ঘুর্ণিঝড় অর্ণব আছড়ে পড়ছে ইয়ানামের কাছে, একাধিক রাজ্যে সতর্কতা - 24 Ghanta Bangla News
Home

ঘুর্ণিঝড় অর্ণব আছড়ে পড়ছে ইয়ানামের কাছে, একাধিক রাজ্যে সতর্কতা

Spread the love

কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ (Cyclone Arnab) অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি জোরদার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন। ভারী বৃষ্টি,…

কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ (Cyclone Arnab) অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি জোরদার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন। ভারী বৃষ্টি, প্রবল ঝোড়ো হাওয়া এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ করা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ইয়ানামের কাছে স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করেছে এবং বুধবার ভোর ৪টের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এটিই প্রথম ঘূর্ণিঝড়। এর আগে পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, বুধবার সকাল নাগাদ বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায় স্থলভাগে প্রবেশের আগে ঝড়টি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। সেই সময় বাতাসের স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে জানানো হয়েছিল।

অন্ধ্রপ্রদেশে ১০ জেলায় স্কুল বন্ধ

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক জেলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যের ১০টি জেলায় স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিজয়ওয়াড়ায় ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত বিদেশি মেডিক্যাল স্নাতকদের ইন্টার্নশিপ বরাদ্দ সংক্রান্ত কাউন্সেলিং স্থগিত করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ মেডিক্যাল কাউন্সিল। আবহাওয়ার পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

ওড়িশায় ত্রাণ ও সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় ওড়িশাতেও প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, ত্রাণকাজের জন্য ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাছ ধরার কাজ ও ফেরি পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন রুটে কয়েকটি ট্রেন পরিষেবাও বাতিল করা হয়েছে।

বিশেষ সতর্কতা হিসেবে, ওড়িশায় প্রসবের শেষ পর্যায়ে থাকা প্রায় ৩,০০০ অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে হাসপাতাল অথবা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগের সময় তাঁদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।

দক্ষিণবঙ্গেও বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা

ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগের দিকে এগোলেও পশ্চিমবঙ্গে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে প্রবেশের পরেও আবহাওয়ার প্রভাব কিছু সময় ধরে চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। জেলা প্রশাসনগুলিকে সতর্ক থাকার, ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতির দিকে নজর প্রশাসনের

ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, বাতাসের গতি এবং বৃষ্টির পরিমাণের উপর নির্ভর করবে বিভিন্ন রাজ্যে পরিস্থিতির তীব্রতা। তাই উপকূলীয় ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা এবং সরকারি আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *