শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী পোর্টের ড্রেজিংয়ের জন্য ৪৩০ কোটির অনুমোদন দিল মোদী সরকার
কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকার কলকাতা বন্দরের জন্য এক (Port dredging)গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে। শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি পোর্ট অথরিটি বা এসএমপিএ-কে ড্রেজিংয়ের জন্য ৪৩০.৬৮ কোটি টাকা…
কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকার কলকাতা বন্দরের জন্য এক (Port dredging)গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে। শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি পোর্ট অথরিটি বা এসএমপিএ-কে ড্রেজিংয়ের জন্য ৪৩০.৬৮ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থ হুগলি নদীর নৌপরিবহন চ্যানেল রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহার করা হবে। কলকাতা ডক সিস্টেমের জন্য ২৩২ কিলোমিটার এবং হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের জন্য ১২৫ কিলোমিটার চ্যানেল নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। পলি জমার কারণে এই কাজ না করলে জাহাজ চলাচল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এই সহায়তা ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ড্রেজিং ব্যয়ের জন্য। মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্র ৪৩০.৬৮ কোটি টাকা দেবে এবং বাকি অংশ বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজে বহন করবে। অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগ সম্প্রতি এই অনুমোদন দিয়েছে।
কলকাতা বন্দর ভারতের একমাত্র নদীভিত্তিক প্রধান বন্দর। (Port dredging)এটি পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের মতো স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। হলদিয়ার শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোও এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। তাই চ্যানেল গভীর রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ঐতিহাসিকভাবে কেন্দ্র এই ড্রেজিংয়ের পুরো খরচ বহন করত। পরে তা কমে ৬১ শতাংশে নেমে আসে। এখন নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কেন্দ্রের অংশ আরও কমবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৫৮ শতাংশ এবং ২০৩০-৩১ সালে ৪০ শতাংশে নেমে আসবে। তারপর বন্দরকে সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল থেকে এই কাজ চালাতে হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে সহায়তা দেওয়ার শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে। (Port dredging)পিপিপি মডেলে কার্গো হ্যান্ডলিং, বার্থ মেকানাইজেশন, ট্রাফিক বৃদ্ধি এবং কর বাদে নিট উদ্বৃত্তের মতো লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। এই লক্ষ্যগুলো পূরণ হলেই কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়া যাবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে কিছু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।
এই সিদ্ধান্তকে বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র বন্দরকে আরও দক্ষ হতে উৎসাহিত করছে। খালি জমি ব্যবহার, অবৈধ দখলদারিত্ব দূর করা এবং জনবল ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পিপিপি সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে যাতে বন্দর নিজস্ব আয় বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ড্রেজিং ছাড়া কলকাতা বন্দরের কার্যকারিতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। পলি জমার সমস্যা প্রকৃতিগত এবং একে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তাই কেন্দ্রীয় সহায়তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ধীরে ধীরে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে বন্দরের জন্য ইতিবাচক।
এই অনুমোদনের ফলে আগামী কয়েক বছর চ্যানেল রক্ষণাবেক্ষণ নির্বিঘ্নে চলতে পারবে। জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত থাকবে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দিকে মনোযোগ দিতে পারবে যাতে ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত থাকে।