তাঁর পাসপোর্টও জব্দ করা হয়।
তবে চলতি বছরের জুলাই মাসে ‘স্পিক উইশ রশীদ’ নামক একটি পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে এই সমস্ত অভিযোগকে সর্বৈব অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেন সৌরি। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, ওই প্রোপাগান্ডার কারণেই তাঁর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। পাশাপাশি, গত বছর ২১ জুলাই Milestone School and College-এর চত্বরে বিমান বাহিনীর চেংদু এফটি-৭বিজিআই (Chengdu FT-7BGI) ফাইটার জেট ক্র্যাশ এবং তাতে ৩৭ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। পডকাস্টে তিনি নিজের নিরাপত্তার শঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতিক্রিয়া
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এই মৃত্যুর ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, একটি পরিকল্পিত অপপ্রচারের শিকার হয়েছিলেন সৌরি। বিমান বাহিনীর ভেতরের নানা অনিয়ম এবং স্কুল দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ খোলার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
সৌরি চাকরি হারানোর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, নেত্র নিউজ-এর মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি সম্প্রতি একটি সিকিউরিটি গার্ড সাপ্লাইয়ের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। জীবন যখন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছিল, ঠিক তখনই এমন আকস্মিক মৃত্যু ও রহস্যজনক পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা৷
নওগাঁয় ২ কোটির শিবলিঙ্গ চুরি! পাচারের আগেই বিজিবি র জালে মোস্তফা আলী
হাসিনার ফেরার আগেই রহস্যমৃত্যু! ভিডিও-কাণ্ডে নাম জড়ানো বায়ুসেনা আধিকারিকের দেহ উদ্ধার