মাধ্যমিকের পর পড়ুয়াদের ড্রপআউট রুখতে বড় উদ্যোগ সংসদের - 24 Ghanta Bangla News
Home

মাধ্যমিকের পর পড়ুয়াদের ড্রপআউট রুখতে বড় উদ্যোগ সংসদের

Spread the love

কলকাতা: মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়াদের (West Bengal Education ) ড্রপআউট সমস্যা মোকাবিলায় উদ্যোগী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়াদের ভর্তি ও…

কলকাতা: মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়াদের (West Bengal Education ) ড্রপআউট সমস্যা মোকাবিলায় উদ্যোগী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়াদের ভর্তি ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার হার বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করবে সংসদ। মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের পর এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন সংসদের নতুন সভাপতি অসিত কুমার মণ্ডল। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিকের সেমেস্টার পদ্ধতি পর্যালোচনা এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে এই ব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত সংগ্রহের পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তিনি।

সংসদের নতুন সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি বছর রাজ্যে প্রায় ১০ থেকে ১১ লক্ষ পড়ুয়া মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষে। অর্থাৎ, দুই স্তরের পরীক্ষার্থীর সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। এই ব্যবধানের কারণ খতিয়ে দেখে পড়াশোনার মূল ধারার বাইরে চলে যাওয়া পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনার উপায় খুঁজতে চায় সংসদ।

মাধ্যমিকের পর কেন পড়াশোনা ছাড়ছে পড়ুয়ারা?

অসিত কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পৌঁছনোর আগেই বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর মতে, এর পিছনে আর্থসামাজিক কারণ থাকতে পারে। সেই কারণগুলি আগে বুঝতে হবে। তারপর কীভাবে ওই পড়ুয়াদের ফের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।

উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়াদের ঝরে পড়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন নতুন সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, শুধু পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোই নয়, কেন পড়ুয়ারা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পৌঁছতে পারছে না, তা বোঝাও প্রয়োজন। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি, সামাজিক বাস্তবতা কিংবা অন্য কোনও প্রতিবন্ধকতা এর সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখার উপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।

সেমেস্টার পদ্ধতি নিয়ে পর্যালোচনা

উচ্চমাধ্যমিক স্তরে চালু সেমেস্টার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও পর্যালোচনা করবে সংসদ। স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে এই পদ্ধতি কার্যকর করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে, সে সম্পর্কে মতামত সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন অসিত কুমার মণ্ডল।

এই পর্যালোচনার মাধ্যমে সেমেস্টার পদ্ধতির বাস্তব প্রয়োগে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করা হবে। তবে পর্যালোচনার পর সেমেস্টার ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

উচ্চশিক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার উপযোগী সিলেবাসে জোর

উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যক্রমকে পড়ুয়াদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেছেন নতুন সভাপতি। তাঁর মতে, উচ্চমাধ্যমিক হল উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই পাঠ্যক্রম এমনভাবে তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়ারাও উপকৃত হয়।

অসিত কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, স্কুলের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার কাজ সিলেবাস কমিটি করছে। এই প্রক্রিয়ায় পড়ুয়াদের প্রয়োজন এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়াদের ধরে রাখা, সেমেস্টার পদ্ধতির বাস্তব সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা এবং পাঠ্যক্রমকে আরও কার্যকর করে তোলাই নতুন সভাপতির সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সংসদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও পর্যালোচনার উপর নির্ভর করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *