২ ন্যানোমিটারের চিপে চমক, ডিসেম্বরে ভারতে আসতে পারে iQOO 16
মুম্বই: ভারতের স্মার্টফোন বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেল নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে iQOO। সংস্থার আসন্ন iQOO 16 স্মার্টফোনটি ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে লঞ্চ হতে পারে। টিপস্টার…
মুম্বই: ভারতের স্মার্টফোন বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেল নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে iQOO। সংস্থার আসন্ন iQOO 16 স্মার্টফোনটি ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে লঞ্চ হতে পারে। টিপস্টার অভিষেক যাদবের দাবি, ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ফোনটির আত্মপ্রকাশ হতে পারে। যদিও iQOO এখনও নির্দিষ্ট লঞ্চের তারিখ ঘোষণা করেনি, তবে India Mobile Congress (IMC) 2026-এ সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ভারতীয় বাজারে ফোনটি আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই মডেলের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে Qualcomm-এর Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6 চিপসেট, যা ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি। পাশাপাশি উন্নত ডিসপ্লে, ক্যামেরা, কুলিং সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক সুবিধার উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থা।
iQOO 16-এর ভারতীয় সংস্করণে Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6 Mobile Platform ব্যবহারের কথা সংস্থা নিজেই জানিয়েছে। ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এই চিপসেট উন্নত পারফরম্যান্স এবং শক্তি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে বাস্তবে ফোনটির গতি, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাটারির স্থায়িত্ব কতটা ভালো হবে, তা নির্ভর করবে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সামগ্রিক সমন্বয়ের উপর। সংস্থার দাবি, এই ফোনের লক্ষ্য শুধু গেমিং বা প্রসেসরের শক্তি বাড়ানো নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্ল্যাগশিপ অভিজ্ঞতা দেওয়া।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত IMC 2026-এ iQOO 16 প্রদর্শন করা হয়েছিল। সেখানে সংস্থার ভারতীয় বিভাগের প্রধান নিপুণ মারিয়া Gadgets 360-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানান, ফোনটির উন্নয়নে ডিসপ্লে, ক্যামেরা, কুলিং সিস্টেম এবং AI ক্ষমতার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, উচ্চক্ষমতার চিপসেটের পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহার, ছবি তোলা এবং দীর্ঘক্ষণ গেম খেলার অভিজ্ঞতা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতীয় সংস্করণে ফোনটি প্রথমবারের মতো OriginOS 7 অপারেটিং সিস্টেম-সহ বাজারে আসবে বলেও জানিয়েছে সংস্থা। ফলে সফটওয়্যারের দিক থেকেও এটি iQOO-র ভারতীয় পোর্টফোলিওতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে।
ফোনটির চিনা সংস্করণ গত সেপ্টেম্বরেই বাজারে এসেছে। সেই মডেলে রয়েছে ৬.৮৫ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ১,৪৪০ × ৩,১৬৮ পিক্সেল। ডিসপ্লেটিতে সর্বোচ্চ ১৬৫ হার্টজ রিফ্রেশ রেট রয়েছে। উচ্চ রিফ্রেশ রেটের কারণে দ্রুত স্ক্রলিং, অ্যানিমেশন এবং সমর্থিত গেমগুলিতে দৃশ্যের পরিবর্তন আরও মসৃণ হতে পারে। বড় AMOLED প্যানেল এবং ২K রেজোলিউশন ভিডিও দেখা ও গেমিংয়ের অভিজ্ঞতাকেও উন্নত করার সম্ভাবনা রাখে। তবে ভারতীয় সংস্করণে চিনা মডেলের সমস্ত ডিসপ্লে বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকবে কি না, তা আনুষ্ঠানিক স্পেসিফিকেশন প্রকাশের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে চিনা iQOO 16-এ Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6 চিপসেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি RAM এবং ১ টেরাবাইট পর্যন্ত ইন্টারনাল স্টোরেজ রয়েছে। এই কনফিগারেশন একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে চালানো, বড় গেম ব্যবহার এবং বেশি পরিমাণে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের জন্য উপযোগী হতে পারে। তবে ভারতীয় বাজারে কোন কোন RAM ও স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত ঘোষণা হয়নি। একইভাবে ফোনটির ভারতীয় সংস্করণের দামও প্রকাশ করেনি সংস্থা।
ক্যামেরার ক্ষেত্রেও চিনা সংস্করণে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার রয়েছে। পিছনে তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর-সহ ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা, যা দূরের বিষয়বস্তুর ছবি তোলার ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। সামনে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। তিনটি পিছনের সেন্সরের পৃথক ব্যবহার ছবি তোলার বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সুবিধা দিতে পারে। তবে ক্যামেরার প্রকৃত মান শুধু মেগাপিক্সেলের উপর নির্ভর করে না। সেন্সরের আকার, লেন্স, ইমেজ প্রসেসিং এবং সফটওয়্যারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় সংস্করণে একই ক্যামেরা ব্যবস্থা থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ব্যাটারির ক্ষেত্রেও চিনা মডেলটি উল্লেখযোগ্য। এতে রয়েছে ৮,৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টার ব্যাটারি, সঙ্গে ১০০ ওয়াট তারযুক্ত এবং ৪০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের সুবিধা। বড় ব্যাটারি দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে গেমিং, ভিডিও দেখা এবং অনলাইন কাজের ক্ষেত্রে। তবে ব্যাটারির প্রকৃত স্থায়িত্ব নির্ভর করবে ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট, নেটওয়ার্ক ব্যবহার, প্রসেসরের কাজের চাপ এবং সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশনের উপর। ভারতীয় সংস্করণে একই ব্যাটারি ও চার্জিং প্রযুক্তি থাকবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
iQOO 16 ভারতের প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বিভাগে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে। ২ ন্যানোমিটারের ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট, উচ্চ রিফ্রেশ রেটের AMOLED ডিসপ্লে, উন্নত ক্যামেরা এবং বড় ব্যাটারির সমন্বয় ফোনটির প্রধান আকর্ষণ হতে পারে। তবে লঞ্চের তারিখ, দাম, ভারতীয় সংস্করণের সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন এবং ভ্যারিয়েন্টের তালিকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। টিপস্টারের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের ১৫ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে ফোনটি ভারতে আসতে পারে। এখন ক্রেতাদের নজর থাকবে সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে, বিশেষ করে ভারতীয় বাজারে এর দাম কত রাখা হয় এবং চিনা সংস্করণের তুলনায় কোনও পরিবর্তন আনা হয় কি না।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.