এগিয়ে আসছে ‘অর্ণব’, কতটা প্রস্তুত বাংলার উপকূল?

এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। উত্তাল হতে পারে সমুদ্র। সঙ্গে চলবে বৃষ্টি। রবিবার আবহাওয়া দপ্তরের শেষ খবরে জানানো হয়েছে, ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটোল এবং বিশাখাপত্তনমের মাঝে অর্ণব আছড়ে পড়তে পারে। সেই সময়ে ঘণ্টায় ৭০-৯০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে ওডিশা এবং বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার থাকবে বলে জানা গিয়েছে।এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন।

পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণি-সহ উপকূলবর্তী পর্যটন এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দফায় দফায় মাইকিং করে পর্যটক, উপকূল এলাকার বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের সাবধান করা হচ্ছে। ২৭ থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রে নামায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক করতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

দিঘাতে ইতিমধ্যেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির পাশপাশি দিঘা, তাজপুর ও মন্দারমণিতে পর্যটকদের সতর্ক থাকতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়লে কী কী করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা মিটিং করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুদ করা হয়েছে। নুলিয়া,সিভিক, উদ্ধারকারীদল সকলেই তৎপর রয়েছে।

এ ছাড়া আরও একটি উপকূলবর্তী জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও চলছে জোরকদমে প্রস্তুতি। সেখানে সাগর, ফ্রেজারগঞ্জ-সহ সুন্দরবনের সমস্ত উপকূলবর্তী অঞ্চলে শুরু হয়েছে মাইকিং।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের জেরে উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও গভীর নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার কোটালের জেরে নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নামখানা-সহ ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানা, গঙ্গাসাগর কোষ্টাল থানা, গোবর্ধনপুর কোষ্টাল থানার পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে মাইক প্রচার শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যাঁরা মাছ ধরতে গিয়েছেন, সকল মৎস্যজীবীদের নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সাগর ও নামখানা-সহ উপকূলীয় এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।

বহু জমিতে ধান প্রায় পেকে গিয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইলে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পেকে যাওয়া ধান গাছগুলিকে কেটে নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।