যোগী রাজ্যে লাভ জিহাদ! হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করায় দাদার হাতে খুন মুসলিম যুবতী
মথুরা: মথুরায় সামনে এসেছে এক ভয়ংকর ঘটনা। (honour killing)পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে এক যুবতীকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ অভিযোগ করেছে। নিহতের নাম নাজিয়া খাতুন।…
মথুরা: মথুরায় সামনে এসেছে এক ভয়ংকর ঘটনা। (honour killing)পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে এক যুবতীকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ অভিযোগ করেছে। নিহতের নাম নাজিয়া খাতুন। তাঁর ভাই মহম্মদ আকরমকে এই হত্যার মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাজিয়া এক হিন্দু যুবকের সঙ্গে বিয়ে করেছিলেন। সেই কারণেই পরিবারের কিছু সদস্য তাঁকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ।
নাজিয়া মথুরার বদ্রীনগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দিল্লিতে একটি কারখানায় কাজ করতেন তিনি। সেখানেই রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার রবীন্দ্র কুমারের সঙ্গে পরিচয় হয়। দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তাঁরা দিল্লিতে বিয়ে করেন। নাজিয়া ধর্ম পরিবর্তন করে এই বিয়ে সম্পন্ন করেন বলে জানা গেছে। বিয়ের পর তাঁরা দিল্লিতেই থাকতেন।
আরও দেখুনঃ সেনার ভুয়া ভিডিও পোস্ট বিতর্ক: কংগ্রেসের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি কিরেন রিজিজুর
কয়েক মাস পর নাজিয়ার পরিবার তাঁকে মথুরায় ফিরিয়ে আনার জন্য যোগাযোগ করে।(honour killing) তাঁরা আশ্বাস দেন যে বিয়ে মেনে নেওয়া হয়েছে এবং পরিবারে ফিরে আসতে পারবেন। সেই আশ্বাসে নাজিয়া বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু ফিরে আসার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
স্বামী রবীন্দ্র কুমার খোঁজখবর নিতে গিয়ে পরিবারের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাননি। পরে তিনি রাজস্থানে অভিযোগ করেন। সেখান থেকে জিরো এফআইআর হয়ে মামলা মথুরার গোবিন্দনগর থানায় স্থানান্তরিত হয়।
পুলিশ তদন্ত শুরু করার পর আকরমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রথমে তিনি বলেন, বোনের মৃত্যু হয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। কিন্তু পরে তিনি স্বীকার করেন যে তিনিই বোনকে হত্যা করেছেন এবং লাশ কবরস্থানে পুঁতে রেখেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে কবর থেকে লাশ তোলা হয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে গলা টিপে হত্যার প্রমাণ মেলে। পুলিশ আকরম সহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যান্য পরিবারের সদস্যদেরও তল্লাশি চলছে।
এই ঘটনা সম্মান রক্ষার নামে হত্যার আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। (honour killing)ভারতে আন্তঃধর্মীয় বিয়ের ক্ষেত্রে এখনও অনেক পরিবারে তীব্র বিরোধিতা দেখা যায়। নাজিয়ার মতো অনেক তরুণী-তরুণ নিজেদের পছন্দের মানুষকে বেছে নিতে গিয়ে পরিবারের রোষানলে পড়েন। এ ধরনের ঘটনা শুধু একজনের জীবন কেড়ে নেয় না, পুরো সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি খুন এবং প্রমাণ লোপাটের ধারায় দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, শুধু গ্রেফতার নয়, এ ধরনের মানসিকতা দূর করতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শিক্ষা, আইনি সুরক্ষা এবং পরিবারের মধ্যে সংলাপের অভাবই এমন ঘটনার মূল কারণ বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
নাজিয়ার স্বামী রবীন্দ্র কুমার এখনও শোকে বিহ্বল। (honour killing)তিনি পুলিশের কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছেন। মথুরার এই ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে নিন্দা জানিয়েছেন এবং আন্তঃধর্মীয় বিয়ের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছেন। আবার কেউ কেউ পরিবারের সম্মানের প্রশ্ন তুলেছেন। তবে আইন স্পষ্ট ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।