ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন: অন্তর্বর্তী নির্দেশ আজ দিতে পারে হাইকোর্ট
এই সময়: কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের মামলায় আজ, বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ। বুধবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া অগস্ট মাস থেকে চললেও এতদিন পরে কেন অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলা আনা হলো?
মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, সিদ্ধান্ত সর্বসমক্ষে আসার পরেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘গোটা প্রক্রিয়াটিই স্বেচ্ছাচারী এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’ রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র পাল্টা বলেন, ‘মামলাটি অবকাশকালীন বেঞ্চে শোনার মতো জরুরি নয়।’
কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচনের আগেই ওয়ার্ডের আসন সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন কসবার বাসিন্দা দীপু দাস। সেই মামলায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব পাঠানোর আইনি ক্ষমতা কমিশনারের রয়েছে কি না, রাজনৈতিক দলগুলির মতামত জানানোর আগেই কী ভাবে প্রক্রিয়া এগোল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
বিকাশ জানান, ৫ অগস্ট ডিলিমিটেশনের সুপারিশ করা হয় এবং ৭ অগস্ট বিলে সম্মতি দেন রাজ্যপাল। ১১ সেপ্টেম্বর ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। তাঁর বক্তব্য, ‘২২ অগস্ট কলকাতা পুর কমিশনার ওয়ার্ড বিন্যাসের প্রস্তাব রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের কাছে পাঠান। একই দিনে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে ওই প্রস্তাব নিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়।’ বিকাশের প্রশ্ন, সেই মতামত জানানোর প্রক্রিয়ার মধ্যেই কী ভাবে প্রস্তাব মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো হলো?
বিচারপতি ভট্টাচার্য পুর কমিশনারের এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি কী তা জানতে চান। নির্দিষ্ট কোনও বিধিবদ্ধ পদ্ধতি রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে শুনানিতে। বিকাশের অভিযোগ, প্রশাসককে সামনে রেখে এই পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসকের এই ধরনের পদক্ষেপ করার ক্ষমতা নেই। বিচারপতি মন্তব্য করেন, দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য সম্ভবত এই প্রক্রিয়া নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। পাল্টা বিকাশের দাবি, এর পিছনে পরিকল্পিত উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল অবশ্য মামলার জরুরি শুনানির বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, কলকাতা পুরসভার ভোটের ঘোষণা কবে হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। অন্য দিকে, ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণে জনসংখ্যার ভারসাম্য মানা হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন মামলাকারী।